Dancing Girl: 'ড্যান্সিং গার্ল'-এর শরীর ঢাকতেই বিতর্কে NCERT! ফিরছে আসল মূর্তি

নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে সিন্ধু সভ্যতার ‘ড্যান্সিং গার্ল’ মূর্তির 'ঢাকা' ছবি প্রকাশ ঘিরে বিতর্কের পর ইউ-টার্ন নিল NCERT। ইতিহাসবিদদের আপত্তির জেরে ডিজিটাল ও ভবিষ্যতের মুদ্রিত সংস্করণে ফের আসল ছবিই প্রকাশ করা হবে।

Advertisement
'ড্যান্সিং গার্ল'-এর শরীর ঢাকতেই বিতর্কে NCERT! ফিরছে আসল মূর্তি ‘ড্যান্সিং গার্ল’ মূর্তির 'ঢাকা' ছবি প্রকাশ ঘিরে বিতর্কের পর ইউ-টার্ন নিল NCERT।
হাইলাইটস
  • সিন্ধু সভ্যতার বিখ্যাত ‘ড্যান্সিং গার্ল’ মূর্তি মনে আছে?
  • সম্প্রতি 'কাপড়' পরিয়ে ছেপেছিল NCERT।
  • নতুন পাঠ্যবইয়ে প্রকাশিত পরিবর্তিত ছবির বদলে ভবিষ্যতে মূর্তির আসল ছবিই ব্যবহার করা হবে।

সিন্ধু সভ্যতার বিখ্যাত ‘ড্যান্সিং গার্ল’ মূর্তি মনে আছে? ছোটবেলায় প্রায় সকলেই এই বিখ্যাত মূর্তির ছবি দেখেছেন। সেই মূর্তিতেই সম্প্রতি 'কাপড়' পরিয়ে ছেপেছিল NCERT। তবে ইতিহাসবিদদের আপত্তির পর শেষ পর্যন্ত পিছু হঠল জাতীয় শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিষদ। জানানো হয়েছে, নবম শ্রেণির নতুন পাঠ্যবইয়ে প্রকাশিত পরিবর্তিত ছবির বদলে ভবিষ্যতে মূর্তির আসল ছবিই ব্যবহার করা হবে।

সম্প্রতি NCERT-এর নবম শ্রেণির নতুন পাঠ্যবই মধুরিমা-য় সিন্ধু সভ্যতার ঐতিহাসিক ‘ড্যান্সিং গার্ল’ মূর্তির একটি পরিবর্তিত ছবি প্রকাশিত হয়। অভিযোগ ওঠে, মূল ব্রোঞ্জের মূর্তির ছবিতে যেখানে শরীরের গঠন স্পষ্ট দেখা যায়, সেখানে নতুন সংস্করণে শেডিং ও রঙের ব্যবহার করে কিছু অংশ আড়াল করা হয়েছে। ফলে মূর্তির প্রকৃত রূপ বিকৃত হয়েছে বলে দাবি করেন ইতিহাসবিদ ও শিক্ষাবিদদের একাংশ।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় বইয়ের প্রথম অধ্যায় ‘হিস্ট্রি অফ আর্টস’-এ প্রকাশিত ছবিকে কেন্দ্র করে। গবেষকদের মতে, পাঠ্যবইয়ের ছবির সঙ্গে মোহেনজোদড়ো থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় সাড়ে চার হাজার বছরের পুরনো মূর্তিটির মূল ছবির স্পষ্ট ফারাক রয়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, NCERT-এর ষষ্ঠ শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ে একই মূর্তির ছবি প্রায় মূল রূপেই প্রকাশিত হয়েছিল।

বিতর্ক বাড়তেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন NCERT-এর ডিরেক্টর দিনেশ প্রসাদ সকলানি। তিনি জানান, অভিযোগ সামনে আসার পরই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, পরিবর্তিত ছবির পরিবর্তে মূর্তির মূল ছবিই পাঠ্যবইয়ে ব্যবহার করা হবে।

NCERT সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে ডিজিটাল সংস্করণে সংশোধন আনা হবে। পরে নতুন করে মুদ্রিত সংস্করণেও ‘ড্যান্সিং গার্ল’-এর আসল ছবিই প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।

সিন্ধু সভ্যতার অন্যতম পরিচিত শিল্পকর্ম এই ‘ড্যান্সিং গার্ল’। প্রায় ১০.৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার ব্রোঞ্জের মূর্তিটিতে এক তরুণীকে এক হাত কোমরে রেখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর গলায় হার এবং হাতে একাধিক চুড়ির উপস্থিতিও লক্ষণীয়। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, সেই সময়ের শিল্প ও ধাতুশিল্পের উৎকর্ষের অন্যতম নিদর্শন এই মূর্তি।

Advertisement

পাঠ্যবইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘লস্ট ওয়াক্স টেকনিক’ বা মোম-ঢালাই পদ্ধতিতে তৈরি হয়েছিল এই শিল্পকর্ম। এখনও পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ছত্তীসগঢ়ের কিছু এলাকায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা যায়।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ইতিহাসবিদ ও শিক্ষাবিদ মিশেল ড্যানিনোও। NCERT-এর নতুন ষষ্ঠ শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বই তৈরির সঙ্গে যুক্ত কমিটির প্রধান ছিলেন তিনি। ড্যানিনোর বক্তব্য, আগে তাঁকে জানানো হয়েছিল যে ছোট পড়ুয়াদের জন্য মূর্তির মূল ছবি নাকি উপযুক্ত নয় বলে মনে করা হয়েছিল। তবে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার পর সেই যুক্তি গ্রহণ করা হয়নি। কারণ, শ্রেণিকক্ষে ওই ছবি নিয়ে কখনও কোনও সমস্যার কথা সামনে আসেনি।

নবম শ্রেণির বইয়ে পরিবর্তিত ছবি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন ড্যানিনো। তাঁর মতে, ভারতীয় শিল্পকলার ইতিহাস শেখানোর সময় কোনও ঐতিহাসিক শিল্পকর্মের মূল রূপ বদলে দেওয়া উচিত নয়। এতে শিক্ষার্থীদের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছতে পারে এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনের প্রকৃত পরিচয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কোনও প্রত্নবস্তু ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশেষজ্ঞরা তার পুনর্গঠন করতে পারেন। কিন্তু স্পষ্ট কারণ ছাড়া কোনও শিল্পকর্মের মূল রূপ পরিবর্তন করা শিক্ষার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। 

POST A COMMENT
Advertisement