নদীর ধারে ভিড়একদিকে যখন ঘরে ঘরে চলছে মা লক্ষীর আরাধনা, তখনই একই পরিবারের দুই শিশু লক্ষীর জন্য বিষাদের সুর প্রতিবেশী দেশ ভুটান সীমান্তবর্তী শহর জয়গাঁতে। লক্ষী পুজার দিনেই ভুটান থেকে ধেয়ে আসা ভয়ঙ্কর তোর্ষা নদীর জলে তলিয়ে গেল দুই খুদে লক্ষ্মী। গত দুই দিনে ভুটান পাহাড়ে প্রবল বর্ষনের জেরে হলুদ সংকেত জারি হয়েছে তোর্ষা নদীতে। সেই পরিস্থিতিতেই বুধবার দুপুরে তোর্ষা নদীর ধারে শৌচকর্ম করতে যায় একই পরিবারের দুই শিশু কন্যা। তবে নদীর পাড় ভাঙনের জেরে দুই বোনই আচমকাই নদীতে পড়ে রুদ্রমূর্তি তোর্ষার জলে তলিয়ে যায়।সে সময় প্রত্যক্ষদর্শী কিছু মানুষ তোর্ষা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে নদী ভাঙনের দৃশ্য দেখছিলেন।কিন্তু তাঁরাও ভয়ঙ্কর তোর্ষা নদীর থেকে দুই শিশু কন্যাকে উদ্ধার করতে সাহস দেখায়নি।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন মুহুর্তের মধ্যে দুই বোন কোথায় যেন নদীর স্রোতে ডুবে গেল।
শুধু এই করুন দৃশ্য দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিলো না তাঁদের কাছে। কালচিনি ব্লকের বিডিও প্রশান্ত বর্মন জানিয়েছেন দুই শিশু কন্যার বাড়ি জয়গাঁ এক নম্বর গ্রামপঞ্চায়েতের ছোট মেচিয়া বস্তি গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন দুই শিশু কন্যার বাবার নাম সফিক আনসারি।নদীতে তলিয়ে যাওয়া বছর দশেকের অনিশা আমাসারি এবং তার ছোট বোন আট বছরের মনিষা আনসারি।
এদিন এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই আলিপুরদুয়ার এবং হাসিমারা থেকে বিপর্যয় মোকাবিলার দুটি দলের সদস্যরা স্পিড বোট নিয়ে তোর্ষা নদীতে দুই বোনের সন্ধান শুরু করে। কিন্তু দুপুর পেরিয়া বিকেল গড়িয়ে এলেও দুই বোনের হদিশ পায়নি বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা। এদিকে দিনভর প্রবল বর্ষনের জেরে এবং তোর্ষা নদীর প্রবল স্রোতে উদ্ধার কাজে বাধা পায় বিপর্যয় মোকাবিলা দল। কালচিনি ব্লকের বিডিও প্রশান্ত বর্মন দুই শিশু কন্যাকে উদ্ধারে নিজেই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সাথে তোর্ষা নদীতে নামেন। বিডিও বলেন খুবই বেদনাদায়ক ঘটনা। ভারি বর্ষনের জেরে নদীতে তল্লাশি অভিযান করতে সমস্যা হচ্ছে।