Balurghat Municipality News: আর চা-বিস্কুট নয়, বালুরঘাট পুরসভায় কড়া সিদ্ধান্তে হইচই; নজরে অস্থায়ী কর্মীরাBalurghat Municipality News: রাজ্যে ক্ষমতা বদল হতেই এবার নজিরবিহীনভাবে নিজেদের খরচে ব্যাপক রাশ টানল তৃণমূল পরিচালিত বালুরঘাট পুরসভা। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রথম শুক্রবার পুরসভার বোর্ড অফ কাউন্সিলার্সদের (BOC) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বসেছিল। আর সেই বৈঠকেই একগুচ্ছ কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুর-কর্তৃপক্ষ। এবার থেকে পুরসভার অন্দরে কোনও মিটিং হোক বা অন্য প্রয়োজনে, চা-বিস্কুটের যাবতীয় বিল আর পুর তহবিলের টাকা থেকে মেটানো হবে না! শুধু তাই নয়, পুরসভার ঘাড়ে চেপে থাকা দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের নিয়েও এবার এক বিশেষ স্ক্রুটিনি বা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুরসভা সূত্রে খবর, এতদিন পর্যন্ত পুরসভার কোনও বৈঠক থাকলে কিংবা আধিকারিকদের সঙ্গে কেউ দেখা করতে এলে চা, বিস্কুট ও টিফিনের এলাহি ব্যবস্থা করা হতো এবং তার সম্পূর্ণ খরচ বহন করত পুর কর্তৃপক্ষই। হিসাব কষে দেখা গিয়েছে, প্রতি মাসে শুধুমাত্র এই চা-বিস্কুটের বিল মেটাতেই পুরসভার তহবিল থেকে ওড়াতে হতো ৫০ হাজার টাকারও বেশি! কোষাগারের হাল ফেরাতে এবার সেই খরচে এক্কেবারে দাঁড়ি টেনে দেওয়া হলো। এর পাশাপাশি অস্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে এক নতুন নিয়ম। এখন থেকে কোনও অস্থায়ী কর্মীর বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হলেই তাঁকে কাজ থেকে সরাসরি অব্যাহতি দেওয়া হবে। এছাড়া রাজ্য সরকারের কড়া নির্দেশিকা মেনে আপৎকালীন বা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া আপাতত পুরসভার নতুন কোনও টেন্ডার বা দরপত্র ডাকা হবে না।
একই সঙ্গে পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের একাংশের ফাঁকিবাজি রুখতেও চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুর-কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠছিল, পুরসভায় প্রায় ১১০০ জন দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী বিভিন্ন বিভাগে কাজ করেন, যাঁদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে পুর তহবিলের ৫৬ লক্ষ টাকারও বেশি খরচ হয়ে যায়। কিন্তু এই বিপুল কর্মীবাহিনীর মধ্যে অনেকেই নিয়মিত খাতায়-কলমে উপস্থিত থাকলেও বাস্তবে কাজের ক্ষেত্রে চরম গাফিলতি করেন। এমনকি কেউ কেউ আবার কোনও কাজ না করেই মাসের শেষে পকেটে পুরছেন সরকারি বেতন! এই বেনিয়ম রুখতে এবার কোন কর্মী, কোথায়, কী কাজ করছেন, তার দৈনন্দিন রেকর্ড খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাজে গাফিলতি বা ভুয়ো উপস্থিতি প্রমাণিত হলেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কড়া আইনি পদক্ষেপ।
খরচ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নাগরিক পরিষেবার মাশূলেও বেশ কিছু রদবদল ঘটিয়েছে পুরবোর্ড। এতদিন শহরের মধ্যে শববাহী গাড়ির (Dead Body Van) জন্য ২৫০ টাকা এবং শহরের বাইরে যাওয়ার জন্য ৩৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো, গরিব মানুষের কথা মাথায় রেখে এবার সেই শববাহী গাড়ির ভাড়া পুরোপুরি মকুব বা ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। তবে এর পাল্টা হিসেবে জলের ট্যাঙ্কারের ভাড়া কিছুটা বাড়িয়েছে পুরসভা। ছোট জলের ট্যাঙ্কারের ভাড়া ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০০ টাকা। আর বড় ট্যাঙ্কারের ক্ষেত্রে ভাড়া ৪৫০ টাকা থেকে একধাক্কায় বেড়ে হয়েছে ৭০০ টাকা।
শাসক দলের এই হঠাৎ ভোলবদল নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী শিবির। বালুরঘাট টাউন বিজেপি সভাপতি সমীর প্রসাদ দত্ত ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘এত দিনে হঠাৎ পুরবোর্ডের স্বচ্ছ হওয়ার কথা মনে পড়েছে! রাজ্যে সরকার বদল না হলে এই চোরদের এসব কথা কোনওদিন মনেই পড়ত না।’ যদিও সমস্ত সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা বলেন, “বোর্ড মিটিংয়ে পুরসভার বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি, নাগরিক পরিষেবা এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পুরসভা আর চা-বিস্কুটের বিলের টাকা দেবে না, সেটা কড়া ভাষায় সকলকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও কর্মীদের কাজে কড়া নজরদারি চালানো হবে। পুরসভা খরচে রাশ টেনেছে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়ানোর উপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে।”