মানুষের কপালে ছিল ‘তৃতীয় চোখ’! যুগান্তকারী দাবি বিজ্ঞানীদের

মানুষের কি সত্যিই ‘তৃতীয় চোখ’ আছে? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমনই এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, মানুষের মস্তিষ্কের গভীরে লুকিয়ে থাকা পিনিয়াল গ্রন্থিই আসলে প্রাচীন ‘তৃতীয় চোখ’-এর অবশেষ। যদিও এখন আর এটি দিয়ে দেখা যায় না, তবু ঘুম, দেহঘড়ি এবং হরমোন নিয়ন্ত্রণে এই অঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

Advertisement
মানুষের কপালে ছিল ‘তৃতীয় চোখ’! যুগান্তকারী দাবি বিজ্ঞানীদের
হাইলাইটস
  • মানুষের কি সত্যিই ‘তৃতীয় চোখ’ আছে? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমনই এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা।
  • তাঁদের দাবি, মানুষের মস্তিষ্কের গভীরে লুকিয়ে থাকা পিনিয়াল গ্রন্থিই আসলে প্রাচীন ‘তৃতীয় চোখ’-এর অবশেষ।

মানুষের কি সত্যিই ‘তৃতীয় চোখ’ আছে? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমনই এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, মানুষের মস্তিষ্কের গভীরে লুকিয়ে থাকা পিনিয়াল গ্রন্থিই আসলে প্রাচীন ‘তৃতীয় চোখ’-এর অবশেষ। যদিও এখন আর এটি দিয়ে দেখা যায় না, তবু ঘুম, দেহঘড়ি এবং হরমোন নিয়ন্ত্রণে এই অঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সম্প্রতি বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা কারেন্ট বায়োলজি-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় ও লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, লক্ষ লক্ষ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষদের মাথার মাঝখানে একটি বিশেষ আলোক-সংবেদনশীল চোখ ছিল। সময়ের সঙ্গে বিবর্তনের ফলে সেটিই ধীরে ধীরে পিনিয়াল গ্রন্থিতে পরিণত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, প্রায় ৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর প্রাচীন সামুদ্রিক প্রাণীরা অন্ধকার ও কর্দমাক্ত সমুদ্রে বাস করত। সেই পরিবেশে দুই পাশের চোখ ধীরে ধীরে কার্যকারিতা হারাতে শুরু করে। কিন্তু মাথার মাঝখানে থাকা একটি বিশেষ আলোক-সংবেদনশীল অংশ তাদের দিন-রাতের পার্থক্য বুঝতে এবং দিক নির্ণয় করতে সাহায্য করত। বিজ্ঞানীরা এই কাঠামোকেই “প্রাচীন মধ্যবর্তী চোখ” বলে উল্লেখ করেছেন।

পরবর্তীকালে, প্রাণীরা যখন সুড়ঙ্গ বা গভীর অন্ধকার পরিবেশে বসবাস শুরু করে, তখন পাশের চোখগুলো প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়। কিন্তু মাঝের সেই আলোক-সংবেদনশীল অংশটি টিকে থাকে। গবেষকদের দাবি, সময়ের সঙ্গে সেই অংশের একাংশ দুই পাশে সরে গিয়ে বর্তমান রেটিনায় পরিণত হয় এবং মাঝের অংশটি রূপ নেয় পিনিয়াল গ্রন্থিতে।

বর্তমানে পিনিয়াল গ্রন্থি মানুষের মস্তিষ্কের মাঝখানে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র অঙ্গ। এটি সরাসরি আলো দেখতে না পারলেও, চোখ থেকে পাওয়া আলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে শরীরের জৈবিক ঘড়ি নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্রন্থি থেকেই নিঃসৃত হয় মেলাটোনিন হরমোন, যা শরীরকে ঘুমানোর সংকেত দেয়। রাত বাড়লে মেলাটোনিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং দিনে তা কমে যায়।

শুধু ঘুম নয়, এই হরমোন শরীরের মেজাজ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রজনন ব্যবস্থার সঙ্গেও জড়িত। বিজ্ঞানীদের মতে, ঘুমের সমস্যা, বিষণ্ণতা কিংবা হরমোনজনিত অসুস্থতার সঙ্গেও পিনিয়াল গ্রন্থির সম্পর্ক থাকতে পারে।

Advertisement

গবেষক অধ্যাপক টম বেডেন জানিয়েছেন, চোখের আগেই সম্ভবত রেটিনার মতো আলোক-সংবেদনশীল অংশের বিবর্তন ঘটেছিল। কারণ গভীর জলে টিকে থাকার জন্য দিন-রাতের পার্থক্য বোঝা তখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আজও পৃথিবীর কিছু প্রাণীর শরীরে এই ‘তৃতীয় চোখ’-এর অস্তিত্ব দেখা যায়। নিউজিল্যান্ডের বিরল সরীসৃপ টুয়াটারার মাথায় একটি বিশেষ আলোক-সংবেদনশীল চোখ রয়েছে। যদিও তা দিয়ে পরিষ্কার দেখা যায় না, তবু আলো-অন্ধকার বুঝতে এটি সাহায্য করে।

পিনিয়াল গ্রন্থিকে ঘিরে আধ্যাত্মিক বিশ্বাসও বহু পুরোনো। হিন্দু ও যোগশাস্ত্রে একে ‘আজ্ঞা চক্র’ বা ‘তৃতীয় নয়ন’ বলা হয়। ধ্যান ও যোগচর্চায় এই চক্র জাগ্রত হলে অন্তর্দৃষ্টি ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। যদিও বিজ্ঞান এখনও সেই দাবির প্রমাণ পায়নি, তবু পিনিয়াল গ্রন্থির জৈবিক গুরুত্ব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।

এই গবেষণা আরও একবার মনে করিয়ে দিল, বিবর্তনের ইতিহাস কখনও পুরোপুরি মুছে যায় না। আমাদের শরীরের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে কোটি কোটি বছরের সেই প্রাচীন কাহিনি। মানুষের মস্তিষ্কে থাকা পিনিয়াল গ্রন্থিও যেন সেই হারিয়ে যাওয়া ‘তৃতীয় চোখ’-এর নীরব স্মৃতি।

 

POST A COMMENT
Advertisement