scorecardresearch
 

শিংয়ে এফোঁড়-ওফোঁড় বনকর্মী, দৌড়ে বেড়াচ্ছে খ্যাপা বাইসন. জলদাপাড়ায় আতঙ্ক

রুটিন ডিউটিতে টহল দিচ্ছিলেন। আচমকা পিছন থেকে উদয় হল সাক্ষাৎ মূর্তিমান। বাঁচার সামান্য সুযোগ না দিয়ে এক বনকর্মীর পিঠে ঢুকিয়ে দিলেন শিং। শিং ফুঁড়ে গেল বুক। ওই অবস্থায় ছুটলেন জঙ্গলে। তারপর...

গৌতম কার্জি গৌতম কার্জি
হাইলাইটস
  • বাইসন শিং ঢুকিয়ে দিল পেটে
  • তারপর দৌড়ে বেড়ালো জঙ্গলে
  • হতভম্ব অন্য বনকর্মীরা

জঙ্গলে টহলরত এক বনকর্মীর পিঠে শিং ঢুকিয়ে এফোঁড় ওফোঁড় করে সেই বনকর্মীকে মাথায় নিয়ে ছুটলো বাইসন। জঙ্গলে পাহারা দেবার সময় এই ঘটনায়  মর্মান্তিক মৃত্যু হলো এক বনকর্মীর। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সন্ধ্যায়।

জলদাপাড়ার মালঙ্গি বিটে রোমহর্ষক ঘটনা

আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট এলাকায় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের  মালঙ্গি বিটের চার নম্বর কর্ম্পাটমেন্টে। এদিন সন্ধ্যায় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের চার বনকর্মী মালঙ্গি বিটের জঙ্গলে টহল দিচ্ছিলেন। আচমকাই একটি বাইসন চার বনকর্মীদের পেছন থেকে আক্রমণ করে। তিন বনকর্মী বাইসনের হাত থেকে কোনও ক্রমে বেঁচে গেলেও, গৌতম কার্জি নামে এক বনকর্মীর পিঠে শিং ঢুকিয়ে দিলে তাঁর বুক ভেদ করে শিং বের করে দেয়। তারপর সেই বনকর্মীকে মাথায় নিয়ে বেশ কিছুটা দূর ছুটে বেড়ায় বুনো প্রাণীটি। তখন তার রুদ্রমূর্তি দেখে সামনে ভিড়তে সাহস পাননি কেউই।

চোখের সামনে এমন ঘটনায় বাক্যহারা অন্যরা

এই ঘটনা নিজেদের চোখে দেখে হতভম্ব প্রাণে বেঁচে যাওয়া বাকি তিন বনকর্মী। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বনকর্মী গৌতম কার্জির। তাঁর মৃত্যুর পরও বুনো প্রাণীটি গৌতমবাবুর মৃতদেহ আগলে দাঁড়িয়ে ছিল বেশ কিছুক্ষণ। এর জেরে গৌতম কার্জির দেহ ঘটনাস্থল থেকে তুলে আনতে পারছিলেন না বাকি তিনজন। উপায় না দেখে ওয়াকিটকিতে ফোন করে মালঙ্গি রেঞ্জে ফোন করেন ওই তিনজন। রেঞ্জ থেকে কয়েকজন বনকর্মী ছুটে এসে বাইসনটিকে তাড়িয়ে গৌতমবাবুর দেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে মাদারিহাট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে এলে, চিকিৎসক গৌতম কার্জিকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। এই ভয়াবহ ঘটনায়  জেরে বাকরুদ্ধ বাকি তিন বনকর্মী।

গৌতম কার্জি
গৌতম কার্জি

বন দফতরের তরফে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস

মাদারিহাট থানার ওসি টিএন লামা জানিয়েছেন, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত হয়ে গেলে মৃতদেহ তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও দীপক এম জানিয়েছেন, খুবই বেদনাদায়ক ঘটনা। আমি তার পরিবারকে সমবেদনা জানাচ্ছি। মৃত বনকর্মীর পরিবারকে সরকারি নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

আতঙ্কে ডিউটি করতে ভয় পাচ্ছেন কর্মীরা

এদিনের মর্মান্তিক এই ঘটনার পর জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বনকর্মীদের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাকিরাও ডিউটিতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ বাইসনটি যদি খ্যাপা হয়ে থাকে, তাহলে ফের আক্রমণ করতে পারে। বাইসন এমনিতে ভীতু প্রাণী। কিন্তু খেপে গেলে মুশকিল। তাই খ্যাপা বাইসনটি কোথায় আছে না জেনে জঙ্গলে টহল দেওয়া নিরাপদ নয় বলে মনে করছেন তাঁরা।

 

 
; ; ;