scorecardresearch
 
 

লকডাউনে দুঃস্থদের পাশে দাঁড়াল শিলিগুড়ির বৃহন্নলারা

শুক্রবার শিলিগুড়িতে নিজেদের রোজগারের টাকায় থেকে বাঁচিয়ে দুঃস্থদের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিল বৃহন্নলাদের একাংশ। তাঁদের উদ্যোগে আসপাশের মানুষ তাঁদের জন্য আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন।

শিলিগুড়ির বৃহন্নলারা শিলিগুড়ির বৃহন্নলারা
হাইলাইটস
  • একশোটির বেশি পরিবারের পাশে
  • এক সপ্তাহের খাবার খরচ তুলে দিলেন
  • নিজেদের রোজগার বন্ধ, জমানো টাকা থেকে খাবার দিলেন

সারা বছর তাঁদের তালি বাজিয়ে অর্থ আদায়ে ব্যস্ত থাকতেই দেখা যায়। বেশিরভাগই কোনও কাজ পায় না। ফলে এভাবেই কাটে জীবন। সেই সঙ্গে তাঁদের দৌরাত্ম্যে অনেকেই ব্যতিব্যস্তও হয়ে পড়েন। এবার লক ডাউনে কর্মহীনদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁরা অন্তত কিছুটা হলেও তাঁদের প্রতি মানুষের মনোভাবে ব্যত্যয় ঘটাতে সক্ষম হবেন।

শিলিগুড়িতে প্রশংসনীয় উদ্যোগ বৃহন্নলাদের 

শুক্রবার শিলিগুড়িতে নিজেদের রোজগারের টাকায় থেকে বাঁচিয়ে দুঃস্থদের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিল বৃহন্নলাদের একাংশ। তাঁদের উদ্যোগে আসপাশের মানুষ তাঁদের জন্য আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন।

একশোর বেশি পরিবারের পাশে বৃহন্নলারা

করোনার জেরে না খেতে পাওয়া অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালো বৃহন্নলারা। শিলিগুড়ি পুরনিগমের ২০ নং ওয়ার্ডে প্রায় ১০০ টিরও বেশি পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিলেন তাঁরা। অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন বৃহন্নলারা। তাঁদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে শহরবাসী।

এক সপ্তাহের রসদ তুলে দেওয়া হল

করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে রাজ্য সরকারের তরফে রাজ্যে কড়াকড়ি নিয়ম জারি করা হয়েছে। শিলিগুড়ি শহরে প্রচুর অসহায় মানুষের রুটি-রুজি বন্ধ রয়েছে। যার ফলে চরম অসহায় রয়েছে পরিবারগুলি। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের তরফে শহরে বিভিন্ন জায়গায় দুঃস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। তবে এবার অসহায় দুঃস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়াল শিলিগুড়ির বৃহন্নলারা। শুক্রবার শিলিগুড়ি পুরনিগমের অন্তর্গত কুড়ি নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় একশোটিরও বেশি দুঃস্থ পরিবারকে তাঁরা তাদের সংগৃহিত অর্থের মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেযন। এর মধ্যে রয়েছে চালডাল তেল-মশলা এবং কিছু সবজি ও শুকনো খাবার।

নিজেদের অসুবিধার মধ্যেও মানবিকতার নজির

বর্তমানে শিক্ষিত সমাজজের কাছে আজও বৃহন্নলারা উপেক্ষিত। প্রচুর মানুষ আছেন তাঁদের দেখলে মুখ ঘুরিয়ে, পাশ কাটিয়ে চলে যান। এই বৃহন্নলারা ট্রেনে, বাসে এবং রাস্তায় ঘুরে ঘুরে অর্থ সংগ্রহ করে নিজেদের জীবন যাপন করেন। লকডাউন পরিস্থিতিতে গণ পরিবহণ ব্যবস্থা একেবারে বন্ধ। ট্রেনও হাতেগোনা। থাকলেও যাত্রী সংখ্যা সামান্য। ফলে তাদের রোজকারে একটা বড় প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা যেভাবে অসহায় দুঃস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাতে তাদের এই উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়েছে শহরের বিশিষ্ট মহল।