
পাহাড় বলতেই পর্যটকদের মনে প্রথম উঁকি দেয় দার্জিলিং বা সিকিম। কিন্তু ভিড়ের চেনা ছক পেরিয়ে উত্তরবঙ্গের বুকেই লুকিয়ে আছে এমন কিছু স্বর্গোদ্যান, যার প্রশান্তি আপনার ক্লান্তি ধুয়ে মুছে দেবে। আজ কথা হচ্ছে ডুয়ার্সের তেমনই এক মণিভাণ্ডার ‘রঙ্গো’ (Rango) গ্রামকে নিয়ে।

ভুটানঘাট পাহাড়ের পাদদেশে, নদীর কলতানে মুখরিত এই জনপদটি এখন অফবিট প্রেমীদের কাছে তুরুপের তাস। শহরের কোলাহল আর অন্তহীন ডেডলাইনের চাপ থেকে মুক্তি পেতে কয়েকদিনের জন্য গা ঢাকা দিতে পারেন এই নির্জন পাহাড়ী গ্রামে।

ডুয়ার্সের মায়াবী হাতছানি
ডুয়ার্স মানেই কি শুধু চায়ের বাগান? মোটেই না। পাহাড়, নদী আর অরণ্যের এমন দুর্লভ মেলবন্ধন ডুয়ার্স ছাড়া আর কোথাও বোধহয় পাওয়া দুষ্কর।

গ্রীষ্মের দাবদাহ হোক বা বর্ষার সজল মেঘ, ডুয়ার্সের রূপ সর্বদা চিরযৌবনা। আর রঙ্গো হলো সেই সৌন্দর্যের মুকুট। এখানে পৌঁছালে আপনি প্রকৃতির প্রেমে পড়তে বাধ্য হবেন।

কী দেখবেন রঙ্গোতে?
নিভৃতবাস যাঁদের পছন্দ, তাঁদের জন্য রঙ্গো আদর্শ। এখানে কান পাতলেই শোনা যায় ময়ূরের ডাক, আর চোখে পড়বে হরেক প্রজাতির নাম না জানা পাহাড়ি পাখি। হাতে একটু সময় থাকলে কাছেপিঠের জলঢাকা, বিন্দু, সাঁওতাল খোলা কিংবা রকি আইল্যান্ড থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।

রোমাঞ্চ প্রিয়দের জন্য রয়েছে জঙ্গল সাফারি এবং বক্সা-জয়ন্তী পাহাড়ের হাতছানি। এছাড়া দেখে নিতে পারেন স্থানীয় ‘রঙ্গো গোম্ফা’। ইচ্ছে হলে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে কিছুটা ট্রেকিংও সেরে নিতে পারেন।

কীভাবে যাবেন?
রঙ্গো পৌঁছানো বেশ সহজ। নিউ মাল জংশন হলো এর নিকটবর্তী রেলস্টেশন। শিয়ালদহ থেকে কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে চেপে সরাসরি নিউ মাল জংশনে নামুন। সেখান থেকে চালসা বাস স্ট্যান্ড হয়ে গাড়ি পাওয়া যায়।

ভাড়া কত?
চালসা থেকে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে বাস ছাড়ে, যার মাথা পিছু ভাড়া মাত্র ১২০ টাকা। তবে পরিবারের সঙ্গে প্রাইভেট কার বা ছোটো গাড়ি রিজার্ভ করে যেতে চাইলে খরচ পড়বে মোটামুটি ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা। এই গরমে পাহাড়ের ঠান্ডা ছোঁয়া পেতে ডায়েরিতে নোট করে নিন রঙ্গোর নাম।