scorecardresearch
 

মালিকানা নিয়ে বিবাদ, বন্ধ হল ডুয়ার্সের কোহিনূর চা বাগান

মালিকানা কার হাতে থাকবে তাই নিয়ে বিবাদ। আদালতে ডিক্রি জারি করা সত্বেও তা মানতে নারাজ শ্রমিক ও এক পক্ষ। তা নিয়ে ধুন্ধুমার। মালিকানার দাবিদারকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়ায়র প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে আক্রমণ শ্রমিকদের। তার জেরে সোমবার বন্ধই হয়ে গেল বাগান।

Advertisement
কোহিনূর চা বাগান অফিস কোহিনূর চা বাগান অফিস
হাইলাইটস
  • মালিকানা কার তাই নিয়ে বিবাদ
  • আদালতের ডিক্রি না মানায় এক পক্ষকে গ্রেফতার
  • তার জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল থানা
  • সোমবার বন্ধ হল চা বাগান

বিবাদের জেরে বন্ধ কোহিনূর বাগান

মালিকানা নিয়ে বিবাদ গড়াল থানায়। তার ২৪ ঘন্টার মধ্যে বন্ধ হয়ে গেল ডুয়ার্সের আলিপুরদুয়ার জেলার শামুকতলা থানা এলাকার কোহিনূর চা বাগান। অনিশ্চিত প্রায় কয়েক হাজার মানুষের ভবিষ্যত।

এক ধাক্কা বেকার ৮৮৮ জন

রবিবার রাতে শামুকতলা থানায় রণক্ষেত্রের পর সোমবার কার্যত বন্ধ হয়ে গেলো আলিপুরদুয়ারের দুই ব্লকের শামুকতলা থানার কোহিনূর চা বাগান। বাগানের প্রকৃত মালিকানাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পর আচমকাই বাগান বন্ধের জেরে বাগানের ৮৮৮ জন শ্রমিকের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়লো।

গ্রেফতার হন ওমপ্রকাশ

রবিবার রাতে বর্তমান মালিক ওমপ্রকাশ উপাধ্যায়কে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর চরম শ্রমিক বিক্ষোভ শুরু হয় বাগান জুড়ে। কোহিনূর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রধান নীলম মন্ডলের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। শ্রমিকদের একাংশের অভিযোগ প্রধানের স্বামীই পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে বাগান মালিককে গ্রেপ্তার করাতে সহায়তা করেছে।

কোহিনূর চা বাগান

থানা ঘেরাও, ঢিল, ইঁট বৃষ্টি

এরপরেই শামুকতলা থানায় আটক বাগান মালিক ওমপ্রকাশ উপাধ্যায়কে ছাড়াতে শয়ে শয়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা শামুকতলা থানা ঘেরাও করে ঢিল বৃষ্টি শুরু করে বলে পুলিশের অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত রবিবার গভীর রাতে মুহুর্মুহু কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ও লাঠি চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

গোলমাল ভাঙচুরে ২৫ জন আটক

উত্তেজিত শ্রমিকদের মধ্য থেকে ২৫ জনকে আটক করে পুলিশ। আটক মহিলাদের রাতে ছেড়ে দেওয়া হলেও, চার জন অভিযুক্ত শ্রমিক ও আটক বাগান মালিককে সোমবার জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে আলিপুরদুয়ার এসিজেএম আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। থমথমে চা বাগানটিতে চলছে পুলিশি নজরদারি।

Advertisement

আদালতের ডিক্রিতে ওমপ্রকাশকে দায়িত্ব নয়

পুলিশ সুত্রে খবর ওই চা বাগানটির মালিকানা নিয়ে আইনি জটিলতার জেরে জনৈক চা ব্যবসায়ী কেশব শর্মাকে আপাতত বাগান চালানোর ডিক্রি দিয়েছে আদালত। অভিযোগ ওই ডিক্রিকে অমান্য করে বাগানের পরিচালনার ভার ছাড়তে নারাজ ওমপ্রকাশ উপাধ্যায়। তাতেই তৈরি হয়েছে জটিলতা। অন্যদিকে আবার বাগানের সিংহভাগ শ্রমিক প্রাক্তন মালিকের পরিচালনায় থাকার জন্য জোরালো সওয়াল করেছেন।

শ্রমিকদের দাবি

বাগান শ্রমিক রতন মহন্ত জানিয়েছেন, "করোনার সময় আমাদের মালিক সব রকমের সহায়তা করেছেন। আমরা তাঁর অধীনেই থাকতে চাই।"  অপর শ্রমিক অনিল মূর্মু জানান "আমাদের পুরানো মালিককে ফিরিয়ে দিতে হবে। না হলে এই পরিস্থিতিতে আমরা না খেয়ে মরে যাব। বাগান না খুললে আমরা তো বেকার হয়ে যাব।" যদিও এদিন আলিপুরদুয়ারের এসডিও দেবাশিস চক্রবর্তীর মধ্যস্থতায় বাগানে একটি শান্তি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অনিবার্য কারনে ওই বৈঠক ভেস্তে যায়।

হাইকোর্টের নির্দেশ না মানাতেই গ্রেফতার

জেলার পুলিশ সুপার ভোলানাথ পান্ডে বলেন হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করেছেন ওমপ্রকাশ উপাধ্যায়। আইন না মানায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি থানা আক্রমণ ও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

 

Advertisement