পূজারিণী প্রধানসোশ্যাল মিডিয়া খুললেই চাকচিক্যের হাতছানি। সাজানো ঘরবাড়ি, ব্র্যান্ডেড জামা কাপড়, মাথা থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত পরিপাটিভাবে নিজেদের সাজিয়ে রাখা। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের অধিকাংশই সোশ্যাল মিডিয়ায় এভাবেই ধরা দেন। তাঁদের জীবনযাপনই সকলের নজর কাড়ে। এই চাকচিক্যের মাঝেই সরল সাধারণ পোশাকে ধরা দেন গ্রাম্য বধূ পূজারিণী প্রধান। জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর। গড়গড় করে ইংলিশ বলায় তাঁর জনপ্রিয়তা। গ্রাম্য পরিবেশে শাড়ি পরা, মাথায় খোপা, ঘোমটা দেওয়া, শাখা পলা বধূই এখন ভাইরাল।
lifeofpujaa নামে একটি ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইল চালান পূজারিণী। গ্রাম্য জীবন ও ইংরেজিতে তাঁর তীক্ষ্ণ মন্তব্যের মিশ্রণে করা কনটেন্ট হু হু করে শেয়ার হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। দ্রুত জনপ্রিয়তা পান তিনি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তিও করেন। তবে তাঁকে নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। বিতর্কের মুখেও পড়তে হয়েছে।
অনলাইনে অনেকের কাছেই, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পূজারিনী প্রধান সম্প্রতি একটি ঘোষণা করেন। গ্রাম বাংলায় থাকা পূজারিনী সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি ইংরেজিতে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছেন। চার বছর আগে তাঁর অসমাপ্ত ডিগ্রির কথাই তিনি প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই ঘোষণার পর অনলাইনে অভিনন্দন বার্তার ঢল।
ইনস্টাগ্রামে খবরটি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “চার বছর আগে অসমাপ্ত রাখা ডিগ্রি, ইংরেজিতে মাস্টার্স-এ এইমাত্র ভর্তি হলাম। আমাকে জিজ্ঞেস করবেন না আমি কীভাবে সবকিছু সামলাব। আমার কাছে সব উত্তর নেই। আমি শুধু জানি যে আমাকে সবকিছু একাই করতে হবে।”
এই সুযোগটিকে একটি দ্বিতীয় সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে পূজারিনী আরও বলেন, চেষ্টা করলে কী হতে পারত, তা ভেবে তিনি বাকি জীবনটা কাটাতে চান না।
পোস্টটি দ্রুত এক্স-এ পৌঁছে যায়, যেখানে ব্যবহারকারীরা এই খবরে আনন্দিত হন। অনেকে এই অর্জনকে একটি “ব্যক্তিগত জয়” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবার অন্যরা বলেছেন, একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ক্রমবর্ধমান সাফল্য সত্ত্বেও পড়াশোনায় ফিরে আসায় তারা তার জন্য আন্তরিকভাবে গর্বিত।
বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী তার দৃঢ়সংকল্পের প্রশংসা করে উল্লেখ করেছেন, তার এই সিদ্ধান্তটি মনে করিয়ে দেয় যে শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্যের কোনও মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থাকে না।
এই বিপুল সাড়া পূজারিনী তাঁর দর্শকদের সঙ্গে গড়ে তোলা অনন্য সম্পর্কেরই প্রতিফলন। ইনস্টাগ্রামে ৫.৭ লক্ষেরও বেশি ফলোয়ার নিয়ে, সাধারণ জীবনের সৌন্দর্যকে তুলে ধরা ভিডিওর মাধ্যমে তিনি অনেকের কাছেই এক পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
পূর্ব মেদিনীপুরের গ্রামাঞ্চলে তাঁর নিজের বাড়িতে বসে এই ভিডিওগুলি তিনি তৈরি করেন। ভিডিওর কনটেন্ট মূলত সাধারণ কিছু দৈনন্দিন কাজকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। যেমন বই পড়া, রান্না করা, পড়াশোনা করা এবং প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাবা। জমকালো সম্পাদনা বা নাটকীয় বর্ণনা ছাড়াই, তাঁর শান্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত গল্প বলার ভঙ্গি তাঁকে একনিষ্ঠ ফলোয়ার এনে দিয়েছে।
অনলাইন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার কয়েক সপ্তাহ পরেই পূজারিনীর প্রতি এই সমর্থন আসে। সমালোচকরা অভিযোগ করেছিলেন যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার দ্রুত উত্থান একজন “ইন্ডাস্ট্রি প্ল্যান্ট” হওয়ার ফল। একটি ভাইরাল ভিডিওতে এই দাবিগুলোর জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদিও তিনি একটি এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত, সেটি শুধুমাত্র ব্র্যান্ড কোলাবোরেশন পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এটি তার দর্শকদের কাছে গোপন রাখা হয়নি। খুশি তাঁর অনুরাগীরাও।