scorecardresearch
 
 

তৃণমূলের কুপনে মিলছে করোনার টিকা, শিলিগুড়ি তোলপাড়

তৃণমূল নেতারা যাঁদের হাতে কুপন তুলে দিচ্ছেন, তাঁরাই পাচ্ছেন ভ্যাকসিন। এমন অভিযোগ সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়াল শিলিগুড়িতে।

এই সেই বিতর্কিত কুপন এই সেই বিতর্কিত কুপন
হাইলাইটস
  • তৃণমূলের কুপনে টিকার অভিযোগ
  • ঘুরিয়ে অভিযোগ স্বীকার তৃণমূলের
  • বিজেপির ক্ষোভ সঠিক বন্টন হচ্ছে না

তৃণমূল নেতারা যাঁদের হাতে কুপন তুলে দিচ্ছেন, তাঁরাই পাচ্ছেন ভ্যাকসিন। এমন অভিযোগ সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়াল শিলিগুড়িতে।

তৃণমূলের হাতেই ভ্যাকসিনের চাবি!

তৃণমূল নেতারা যাঁর হাতে কুপন তুলে দিচ্ছেন, তাঁরাই পাচ্ছেন টিকা। সোমবার এমনই ছবি দেখা গেল শিলিগুড়ি পুরনিগমের পাতিকলোনি এলাকার ৮ নং পৌর প্রাথমিক হেল্থ সেন্টারে। তবে কি করে একটি রাজনৈতিক দলের পরিচিতরা এই সুযোগ পাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। এ বিষয় নিয়ে শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক বোর্ডের সদস্য তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার অবশ্য অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর দাবি, মানুষকে সাহায্য করতেই তাঁরা এই কাজ করেছেন।

টিকা পাওয়ার নিয়ম কি?

করোনা ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত রুখতে টিকা করনে জোর দিয়েছে সরকার। প্রতিদিনই শিলিগুড়ির বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এবং হেল্থ সেন্টার গুলিতে টিকা দেওয়া হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে কোথাও মানুষ টিকা নিতে রাত থেকে লাইন দিচ্ছেন, আবার কোথাও কাকভোরে টিকার জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। কিন্তু নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিদিন ১০০ জনকে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রতিদিনই টিকা গ্রহণকেন্দ্রগুলিতে কয়েকশো মানুষ লাইনে থাকছে। তাই ভিড় এড়াতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ১০০ জনকে কুপন দেওয়া হয়।

তৃণমূলের কুপনে পার হচ্ছে সেঞ্চুরি

ঠিক একইভাবে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪৭ নং ওয়ার্ড এলাকার পাতি কলোনি এলাকার ৮ নং পৌর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সোমবার নির্দেশ ছিল ১০০ জন সাধারণ মানুষকে টিকা দেওয়ার। তবে সোমবার সকাল থেকে স্থানীয় তৃণমূলের ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা এলাকাবাসীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে একটি কুপন দেয়। এরপরই এলাকাবাসীরা সেই কুপন নিয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসে করোনার টিকা নেয়। তৃণমূলের এই কুপন বিলিকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে উঠছে প্রশ্ন। কি করে তৃণমূল নেতাদের দেওয়া কুপনে টিকা দিচ্ছে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্র। এছাড়াও তৃণমূল নেতাদের হাতে কি করে পৌরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কুপন গেল ? উঠছে প্রশ্ন।

তৃণমূল নেতার দাবি

শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪৭ নং ওয়ার্ড তৃণমূলের সভাপতি অমরানন্দ দাস বলেন, এলাকায় প্রতিদিনই বাইরে থেকে প্রচুর মানুষ টিকা নিতে আসে। যার ফলে এলাকায় প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছিল। ফলে এলাকাবাসীরা যাতে টিকা গ্রহণের প্রাধান্য পায় সেই জন্যই তারা ওই এলাকার মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুপন দিয়েছে।

অভিযোগ ঠিক, দাবি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকের

এই ঘটনা নিয়ে ওই পৌর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার টি কে বাগানিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কার্যত স্বীকার করে নেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে তৃণমূলের নেতারা কুপন দিয়ে এসছে। সেই কুপন অনুযায়ী টিকা দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে ওই ডাক্তারের সাথে সহমত প্রকাশ করেছে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থাকা আরও  একজন স্বাস্থ্যকর্মী।

সাহায্য করেছেন, কুপন দেননি!

অন্যদিকে ঘটনা নিয়ে শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক বোর্ডের সদস্য তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, সরকারের মাধ্যমে জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয় তৃণমূল নেতারা ওই কেন্দ্রে আসা মানুষরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় তাদের যাতে কোনরকম সমস্যা না হয় সে জন্য সেখানে বসার জায়গা ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছেন। তবে এমন কোনো খবর নেই যে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুপন বিলি করছে।

বিজেপির ক্ষোভ

বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা যুব সভাপতি কাঞ্চন দেবনাথ অভিযোগ করেন, যে কোনও বিপর্যয়কে ব্যবহার করে তৃণমূল লুটের রাজনীতি করে আসছে। করোনা সংকটে যখন সকলকে একযোগে কাজ করা উচিৎ, তখন তৃণমূলের নেতারা কেন্দ্রের দেওয়া ভ্যাকসিনে লুটের রাজনীতি করছে। এই ৪৭ নং ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সমগ্র এলাকায় সুপার স্প্রেডারদের ভ্যাকসিনেশনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত, সেখানে তৃণমূল নেতারা স্বাস্থ্য দপ্তরের এই কর্মসূচিকে হাইজ্যাক করে তৃণমূলের দলীয় নেতাদের সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে। পুর প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের ভূমিকা ঠুঁটো জগন্নাথের মত।