ঘুমের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।Wakefit Sleep Internship: একটানা নিশ্চিন্ত ঘুম। এর জন্য কোনও খরচ লাগে না। নরম বিছানা আর একটু ঠাণ্ডা, নিস্তব্ধ ঘর হলেই যথেষ্ট। কিন্তু এটুকুই আজকাল অনেকের কাছে বিলাসিতা। একটানা ৮-৯ ঘণ্টা ধরে রোজ ঘুমানো কিন্তু সত্যিই কঠিন। আর সেই কঠিন কাজ করেই ৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জিতে নিলেন জিনিয়া। শুনতে অবাক লাগছে? আসলে এমনই ঘটনা ঘটেছে ওয়েকফিটের ‘স্লিপ ইন্টার্নশিপ’ প্রতিযোগিতায়। একটানা ঘুমিয়ে বাজিমাত করলেন মুম্বইয়ের জিনিয়া চট্টোপাধ্যায়। টানা ৬০ দিনের এই এক্সপেরিমেন্টে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১০ জন অংশ নিয়েছিলেন। ঘুমের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
ইন্টার্নশিপের লক্ষ্য কী ছিল?
প্রতিযোগিতার জন্য দু’লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে বেছে নেওয়া হয় ১০ জনকে। তাঁদের কাজ ছিল নিয়ম মেনে পর্যাপ্ত ঘুমোনো, ঘুমের সময় ও অভ্যাসের হিসাব রাখা এবং প্রতি সপ্তাহের চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়া। ৬০ দিন ধরে প্রত্যেকের ঘুমের স্কোর নথিভুক্ত করা হয়। সেই স্কোরের ভিত্তিতেই তৈরি হত লিডারবোর্ড। অর্থাৎ, শুধু কত ক্ষণ ঘুমোলেন তা নয়, ঘুমের নিয়মিত অভ্যাস বজায় রাখাও ছিল প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে শুধু বিছানায় শুয়ে থাকলেই চলবে না। প্রতিযোগীদের ক্রিয়েটিভ পরীক্ষাও দিতে হয়েছে। 'স্লিপ সিনেমা' কম্পিটিশনে জনপ্রিয় ছবির দৃশ্য ঘুমের সঙ্গে মিলিয়ে অভিনয় করতে হত। ‘স্লিপ বিঙ্গো’-তে নিজের ঘুমের অভ্যাস খতিয়ে দেখতে হত। আবার ‘আন্ডারকভার স্লিপ মিশন’-এ কথার মধ্যে কাউকে বুঝতে না দিয়ে ‘ব্ল্যাঙ্কেট’ বা ‘পিলো’ শব্দ ১০ বার ব্যবহার করার চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রতিটিই বেশ মজার মজার খেলা।
ফাইনালে কী হল?
শেষ পর্বে প্রথম তিনে ছিলেন রত্নগিরির মানিকন্দন, জিনিয়া এবং মেহেক খোট। ওয়াইল্ডকার্ডে ফেরেন হায়দরাবাদের করিম খান। চার জনকে নিয়ে হয় ‘বিগ বেড’ ফাইনাল। সেখানে ‘মেমরি ফোম চ্যালেঞ্জ’-এ ছবি দেখে শোওয়ার ঘর সাজাতে হয়। ‘স্লিপ অকশন’-এ বালিশ, কম্বল, আলো, শব্দ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের মতো উপকরণ বেছে নিতে হয়। শেষে এক রাতের ঘুমের স্কোরও বিচার করা হয়।
সব হিসাবের শেষে জিনিয়ার ঝুলিতেই ওঠে ৯.৬ লক্ষ টাকা এবং স্পনসর করা ছুটির প্যাকেজ। এই প্রতিযোগিতায় ঘুমের পাশাপাশি স্মৃতি, পর্যবেক্ষণ, সৃজনশীলতা ও দলগত কাজের দক্ষতাও যাচাই করা হয়েছে।
২০১৯ সাল থেকেই এই প্রতিযোগিতা চলছে। এখনও পর্যন্ত এই কম্পিটিশনে ৬৫ জন ইন্টার্ন এক লক্ষ টাকা করে বৃত্তি পেয়েছেন।