scorecardresearch
 

Sikkim Tourists Terrible Experience: 'চোখের সামনে বড় বড় পাথর গড়িয়ে পড়ছে', সিকিমে অভিজ্ঞতা বাংলাদেশি পর্যটকের

Sikkim Tourists Terrible Experience: প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের মাঝে পড়ে কোনও ক্রমে প্রাণের বেঁচে ফিরতে পেরে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন তাঁরা। জানালেন কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা। শিলিগুড়ি ফিরেও তাঁদের  চোখে মুখে এখনও সেই আতঙ্কের ঝাপ। চোখের সামনে ধসের ছবি এখন জলজল করছে।

সিকিম থেকে পর্যটকরা নেমে আসছেন, শিলিগুড়িতে সিকিম থেকে পর্যটকরা নেমে আসছেন, শিলিগুড়িতে
হাইলাইটস
  • সিকিমের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শোনালেন বাংলাদেশি পর্যটক
  • প্রাণ হাতে করে শিলিগুড়ি ফিরে বর্ণনা করলেন অভিজ্ঞতা
  • তবে দুর্যোগ কমলে ফের সুযোগ পেলে অবশ্য়ই যাবেন

Sikkim Tourists Terrible Experience: সিকিমে ঘুরতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী পর্যটকদের। যাঁরা গত কয়েকদিনে সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় ছিলেন তাঁদের অনেককেই টুরে কাটছাঁট করে দ্রুত শিলিগুড়িতে ফিরে এসেছেন। টুর প্ল্যান ভেস্তে যাওয়ার একটা আক্ষেপ তো রয়েইছে। তবে পরিস্থিতি যেমন তৈরি হয়েছিল, তাতে বিপদ যে ঘটেনি তাতে তাঁরা স্থানীয় প্রশাসনিক তৎপরতা এবং উপরওয়ালাকেই ধন্যবাদ দিচ্ছেন। বাংলাদেশের একদল পর্যটকও ছিলেন এদের মধ্যে। তাঁরা কোনও মতে নেমে এসেছেন সিকিম থেকে।

এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে সিকিম সরকার উত্তর সিকিমে যাওয়ার সমস্ত রকম পারমিট বাতিল করেছে। ফলে এই মুহূর্তে উত্তর সিকিমে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।  অবিরাম বৃষ্টির কারণে, উত্তর সিকিমের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে। ধস নামার পরও টানা বৃষ্টি চলতে থাকায় ধস সরানোর কাজে বিঘ্ন ঘটছে। বেশ কিছু পর্যটক আটকে পড়লেও তাঁদের নিরাপদ জায়গায় এবং গ্যাংটকে সরিয়ে আনা হয়েছে। সেখান থেকে শিলিগুড়িতে নেমে আসছেন পর্যটকরা। তবে নতুন করে কোনও বিপদ এড়াতে এবং পর্যটক ও গাড়িচালকদের নিরাপত্তার খাতিরে উত্তর সিকিমের পারমিট সোমবার থেকে বাতিল করা হয়েছে।

সিকিম

তবে শরৎকালে সাধারণত দারুণ মরশুম থাকে। পুজোর এই মরশুমই ঘোরার মরশুম। তাই দলবেঁধে সিকিম বেড়াতে এসেছিলেন বাংলাদেশের একটি পর্যটকদের দল। এই ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হতে হবে, ভ্রমণের এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকতে হবে তা ভাবেননি তাঁরা। আরও অনেক দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে তাঁরাও নেমে এসেছেন সিকিম থেকে। তবে প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের মাঝে পড়ে কোনও ক্রমে প্রাণের বেঁচে ফিরতে পেরে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন তাঁরা। জানালেন কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা। শিলিগুড়ি ফিরেও তাঁদের  চোখে মুখে এখনও সেই আতঙ্কের ঝাপ। চোখের সামনে ধসের ছবি এখন জ্বলজ্বল করছে।

এক পর্যটক আরফিন ইমতিয়াজ জানালেন, "এমন ঘটনার সাক্ষী আগে কখনও হইনি। চোখের সামনে বড় বড় পাথর পড়ছে। ধসে রাস্তা বন্ধ। একটা গাড়ি কোনওমতে পার হচ্ছে। তাও যে কোনও সময় খাদে পড়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। কখনও কখনও খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। রাস্তার উপর দিয়ে পাহাড়ি ঝর্না বয়ে চলেছে। শেষমেষ সুস্থভাবে ফিরে আসতে পেরেছি, এটাই অনেক। এ অভিজ্ঞতা আজীবন ভুলব না।" আরও এক পর্যটক জানালেন, বৃষ্টি আর মেঘ এমনভাবে রাস্তার উপর চেপে বসেছিল, আমরা কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। গাড়িচালক কীভাবে দেখছিলেন উনিই জানেন। আমাদের প্রাণ সমস্তটাই তাঁদের হাতে ছিল। বাঁক নেওয়ার সময় শিউরে উঠছিলাম। কারণ প্রায় আন্দাজে গাড়ি চালাচ্ছিলেন চালক।

বাস

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস ছিলই,সেই মত গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার টানা বৃষ্টিতে প্রতিবেশী রাজ্য সিকিমের বিভিন্ন জায়গায় ধসে বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা। বিশেষ করে উত্তর সিকিমের বেশ কয়েকটি জায়গাতে ধসের কারণে একপ্রকার স্তব্ধ যান চলাচল। তুমুল বর্ষণের জেরে বিপাকে উত্তর সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা। বিপাকে পড়েছেন ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরাও। বৃষ্টির জেরে সিকিমে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের কয়েকটি জায়গায় ধসও নেমেছে। এদিকে জল বাড়ছে নদীগুলিতে। এই পরিস্থিতিতে আপাতত বিপর্যয় ও দুর্ঘটনা এড়াতে উত্তরর সিকিমে নতুন করে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল সিকিম সরকারের তরফে। পরবর্তী নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি মিলবে না।