Coronation Bridge Alternative Bridge News: ব্রিটিশ আমলের বাঘপুলের বিকল্প সেতু নিয়ে বিরাট পরিকল্পনা কেন্দ্রের, কী ব্যবস্থা?Coronation Bridge Alternative Bridge News: শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং বা ডুয়ার্স যাওয়ার পথে সেবক মোড় পেরোলেই চোখে পড়ে সেই রাজকীয় ‘বাঘপুল’। কিন্তু বার্ধক্য থাবা বসিয়েছে সেই ঐতিহ্যে। এবার সেই করোনেশন ব্রিজের বিকল্প হিসেবে আসতে চলা নতুন সেতু নিয়ে বড়সড় আপডেট দিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ট। ‘বর্তমান’ পত্রিকার সেই টানটান ঘরানায় এবং আধুনিক লেখকের কলমে পড়ে নিন বিশদ প্রতিবেদন।
শিলিগুড়ি থেকে সেবক পাহাড় হয়ে সবচেয়ে পুরনো ডুয়ার্স যাওয়ার লাইফলাইন করোনেশন ব্রিজের দিন ফুরিয়েছে অনেকদিন আগেই। ব্রিটিশ আমলের এই জরাজীর্ণ সেতুর বোঝা কমাতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিকল্প সেতুর কাজ হাতে নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক (MoRTH)। কিন্তু এবার সেটিকে আরও বড় প্রকল্পে রূপান্তরিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ তথা বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র রাজু বিস্তা। তিনি জানিয়েছেন, আগে এই বিকল্প সেতুটি ৪ লেনের হওয়ার কথা থাকলেও, এখন তা ৬ লেনের হাইওয়ে হিসেবে তৈরি করা হবে। কৌশলগত গুরুত্ব এবং ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান যানজটের কথা মাথায় রেখেই অর্থ মন্ত্রকের স্থায়ী কমিটি এই প্রস্তাব দিয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, সেতুর ফুটপাথ বাদ দিয়ে সেই জায়গায় অতিরিক্ত লেন তৈরি করে একে পূর্ণাঙ্গ ৬ লেনের রূপ দেওয়া হবে।
প্রকল্পের নকশা বদলের কারণেই আপাতত করোনেশন ব্রিজের বিকল্প সেতুর টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। রাজু বিস্তা স্পষ্ট করেছেন, সেতুটিকে আরও চওড়া, নিরাপদ এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাজিয়ে তুলতেই এই সিদ্ধান্ত। আগের ৪ লেনের নকশাকে সরিয়ে এখন আরও বড় পরিসরে কাজের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখেই সেতুটিকে ‘ফিউচার রেডি’ করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
করোনেশন ব্রিজের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৯৩৭ সালে ব্রিটিশ আমলে রাজা ষষ্ঠ জর্জ এবং রানি এলিজাবেথের সিংহাসন আরোহণের স্মারক হিসেবে এই সেতুর নির্মাণ শুরু হয় এবং কাজ শেষ হয় ১৯৪১ সালে। তিস্তা নদীর খামখেয়ালি স্রোতের ওপর স্থাপত্যবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে এই ‘আর্চ ব্রিজ’টি দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘বাঘপুল’ নামে পরিচিত কারণ এর প্রবেশমুখে দুটি বিশাল বাঘের মূর্তি রয়েছে। তবে বিগত কয়েক দশকে ভারী যান চলাচল এবং বারবার ভূমিকম্পের ফলে সেতুটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এই ঐতিহ্যবাহী সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ, যা সিকিম ও উত্তরবঙ্গের যোগাযোগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
বর্তমানে করোনেশন ব্রিজের স্বাস্থ্য এতটাই খারাপ যে, যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পাহাড় ও সমতলের সংযোগকারী এই একমাত্র রাস্তাটি মাঝেমধ্যেই মেরামতির জন্য বন্ধ রাখতে হয়। এই সংকট মেটাতেই সেবকের কাছে একটি বিকল্প সেতুর দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এবার রাজু বিস্টের এই ঘোষণা সেই বিকল্প সেতুকে আরও শক্তিশালী ও প্রশস্ত করার ইঙ্গিত দিল। ৬ লেনের এই নতুন হাইওয়ে চালু হলে শুধু পর্যটন নয়, সামরিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও উত্তর-পূর্ব ভারতের দুয়ার আরও চওড়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে।