এই সেই শিল্পীর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন আনন্দ মহিন্দ্রা দশকের পর দশক ধরে হাতে বেহালা নিয়ে কলকাতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে সুর তুলেছেন ভগবান মল্লিক। কারও প্রশংসা পাওয়ার জন্য নয়, পেট চালানোর তাগিদে। এবার ৮০ বছর বয়সী সেই পথশিল্পী এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। শিল্পপতি আনন্দ মহিন্দ্রাও আপ্লুত সেই ভিডিও দেখে। তিনি নিজেই ভগবান মল্লিকের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
ভগবান মল্লিকের জীবনসংগ্রাম নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেই ভিডিও দেখেই তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন আনন্দ মাহিন্দ্রা।
এক্সে ভিডিওটি শেয়ার করে মাহিন্দ্রা লেখেন, 'আমি তাঁর জন্য কিছু সাহায্য করতে চাই। আমার বিশ্বাস, আরও অনেক মানুষ তাঁর আবেগ ও নিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত হবেন।'
মাহিন্দ্রার পোস্টের পর বহু ব্যবহারকারী ভগবান মল্লিকের যোগাযোগের তথ্য শেয়ার করেন। ফলে তাঁর পরিস্থিতি আরও বেশি মানুষের নজরে আসে। প্রথমবার ভগবান মল্লিকের গল্প সামনে আনেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরাধনা চ্যাটার্জি। গত মে মাসে তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করে এই প্রবীণ শিল্পীর জীবনের কথা তুলে ধরেছিলেন।
ভিডিওতে আরাধনা জানান, ছোটবেলাতেই বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন ভগবান মল্লিক। তাঁর বাবার কাছ থেকেই বেহালা বাজানো শিখেছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর সঙ্গীত শুধু তাঁর ভালোবাসার বিষয় ছিল না, বরং জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায় হয়ে ওঠে।
শৈশব থেকেই রাস্তায় বেহালা বাজিয়ে যা আয় হত, তা দিয়েই খাবারের ব্যবস্থা করতেন তিনি। আজও, ৮০ বছর বয়সে, দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসা সত্ত্বেও এবং প্রায় ভেঙে পড়া পুরনো বেহালা নিয়েই প্রতিদিন বাজিয়ে চলেছেন ভগবান মল্লিক।
দিনে তাঁর আয় হয় মাত্র প্রায় ১০০ টাকা। স্ত্রীকে নিয়ে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন। অনেক সময় তাঁর স্ত্রীও পাশে বসে থাকেন। আরাধনা তাঁর পোস্টে লিখেছিলেন, বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে সাধারণত নিউ টাউন বাসস্ট্যান্ড, ডিএলএফ সাবওয়ে এবং নিউ টাউন আর্ট স্ট্রিট এলাকায় দেখা যায় ভগবান মল্লিককে।
তিনি আরও আবেদন করেছিলেন, 'কোনও ক্যাফে, অনুষ্ঠান, সামাজিক জমায়েত বা অন্য কোনও জায়গা যদি তাঁকে সাময়িকভাবে হলেও পারফর্ম করার সুযোগ দেয়, তাহলে তা তাঁর জন্য খুবই সহায়ক হবে।'
১ জুন একটি আপডেট পোস্টে আরাধনা জানান, তিনি ভগবান মল্লিককে একটি নতুন বেহালা উপহার দিয়েছেন এবং তাঁর জন্য ১ লক্ষ টাকা তহবিলও সংগ্রহ করতে পেরেছেন।