RG Kar Sandip Ghosh: আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বাড়ির বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ, সময় বেঁধে দিল পুরসভা

RG Kar Sandip Ghosh: কলকাতা পুরসভার ৩ নম্বর বরোর অন্তর্গত ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৮৩ নম্বর বদন রায় লেনে রয়েছে সন্দীপ ঘোষ দম্পতির এই সম্পত্তি। অভিযোগ, বিল্ডিং রুলস ২০০৯-এর ১৩৩ এবং ১৩৪ নম্বর ধারাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ওই বাড়ির ছাদে বেশ কিছু বেআইনি নির্মাণ করা হয়েছিল। এই অপরাধে সন্দীপবাবুদের বিরুদ্ধে পুরসভার ৪০০(১) এবং ৪১৬ নম্বর ধারায় ডিমোলিশন বা ভেঙে ফেলার মামলা রুজু হয়।

Advertisement
আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বাড়ির বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ, সময় বেঁধে দিল পুরসভাআরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বাড়ির বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ, সময় বেঁধে দিল পুরসভা

RG Kar Sandip Ghosh: আরজি কর কাণ্ডে জড়িয়ে আপাতত শ্রীঘরের চার দেওয়ালে বন্দি। কিন্তু তাতেও বিতর্ক ও আইনি জট যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডাঃ সন্দীপ ঘোষের। এবার খোদ কলকাতা পুরসভার (KMC) চরম কোপের মুখে পড়লেন তিনি এবং তাঁর স্ত্রী ডাঃ সঙ্গীতা ঘোষ। তিলোত্তমার বুকেই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাথা তুলেছিল তাঁদের এক বেআইনি নির্মাণ। এবার সেই নকশাবহির্ভূত কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরাসরি কড়া নির্দেশ দিল পুর কর্তৃপক্ষ।

বাদল রায় লেনের বাড়িতে বেআইনি ছাদ! পুরসভার অ্যাকশন
কলকাতা পুরসভার ৩ নম্বর বরোর অন্তর্গত ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৮৩ নম্বর বদন রায় লেনে রয়েছে সন্দীপ ঘোষ দম্পতির এই সম্পত্তি। অভিযোগ, বিল্ডিং রুলস ২০০৯-এর ১৩৩ এবং ১৩৪ নম্বর ধারাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ওই বাড়ির ছাদে বেশ কিছু বেআইনি নির্মাণ করা হয়েছিল। এই অপরাধে সন্দীপবাবুদের বিরুদ্ধে পুরসভার ৪০০(১) এবং ৪১৬ নম্বর ধারায় ডিমোলিশন বা ভেঙে ফেলার মামলা রুজু হয়।

সন্দীপ ঘোষের বাড়ির কী কী প্রধান কারচুপির কথা উল্লেখ করা হয়েছে

বাড়ির ছাদে পুরসভার অনুমতি ছাড়াই প্রায় ৫.৪২৫ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে এবং ২.০৫ মিটার উচ্চতার একটি নতুন কাঠামো বা পারগোলা খাড়া করা হয়েছিল।

ছাদের ওপর লিফটের মেশিন রুমে যাওয়ার জন্য মূল নকশায় কোনও উল্লেখ না থাকলেও বেআইনিভাবে একটি লোহার ঘোরানো সিঁড়ি (spiral stair) বসানো হয়েছিল।

দোতলার লেভেলে যেখানে নিয়মমাফিক দরজা থাকার কথা, সেই দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ করে সেখানে বেআইনিভাবে নতুন ইটের দেওয়াল তুলে দেওয়া হয়েছিল।

sandip ghosh

অভিযোগকারী বনাম সন্দীপ ঘোষ: আদালতে সওয়াল-জবাব
পুরসভা সূত্রে খবর, জনৈক অংশুমান সরকার নামের এক ব্যক্তি সন্দীপ ঘোষের এই বাড়ির বেআইনি কীর্তিকলাপের বিরুদ্ধে পুরসভার কাছে লিখিত অভিযোগ ঠুকেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর পুরসভার পক্ষ থেকে সন্দীপবাবুদের নোটিশও পাঠানো হয়। অবশেষে, গত ১৪ মে, ২০২৬ তারিখে কলকাতা পুরসভার স্পেশাল অফিসার (বিল্ডিং) এস বোরালের এজলাসে এই হাইপ্রোফাইল মামলার চূড়ান্ত শুনানি হয়।

Advertisement

শুনানির সময় একদিকে যেমন উপস্থিত ছিলেন অভিযোগকারী অংশুমানবাবু, তেমনই হাজিরা দেয় অভিযুক্ত পক্ষও। আদালতে অভিযোগকারী স্পষ্ট দাবি জানান, ছাদের ওই বেআইনি পারগোলাটি যেন কোনও অবস্থাতেই রেয়াত না করা হয়। বেগতিক বুঝে অভিযুক্তের তরফে স্বীকার করে নেওয়া হয় যে, পুরসভায় জমা দেওয়া চূড়ান্ত নকশায় (কমপ্লিশন প্ল্যান) এই নির্মাণের কোনও উল্লেখ ছিল না। আত্মপক্ষ সমর্থনে তারা দাবি করে, বাড়ির সংস্কার কাজ চলার সময় আগামী দু’মাসের মধ্যে তারা নিজেরাই এটি সরিয়ে নেবে।

পুরসভার কড়া নির্দেশ: কিন্তু পুরসভার স্পেশাল অফিসার এস বোরাল এই টানাপড়েনে আর জল ঢালতে চাননি। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ছাদের ওই বেআইনি নির্মাণ সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে।

সিবিআই ও ইডির জালে জড়িয়ে সন্দীপ ঘোষ বর্তমানে জেল খাটলেও, কলকাতার বুকে তাঁর এই বেআইনি সম্পত্তি ভাঙার নির্দেশ ঘিরে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে পুরসভার অন্দরে তথা রাজনৈতিক মহলে।

 

POST A COMMENT
Advertisement