মেট্রোয় How to Kill men পড়ছেন মহিলা যাত্রীকখনও স্বামী, কখনও বাগদত্তাকে খুন, দেশে একের পর এক খুনের ঘটনায় ত্রস্ত পুরুষেরা। সোনম রঘুবংশী, সিয়া গোয়েল, মুসকান রাজপুতদের ভয়াবহ খুনের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে ঠান্ডা মাথায় এই ধরনের খুনের ঘটনাগুলি। এরই মধ্যে এক মহিলা মেট্রোযাত্রীর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে ওই মহিলাকে দেখা যায় 'How to Kill a man' বইটি পড়তে। কমেন্ট বক্সে ঝড় ওঠে 'এবার কার পালা?'
বইটির শিরোনাম অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভিডিওটি দ্রুত ইন্টারনেটে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। ভিডিওতে দেখা যায় শান্তভাবে বসে মহিলাকে বইটি পড়তে। বইয়ের প্রচ্ছদের শিরোনামটি অনেককে অবাক করেছে। এরপরে, অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন।
কিছু লোক এটিকে রসিকতা হিসেবে নিয়েছে। আবার অনেকে এটিকে সাম্প্রতিক সিয়া মামলার সঙ্গে যুক্ত করে হইচই ফেলে দিয়েছে। ভিডিওটি ১৯০ লক্ষ বার দেখা হয়েছে। এতে ৪ লক্ষ লাইক পড়েছে। অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী উল্লেখ করেছেন পাঠকদের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য প্রায়শই এই ধরনের উস্কানিমূলক শিরোনাম ব্যবহার করা হয়।
এই মুহূর্তে, এই ভাইরাল ভিডিওটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, এবং এটি কখন বা কোন শহরের মেট্রো স্টেশন থেকে ধারণ করা হয়েছে, তাও প্রকাশ করা হয়নি। সুতরাং, ভিডিওটিকে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনা বা বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত করা সমীচীন হবে না।
বইটি কবে প্রকাশিত হয়েছিল?
'হাউ টু কিল মেন অ্যান্ড গেট অ্যাওয়ে উইথ ইট' হলো কেটি ব্রেন্ট রচিত একটি ডার্ক কমেডি এবং সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। এর সাহসী শিরোনাম এবং সাসপেন্সপূর্ণ গল্পের জন্য বইটি বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করে। এটি একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, ডার্ক কমেডি, ক্রাইম ফিকশন এবং স্যাটায়ার।
গল্পটি কী নিয়ে?
এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কিটি কলিন্স নামের এক তরুণী। বাইরে থেকে তাকে সফল, আকর্ষণীয় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় মনে হলেও, তার অন্তরের গভীরে রয়েছে ক্রোধ ও হতাশা। গল্পে, কিটি সেইসব পুরুষদের লক্ষ্য করেছে যারা নারীদের ওপর হিংসা, হয়রানি বা শোষণ চালায়। ধীরে ধীরে, সে বেশ কয়েকটি খুন করে, এবং প্রতিবারই আইনকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে। গল্পটিতে দেখানো হয়েছে কীভাবে তার দু'রকম জীবন, সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং অপরাধগুলো একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। পুলিশের তদন্ত যত এগোতে থাকে, তার পক্ষে নিজের গোপন রহস্য লুকিয়ে রাখা ততই কঠিন হয়ে পড়ে।
এটি কি কোনও সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা?
এটি একটি কাল্পনিক উপন্যাস। এর সাথে কোনও বাস্তব খুন, অপরাধ বা ব্যক্তির সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। বইটি নারীর প্রতি হিংসা, লিঙ্গবৈষম্য, অনলাইন সংস্কৃতি এবং সমাজের দ্বৈত নীতির উপর একটি ব্যঙ্গাত্মক রচনা। এটি একটি কাল্পনিক গল্প হিসেবে অপরাধ ও সাসপেন্সকে ব্যবহার করে। এটি বাস্তব জীবনে অপরাধ করার কোনও নির্দেশিকা, পরামর্শ বা পথপ্রদর্শক নয়, বরং বিনোদনের উদ্দেশ্যে রচিত একটি কল্পকাহিনীমূলক উপন্যাস।