Bird Flu: একাধিক রাজ্যে শ'য়ে শ'য়ে কাকের মৃত্যু, বার্ড ফ্লু ফিরল?

চারদিকে ছড়িয়ে শ'য়ে শ'য়ে মরা কাক। না, কোনও হরর মুভির দৃশ্য নয়। বাস্তবেই এমন দৃশ্য দেখা গেল চেন্নাইতে। এর মাত্র দিন পাঁচেক আগেই একই ধরণের দৃশ্য দেখা গিয়েছিল বিহারেও।

Advertisement
একাধিক রাজ্যে শ'য়ে শ'য়ে কাকের মৃত্যু, বার্ড ফ্লু ফিরল? মাত্র দিন পাঁচেক আগেই একই ধরণের দৃশ্য দেখা গিয়েছিল বিহারেও।
হাইলাইটস
  • চারদিকে ছড়িয়ে শ'য়ে শ'য়ে মরা কাক।
  • স্তবেই এমন দৃশ্য দেখা গেল চেন্নাইতে।
  • শুরুতেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কড়া ব্যবস্থা নেওয়াতেই জোর দিচ্ছে প্রশাসন।

চারদিকে ছড়িয়ে শ'য়ে শ'য়ে মরা কাক। না, কোনও হরর মুভির দৃশ্য নয়। বাস্তবেই এমন দৃশ্য দেখা গেল চেন্নাইতে। এর মাত্র দিন পাঁচেক আগেই একই ধরণের দৃশ্য দেখা গিয়েছিল বিহারেও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মরা কাকের নমুনা পরীক্ষা করে তাতে বার্ড ফ্লু বা H5N1 ভাইরাস ধরা পড়েছে। এই বিষয়ে ওয়াকিবহাল কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনও। দ্রুত নজরদারি শুরু হয়েছে। চেন্নাইয়ের ঘটনার কয়েক দিনের আগেই বিহারের ভাগলপুরেও এই একই ধরনের দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বার্ড ফ্লু সংক্রমণ নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাখিদের মধ্যে সংক্রামক রোগ ছড়ানোর ঘটনাকে কখনওই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। কারণ, H5N1 ভাইরাস মূলত পাখিদের সংক্রমিত করলেও বিরল ক্ষেত্রে মানুষের শরীরেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই শুরুতেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কড়া ব্যবস্থা নেওয়াতেই জোর দিচ্ছে প্রশাসন।

চেন্নাইয়ে কী ঘটেছে?
সম্প্রতি চেন্নাই শহরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকশো কাক মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। আদয়ার অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষার পর সেখানে উচ্চমাত্রার প্যাথোজেনিক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা H5N1 ভাইরাসের উপস্থিতি কনফার্ম হয়েছে।

এর পরেই তামিলনাড়ু সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় পশুপালন মন্ত্রক পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে।

কেন্দ্রের মতে, এই সংক্রমণ পশু ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই 'ওয়ান হেলথ' পদ্ধতি অনুসরণ করে মানবস্বাস্থ্য, প্রাণীসম্পদ এবং বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত দফতরগুলিকে একযোগে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

H5N1 ভাইরাস কী?
H5N1 হল ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ ভাইরাসের একটি অত্যন্ত সংক্রামক রূপ, যা সাধারণত পোলট্রি ও বন্য পাখিদের মধ্যে দ্রুত ছড়ায়। সংক্রমিত পাখিদের মধ্যে মৃত্যুহারও বেশি।

মানুষের মধ্যে সংক্রমণ বিরল হলেও, অতীতে যে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গুরুতর শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার মতো সমস্যা দেখা গিয়েছে। 

ইতিমধ্যেই চেন্নাইয়ে মৃত কাক বা পোলট্রির দেহ স্পর্শ না করার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। কোনও মৃত পাখি দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
সংক্রমণ ছড়ানো রোধ করতে মৃত পাখির দেহ পুড়িয়ে ফেলা বা গভীরভাবে মাটিচাপা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের নজরদারি বাড়ানো, বনদফতরের দ্রুত রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু করা এবং নির্দিষ্ট পরীক্ষাগারে নমুনা পাঠানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

পোলট্রি ফার্মগুলিতেও কড়া বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাইরের লোকের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত জীবাণুমুক্তকরণ এবং কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিহারের ঘটনার পর 
গত ১ ফেব্রুয়ারি বিহারের ভাগলপুরে দেড়শোর বেশি কাকের মৃত্যুর পর বার্ড ফ্লুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। সেখানে প্রশাসন আক্রান্ত এলাকার ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে স্যানিটাইজ়েশন ও নজরদারি শুরু করে। পোলট্রি ফার্ম থেকেও নমুনা সংগ্রহ করা হয়। 

POST A COMMENT
Advertisement