সাপটির উপস্থিতি নজরে আসায় বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে।বাড়ির শৌচাগারের কমোডের ভিতরে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসেছিল বিষধর কালো গোখরো। রবিবার, ১ নভেম্বর রাত প্রায় ১০টা নাগাদ মহারাষ্ট্রের আকোলার সুধীর কলোনির এক বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। শৌচাগার ব্যবহার করতে গিয়ে কমোডের ভিতরে সাপটিকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাড়িতে। তবে সময় থাকতে সাপটির উপস্থিতি নজরে আসায় বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বন্যপ্রাণ দফতরের ওয়ার্ডেন বাল কালণে। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শুরু হয় সাপ উদ্ধারের কাজ। কমোডের ভিতরে থাকা বিষধর গোখরোকে বের করা মোটেই সহজ ছিল না। শেষ পর্যন্ত একটি প্লাস্টিকের পাইপের সাহায্য নেন তিনি। ধীরে ধীরে সাপটিকে বাইরে বের করে আনেন। গোটা অভিযানে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা হয়। ফলে কোনও দুর্ঘটনা ছাড়াই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয় গোখরোটিকে।
কমোডের ভিতরে সাপ ঢুকল কীভাবে?
এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, শৌচাগারের কমোডে কী ভাবে পৌঁছল গোখরো? বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির নিকাশি নালা, সার্ভিস পাইপ এবং খোলা পাইপের সংযোগস্থল দিয়ে সাপ ঢুকে পড়তে পারে। তাই এই ধরনের জায়গায় নিরাপত্তার জাল লাগানো জরুরি। নিয়মিত নিকাশি ব্যবস্থা ও পাইপের সংযোগ পরীক্ষা করাও প্রয়োজন।
খরার প্রভাব পড়ছে বন্যপ্রাণীদের উপর
বাল কালণের দাবি, সাধারণত নভেম্বর মাসে সাপের দেখা পাওয়ার ঘটনা কমে যায়। কিন্তু এ বছর এলাকায় খরা এবং জলের অভাবের কারণে সরীসৃপদের স্বাভাবিক বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুকিয়ে যাচ্ছে জলাশয়। ঠান্ডা ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবেও গোখরো, ঘোণস এবং অজগর লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।
গত দু'মাসে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় অজগর উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। সাধারণত জলাশয়ের কাছেই এদের বাস। কিন্তু প্রাকৃতিক জলাশয়ে জল কমে যাওয়ায় তারাও গ্রাম ও শহরের আশপাশে চলে আসছে।