scorecardresearch
 

মেয়েকে কোলে নেওয়ার স্বপ্ন অধরাই থাকল, ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত কোচবিহারের সুভাষ

মেয়েকে দেখা হল না বাবার ৷ প্রথমবার মেয়ের মুখ দেখবেন বলে সাধ নিয়ে বিকানের এক্সপ্রেসে কোচবিহারের বাড়িতে ফিরছিলেন বাবা। ময়নাগুড়ির রেল দুর্ঘটনা প্রাণ কেড়ে নিল সুভাষ রায়ের।

প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি

দুই ছেলের পর এক মেয়ে। বয়স তিন মাস। ভিডিও কলে জয়পুর থেকে মুখ দর্শন করা হয়েছিল বটে। কিন্তু তাতে কী আর বাবার মন মানে! সামনা সামনি দেখতে, মেয়েকে কোলে তুলে নিতে কার্যত জয়পুর থেকে কোচবিহার ছুটেই আসছিলেন। কিন্তু অভিপ্রেত গন্তব্যে পৌঁছনো তাঁর কপালে ছিল না। বরং তিনি চলে গেলেন অনেক দূরে। না ফেরার দেশে। বিকানের-গুয়াহাটি এক্সপ্রেসের বলি কোচবিহারের সুভাষ রায়। পরিবার ও প্রতিবেশীরা এটাই স্থির করতে পারছেন না, কপাল কার বেশি খারাপ? বাবার যিনি মেয়েক একবারও কোলে নিতে পারলেন না, নাকি একরত্তির, যে বাবার স্নেহস্পর্শ থেকে বঞ্চিত হল চিরদিনের জন্য়।

মেয়েকে দেখা হল না বাবার ৷ প্রথমবার মেয়ের মুখ দেখবেন বলে সাধ নিয়ে বিকানের এক্সপ্রেসে কোচবিহারের বাড়িতে ফিরছিলেন বাবা। কিন্তু বাড়ি আর ফেরা হল না ৷ ময়নাগুড়ির রেল দুর্ঘটনা প্রাণ কেড়ে নিল বাবা সুভাষ রায়ের।  

ঘরের লক্ষ্মী এসেছে মনে করে ৩ মাস ধরেই উত্তেজিত ছিলেন সুভাষবাবু। আসব আসব করে এতদিনে সময় করতে পেরেছিলেন কোচবিহারে বাড়ি ফেরার। সেই উত্তেজনায় ট্রেনে ওঠার পর থেকেই বারবার ফোন করছিলেন বাড়িতে। কখনও দাদা সুবলকে, কখনও স্ত্রীকে আবার কখনও বাবা নির্মলবাবুকে। কিশনগঞ্জে পৌঁছে শেষবার কথা হয়েছিল দাদার সঙ্গে।

সুভাষ রায় (২৬) এর  বাড়ি কোচবিহারের কোতোয়ালি থানার ফলিমারি গ্রামে। ভিন রাজ্যের শ্রমিক ছিলেন তিনি। প্রায় ১৫ বছর থেকে জয়পুরে শ্রমিকের কাজ করেন ৷ দুই ছেলের পর মেয়ে হয়েছে তার। ৩ মাসের মেয়ে সুপ্রিয়াকে প্রথমবার দেখবেন বলে ফিরছিলেন বাড়ি। বিকানের এক্সপ্রেস কিশনগঞ্জ স্টেশন পেরোলে দাদাকে ফোন করেও জানিয়েছিলেন ভালোভাবে বাড়ি ফিরছেন।

বাড়ি ফিরে  একরত্তি মেয়েকে দেখবেন বলে অস্থির ছিলেন ৷ তা আর সম্ভব হল না। সন্ধ্যা ৭ টা নিউ কোচবিহার স্টেশনে নামার কথা ছিল তার। তবে তার আগেই ময়নাগুড়ি দোমোহনির কাছে রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি। রাতেই পরিবারের কাছে মৃত্যুসংবাদ আসে ৷ সকাল থেকে শোকার্ত গ্রাম। 

ময়নাগুড়ি রেল দুর্ঘটনাতে মারা গিয়েছেন কোচবিহারের আরও একজন। অপরজন চিরঞ্জিত বর্মন ২৩। তার বাড়ি কোতোয়ালি থানার চান্দামারি এলাকায় ৷ কান্নার রোল এই গ্রামেও ৷