বনগাঁ লোকালের সেই ভাইরাল খুদে যাত্রী মাথায় হেয়রব্যান্ড, বয়েজ কাট চুল। ছোট গোল গোল চোখ পাকিয়ে পাল্লা দিয়ে বড়দের সঙ্গে ঝগড়া করছে এক নাবালিকা। ট্রেনের দরজায় রড ধরে বিপজ্জনক ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এই খুদের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। কেউ বলছেন, 'বড় হয়ে রাজনৈতিক নেত্রী হবেন।' কারও কথায় আবার, 'এই বয়সে এত তেজ, এ তো বাঘিনী! পরে কী হবে?' ভাইরাল এই ভিডিওটির নেপথ্য কাহিনি জানেন? কে এই খুদে? কেন বা সে কোমর বেঁধে ঝগড়া করছিল ট্রেনে?
ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্য কাহিনি
লোকাল ট্রেনে সফররত যাত্রীদের প্রত্যেক দিনই হরেক রকমের অভিজ্ঞতা হয়। লোকাল ট্রেনে, বিশেষত মহিলা কামরায় ঝগড়াঝাঁটি, এমনকী মারপিটের খবরও প্রায় প্রকাশ্যে আসে। সামান্য কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি পর্যন্ত বেধে যায় লোকান ট্রেনের কামরায়। তেমনই একটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।
ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, লোকাল ট্রেনের দরজার সমনে রীতিমতো বিপজ্জনক ভাবে দাঁড়িয়ে ওই খুদে। সঙ্গে রয়েছেন তাঁর মা। দু'জনেই অপর কোনও এক যাত্রীর সঙ্গে তুমুল বচসা করছেন। মায়ের পাশাপাশি খুদেটিও অপর যাত্রীর সঙ্গে তর্ক করছে পাল্লা দিয়ে। তার আচরণে চটে গিয়ে চড় মারার কথা বলেন অন্য যাত্রীরা। তাতেই চোখ পাখিয়ে প্রায় তেড়ে যায় খুদে যাত্রী।
ভিডিওতে নাবালিকাকে বলতে শোনা গিয়েছে, 'আমাদের জুতো দিয়ে মারলে আমরাও মারব। একটা থাপ্পর মারব।' এরপরই মহিলা যাত্রীরা সটান চড় বসায় নাবালিকার গালে। চলন্ত ট্রেনেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে দু’পক্ষ। মেয়েকে থামানো তো দূর, দেখা যায় তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন মা! এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই কমেন্ট বক্সে নাবালিকাকে তুলোধোনা করেছেন সকলে। কেউ আবার ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, 'এখনই ঝগড়ায় PhD করে ফেলেছেন।'
ঠিক কী ঘটেছিল ওই ট্রেনে?
জানা গিয়েছে, ট্রেনটি ছিল বনগাঁ লোকাল। ওই খুদে দরজায় দাঁড়ানোর তার মাকে সচেতন করেছিলেন অন্যযাত্রীরা। সাবধান করতে গিয়ে ঘটে এই কেলেঙ্কারি।
পথিকৃত সাহা নামে এক ব্যক্তি ওই মেয়েটির গৃহশিক্ষক। তিনিই ঘটনার পর ভিডিও করেন খুদে ও তার মায়ের। জানা গিয়েছে, খুদের নাম নিশা। তার মা জানান, ঘটনার দিন বেলঘড়িয়া থেকে কল্যাণী সীমান্ত ধরে দমদমে নেমেছিলে তাঁরা। এরপর বিকেল ৪টে ৪ মিনিটের বনগাঁ লোকালে ওঠেন। সেখানেই নিশাকে গেটের কাছে বিপজ্জনক ভাবে দাঁড়াতে দেখে এক যাত্রী সাবধান করেন। নিশা বলেছিল সে ভিতরে যাবে না কারণ ওর অভ্যাস আসে। মা-ও মেয়ের সঙ্গ দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, ওর ২টো ট্রেন চড়ার অভ্যাস আছে, পড়েনি তো। সেই নিয়ে বাধে বচসা।
নিশার গৃহশিক্ষকের ফেসবুক ভিডিওতে সকলের কাছে নিজের খারাপ আচরণের জন্য নিশাকে ক্ষমা চাইতে দেখা গিয়েছে। তার মা-ও ভুল বুঝতে পেরে জানিয়েছেন, যিনি সাবধান করেছিলেন তিনি ভালর জন্যই করেছিলেন। গৃহশিক্ষকের অনুরোধ, শিশুটির ভবিষ্যতের কথা ভেবে এভাবে যেন আর ট্রোল না করা হয়।
নিশা ছোটবেলায় পড়ে গিয়ে একবার মাথায় চোটও পেয়েছিল বলে খবর। সেই থেকে তার মাথায় সমস্যাও দেখা দেয়। যদিও শিশু মঙ্গলে চিকিৎসা করানোর পর মাঝপথেই সচেতনতার অভাবে তা থামিয়ে দেয় নিশার পরিবার।