
পথকুকুরদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য থেকে অবলাদের ইঞ্জেকশন দিয়ে মেরে ফেলা কিংবা তাদের মারধরের ঘটনা কিন্তু নতুন নয়। তবে এই অলোকা নামের পথকুকুরকে নিয়ে গত বেশ কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল। কলকাতা থেকে আমেরিকায় পাড়ি দিয়েছেন এই পথকুকুর, শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে।

নাম অলোকা, তার জন্ম কলকাতার রাস্তায়। কিন্তু তাঁর জীবনের উদ্দেশ্য একেবারেই অন্য।

১৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে কী করে জুড়ে গেল এই অবলা প্রাণীটি?

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং সমাজমাধ্যমের পেজে দাবি করা হয়েছে, কলকাতার রাস্তায় আর পাঁচটা পথকুকুরের মতোই ঘুরে বেড়াত সে।

কারও বাড়িতে আশ্রয় ছিল না। আস্তাকুঁড় থেকে খাবার খেত। কিন্তু হঠাৎই সব বদলে যায়। ভারতে ঘুরতে ঘুরতে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ওই দল কয়েক মাস আগে কুকুরটির সঙ্গ পান কলকাতার রাস্তায়।

১১২ দিনের পদযাত্রার মধ্যে কলকাতা থেকে তাঁদের সঙ্গে জুড়ে যায় অলোকা। গেরুয়া বসনধারীদের সঙ্গে সেই থেকে তার পথচলা

ঠান্ডা, গরম, রোদ-বৃষ্টি কোনও কিছুই আটকাতে পারেনি অলোকাকে। প্রথমে হয়তো বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ভেবেছিলেন যে কুকুরটি কিছুদূর গিয়ে ফিরে আসবে।

কিন্তু সেটা আর হয়নি। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে অলোকা হাঁটতে শুরু করে দেয় শান্তির উদ্দেশ্যে।

প্রথমে অবশ্য তার কোনও নাম ছিল না। ভিক্ষুকেরাই তার নাম দেয় অলোকা। শব্দটি পালি থেকে এসেছে, যার অর্থ আলো। ১১২ দিনে ভারত ভ্রমণ শেষ। এবার লক্ষ্য পশ্চিম। অলোকাকে আর ছাড়তে চাইলেন না ভিক্ষুকরা। পদব্রজে আমেরিকা সফরের সঙ্গী হল সে-ও।

অক্টোবরের ২৬ তারিখ টেক্সাস থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা আমেরিকার ১০ টি প্রদেশ ঘুরে ১৩ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে শেষ হয় এই যাত্রা। ২৩০০ মাইল হেঁটেছেন তাঁরা, সঙ্গে অলোকাও।

সারা রাস্তায় কখনও অলোকা হাঁটছে, কখনও বিশ্রাম নিচ্ছে। কখনও খেলে বেড়াচ্ছে। সমাজমাধ্যমে অলোকার ফলোয়ার্স সাড়ে তিন লাখের বেশি। সেখানে তার নানা ছবি, ভিডিয়ো পোস্ট করা হয় নিয়মিত। লাইক-কমেন্ট আসে হাজার হাজার। পথে-প্রান্তরে যেখানে মানুষ জেনেছে অলোকারা আসছে, সবাই ছুটে এসেছে। অলোকার যাতে অসুবিধা না হয় সেজন্য ভ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু তাতে সে কম চড়ে। সাধুদের সঙ্গে হেঁটে বেড়ায় বেশি।

এক ভিক্ষুকের কথায়, ‘অলোকার কপালে একটা সাদা চিহ্ন রয়েছে, তা শান্তির বার্তা বহন করে।’ ভিক্ষুকরা জানাচ্ছেন, অলোকা এখন তাঁদের পরিবারের সদস্য, সারাজীবনের সঙ্গী।