রেস্তোরাঁর বিল নিয়ে ছোট্ট ভুল বোঝাবুঝি থেকে শুরু হয়ে পরিস্থিতি গড়ায় বচসায়।Indian tourist racism Thailand: থাইল্যান্ডে বেড়াতে গিয়ে বর্ণবিদ্বেষের শিকার হলেন এক ভারতীয় পর্যটক। রেস্তোরাঁর বিল নিয়ে ছোট্ট ভুল বোঝাবুঝি থেকে শুরু হয়ে পরিস্থিতি গড়ায় বচসায়। অভিযোগ, সেই সময় রেস্তোরাঁর এক কর্মী 'India very bad' মন্তব্য করেন। ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে থাইল্যান্ডের ক্রাবির আও নাং এলাকায়। ট্র্যাভেল ভ্লগার সুমো (Sumo) ইনস্টাগ্রামে এই ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, থাইল্যান্ডের রেস্তোরাঁর এক কর্মী উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করছেন। পরিস্থিতি তখন বেশ তপ্ত। সেই সময়ই শোনা যায় বিতর্কিত মন্তব্য। এরপরই বিষয়টি সামাল দিতে পুলিশ ডাকেন ভ্লগার।
ভিডিওতে সুমো বলেন, 'সমস্যা মেটাতে আমাদের পুলিশ ডাকতে হয়েছে। থাইল্যান্ডে এই প্রথম এমন অভিজ্ঞতা হল।' তিনি আরও জানান, অনেক সময় মানুষ ভাবেন, পর্যটকের ভুল থাকলেই এমন ঘটনা ঘটে। তবে এই ক্ষেত্রে তা নয় বলেই দাবি তাঁর।
পরে আরও একটি ভিডিও পোস্ট করে পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দেন সুমো। তিনি জানান, ব্রেকফাস্টের সময় বিল নিয়ে সামান্য বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। ভাষাগত সমস্যার কারণে অন্য এক কর্মীকে ডাকা হয়। সেখান থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
সুমোর দাবি, তিনি ভারতীয় জানার পরই আচরণ বদলে যায়। তিনি বলেন, 'আমি বললাম আমি ভারত থেকে এসেছি। তখনই অভিযোগ শুরু হয়, ভারতীয়রা নাকি টাকা দিতে চায় না।' অথচ বিল ছিল মাত্র ১২০ বাহত। অর্থাৎ টাকার অঙ্ক খুবই কম ছিল।
তিনি বলেন, 'এটা টাকার বিষয় নয়। তাই তর্ক না করে পুলিশকে ডেকেছি।' পরে পুলিশ এসে বিষয়টি মিটিয়ে দেয় এবং রেস্তোরাঁর ম্যানেজার ক্ষমাও চান বলে জানান।
ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কেউ সুমোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ঘটনার অন্য দিকও থাকতে পারে কি না। তবে অনেকেই একমত, কোনওভাবেই একটি গোটা দেশের মানুষকে একসঙ্গে দোষ দেওয়া উচিত নয়।
সুমো নিজেও বলেন, 'কাউকে জেনারেলাইজ করা ঠিক নয়। ভারতে এমন ঘটনা দেখেছি, তাই বলে কোথাও এটা গ্রহণযোগ্য নয়।' তিনি আরও অনুরোধ করেন, কেউ যদি বর্ণবিদ্বেষের শিকার হন, তাহলে চুপ না থেকে প্রতিবাদ করতে।