যুবশক্তি প্রকল্পে পোর্টাল কবে চালু?বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির দেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল শিক্ষিত বেকারদের আর্থিক সহায়তা। সরকার গঠনের পর একের পর এক নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ করার দাবি করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সেই তালিকায় রয়েছে যুবশক্তি ভরসা প্রকল্পও। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে দুর্গাপুজোর আগেই চালু হতে পারে ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পের অনলাইন পোর্টাল বলেই শোনা যাচ্ছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের কর্মহীন যুবক-যুবতীদের মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এদিকে অক্টোবর মাসের ৮ তারিখ হয়ে গেল। কিন্তু, এখনও জারি হয়নি কোনও বিজ্ঞপ্তি। সে কারণে সকলের মনে উঠেছে একটাই প্রশ্ন, অক্টোবর মাসে আদৌ মিলবে যুবশক্তির টাকা?
কবে শুরু হবে এই প্রকল্পের আওতায় আবেদন?
অক্টোবর মাস পড়তেই যুবশক্তি নিয়ে সকলের মনে প্রশ্ন জাগছে। কবে শুরু হবে এই প্রকল্পের আওতায় আবেদন? রাজ্যের শিক্ষিত বেকারদের জন্য ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার কথা রাজ্য বাজেটে ঘোষণা করেছিল সরকার। সেই সময় বলা হয়েছিল, অক্টোবর থেকেই এই প্রকল্প শুরু হয়ে যাবে। যুবসাথী নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, 'আমার যুবক ভাইরা আপনাদের জন্য আমরা আছি, ৩০০০ টাকা করে অক্টোবর মাস থেকে পাবেন গ্রাজুয়েট যুবকরা, আর যারা গ্রাজুয়েট নন তাঁরা ২০০০ টাকা করে পাবেন।' ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের জন্য পোর্টাল তৈরি হয়েছে। তবে আবেদন সংক্রান্ত কোনও আপডেট আপাতত নেই।
বাজেটে ঘোষণা
রাজ্যের শিক্ষিত বেকারদের জন্য যুবশক্তি প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার কথা রাজ্য বাজেটে ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সেই মতো অক্টোবর মাসে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার কথা। কিন্তু, এখনও চালু হয়নি আবেদন। একাধিক রিপোর্ট অনুসারে পুজোর আগেই চালু হতে পারে আবেদন। ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী রাজ্যের যে কোনও যোগ্য, শিক্ষিত ও কর্মহীন যুবক যুবতী এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তবে, ঠিক কবে থেকে আবেদন চালু হবে তা এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। জারি হয়নি কোনও বিজ্ঞপ্তি। শোনা যাচ্ছে, মহালয়ার পর পোর্টাল চালু হতে পারে। আবার অনেকে মনে করছেন, পুজোর পর চালু হবে পোর্টাল।
যুব শক্তি ভরসা কার্ড স্কিম কী?
এটি পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য চালু করা একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। নতুন এই প্রকল্পের অধীনে, যুবকদের দেওয়া মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রায় দ্বিগুণ করা হচ্ছে। এছাড়াও, কর্মজীবনের উন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন বা কর্মসংস্থানের প্রস্তুতিতে সহায়তা করার জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তা বা অনুদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এই প্রকল্পে। রাজ্য সরকারের দাবি, এটি যুবকদের চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করবে, যা তাদের কর্মজীবনে আরও ভাল ভাবে এগিয়ে যেতে সক্ষম করবে। রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেন, অক্টোবর মাস থেকে যুবশক্তি প্রকল্প শুরু হবে, যেখানে গ্রাজুয়েট বেকার যুবক-যুবতীরা সমস্ত মানদণ্ড পূরণ করলে প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবে। অন্যদিকে যারা গ্রাজুয়েট নন, তাঁরা পাবেন প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে ভাতা। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও জানিয়েছিলেন, অক্টোবর মাস থেকে এই প্রকল্পের ভাতা দেওয়া শুরু হবে।
এই প্রকল্পের আওতায় কত ভাতা মিলবে?
এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য যুবকেরা মাসিক ৩,০০০ টাকা ভাতা পাবেন। এই টাকার পরিমাণ পূর্ববর্তী সরকারের যুবশ্রী প্রকল্পের অধীনে প্রদত্ত মাসিক ১,৫০০ টাকা ভাতার দ্বিগুণ। সরকারের মতে, এটি বেকার যুবকদের চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেবে, যা তাদের পড়াশোনা, দক্ষতা উন্নয়ন বা কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি আরও ভাল ভাবে চালিয়ে যেতে সক্ষম করবে। রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের জন্য চারটি কঠোর যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। তরুণ আবেদনকারীদের অবশ্যই এই সমস্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। যদি কোনও আবেদনকারী এই মানদণ্ডগুলির কোনওটি পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তবে যাচাই-বাছাইয়ের সময় তাঁর আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই, আবেদন করার আগে যোগ্যতার সমস্ত শর্তাবলী মনোযোগ সহকারে বুঝে নেওয়া জরুরি।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত
রাজ্য সরকারের মতে, 'যুব শক্তি ভরসা কার্ড' প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে কিছু প্রয়োজনীয় যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে-
কী ভাবে প্রকল্পের টাকা মিলবে?
এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করার পরেই সুবিধাভোগীরা সরাসরি টাকা পাবেন না। প্রথমে, আপনাকে একটি অনলাইন আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। এরপর রাজ্য সরকার আপনার দেওয়া সমস্ত তথ্য এবং নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করবে। যাচাইকরণে যদি নিশ্চিত হয় যে আপনার সমস্ত তথ্য সঠিক এবং আপনি যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করছেন, তবেই সরকার মাসিক ৩,০০০ টাকার ভাতা সরাসরি আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেবে। এর মানে হল, সুবিধাভোগীদের কোনও সরকারি দফতরে যেতে বা নগদ টাকা নিতে যেতে হবে না। ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পূর্ণ টাকা সরাসরি আপনার আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
আবেদনকী কী ডকুমেন্ট লাগবে?
যেহেতু আবেদন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি এখনও তাই নথি বা ডকুমেন্ট নিয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানা যায়নি সরকারি সূত্রে। তবে অনুমান করা যাচ্ছে, যুবসাথী প্রকল্পের মতো এখানেও আধার কার্ড থেকে শুরু করে শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের প্রথম পাতার জেরক্স, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, এবং অন্যান্য কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দরকার পড়তে পারে।