প্রতীকী ছবি (সৌজন্য: AI) অফিস যাওয়ার সময়ে জোড়া অ্যাপ বাইক বুকিং করেছিলেন তরুণী। দুয়ারে হাজির হন দুই রাইডারই। ক্যান্সেল করার কথা জানালেও এক রাইডার তা অস্বীকার করেন এবং ভিডিও করতে শুরু করেন। মেজাজ হারান তরুণী। গালাগাল দেন ওই রাইডারকে। ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। চাকরি খোয়ান তরুণী। কেসটা কী?
টাইমে অফিস না পৌঁছতে পারলে লেট মার্ক হওয়ার আতঙ্কে ভোগেন অধিকাংশ চাকুরিজীবীই। ইদানিং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে অ্যাপ বাইক বুক করেন অনেকেই। অফিস টাইমে, জ্যাম ঠেলে সময়ের মধ্যে পৌঁছতে ওই তরুণীও তাই অ্যাপ বাইক বুক করেছিলেন। তবে এতটাই তাড়া ছিল, ২টো অ্যাপ থেকে একইসঙ্গে বাইক বুক করেন তিনি। ভেবেছিলন, যে বাইক আগে আসবে সেটির বুকিং রেখে অপরটি ক্যান্সেল করে দেবেন।
কিন্তু দেখা যায় তাঁর বাড়ির সামনে ২টি অ্যাপ বাইক এসে হাজির। দু'জনেই জানান, তরুণী কারও বুকিংই ক্যান্সেল করেননি। আর তাতেই গন্ডোগোল।
একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, লোকেশনে পৌঁছনোর পরে কেন ওই তরুণী বুকিং ক্যান্সেল করছেন সেই নিয়ে প্রশ্ন করেন রাইডার। পাল্টা তাঁকে অত্যন্ত উদ্ধত ভাবে জবাব দেন কর্পোরেট সংস্থায় কর্মরত ওই তরুণী। তিনি স্পষ্ট জানান, অফিসে দেরি হচ্ছে, যে আগে পৌঁছে দিতে পারবেন, তাঁর সঙ্গেই যাবেন।
রাইডার জানতে চান, কেন তেল পুড়িয়ে আসার খেসারত দিতে হবে তাঁকে। মেজাজ হারান তরুণী, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন ওই রাইডারকে। 'তুই-তোকারি' করে রাইডারের দিকে উদ্দেশ করে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করেন। মারধরেরও হুমকি দেন।
এক মহিলাকে ভিডিওতে দেখা যায় ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করতে। তবে তিনিও ওই তরুণীকেই সমর্থন করেন। রাইডার ভিডিও করে এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যান।
এরপরই দেখা যায় ওই ভিডিও তরুণীর অজান্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তরুণীর ব্যবহারে সমালোচনার ঝড় ওঠে। একজন রাইডারের সঙ্গে শিক্ষিত তরুণীর এমন ব্যবহারে প্রতিবাদে সরব হয় নেটপাড়া। কেউ বলছেন, 'অ্যাপ বাইক চালিয়ে রোজগার করা শ্রমিকদের কি কোনও মূল্য নেই?' কারও বক্তব্য, 'কর্পোরেট সংস্থায় চাকরি করলে আর ভাল পোশাক পরলেই কি শিক্ষার পরিচয় মেলে?' কেউ আবার বলছেন, 'চরম ঔদ্ধত্য এবং অহঙ্কার সুস্থ রুচির পরিচয় বহন করে না।'
ভিডিওতে তরুণীর গলায় ঝোলানো আইডি কার্ডে জ্বলজ্বল করছিল তাঁর কর্মরত সংস্থার নাম। ফলে নেটিজেনদের রোষানলে পড়ে কলকাতার নামী রিয়েল এস্টেট কোম্পানিটিও। সংস্থার নাম নিয়ে নেটপাড়ায় টানাটানি শুরু হতেই কড়া পদক্ষেপ করে ওই সংস্থা। তরুণীর আচরণে ক্ষমা চেয়ে তাঁরা জানিয়েছে, এমন ব্যবহার সংস্থার আদর্শের পরিপন্থী। এমন আচরণকে তাঁরা সমর্থন করে না। তাই ওই তরুণীকে বরদাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তরুণী সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি ক্যান্সেল করার পরও রাইডার তাঁর লোকেশনে চলে আসেন। গালিগালাজ করা এবং মেজাজ হারানোর জন্য তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। তবে তাঁকে না জানিয়ে ভিডিও করে ভাইরাল করা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেন ওই রাইডার। পুলিশ ডেকে পাঠালে হাজিরাও দিতে হয় তরুণীকে। তাঁর সামনে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিলিটও করানো হয়। তবে ততক্ষণে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে ঘটনা।
অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাবে 'খাপ পঞ্চায়েত' বসার কারণেই তরুণী তাঁর চাকরি খোয়ালেন বলেও মত কারও কারও। রুজি-রুটি হারানো যে কোনও মানুষের জন্যই আকাশ ভেঙে পড়ার সমান। তা সে অ্যাপ ক্যাব চালক হোক কিংবা কর্পোরেট সংস্থায় কর্মরত কেউ। অ্যাপ বাইক নিয়েও বিস্তর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন অনেকে। অ্যাপে দেখানো টাকার চেয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা, লোকেশনে পৌঁছেও ক্যান্সেল করে দাওয়ার মতো সমস্যাগুলি নিয়ে নেটিজেরা তাঁদের ক্ষোভ উগরে দেন। তরুণীর আচরণ যেমন সমালোচিত হচ্ছে তেমনই নেটপাড়ার ট্রোলিং নিয়েও উঠছে প্রশ্নে।