মালদা ক্রীড়া সংস্থায় কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ সম্পাদক TMC-র কৃষ্ণেন্দুর বিরুদ্ধেরাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতেই এবার মালদার দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা মালদা জেলা ক্রীড়া সংস্থার (DSA) সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা তছরুপের গুরুতর অভিযোগ উঠল। বর্তমান ইংলিশ বাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান তথা রাজ্য তৃণমূলের সহ-সভাপতি কৃষ্ণেন্দুবাবু ২০২১ সালের শেষ দিক থেকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর আমলেই ডিএসএ-তে দেদার আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই মারাত্মক অভিযোগ তুলে সরাসরি মালদার জেলাশাসকের কাছে লিখিত নালিশ ঠুকলেন জেলার প্রাক্তন খেলোয়াড়দের একাংশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদার ক্রীড়া জগত থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
জেলাশাসকের কাছে জমা পড়া অভিযোগে অত্যন্ত বিস্ফোরক সব তথ্য তুলে ধরেছেন প্রাক্তন ক্রীড়াবিদরা। তাঁদের দাবি, ক্রীড়া সংস্থার মূল্যবান জায়গায় কোনো রকমের সরকারি টেন্ডার ডাকার তোয়াক্কা না করেই বেআইনিভাবে একাধিক পাকা নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নিয়ম বহির্ভূতভাবে তৈরি সেই সব ঘর ও দোকান চড়া দামে নিজের ঘনিষ্ঠদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন খোদ সম্পাদক। এখানেই শেষ নয়, ডিএসএ-র পার্কিং জোন থেকে প্রতিদিন যে বিপুল অঙ্কের টাকা সংগৃহীত হতো, সরকারি খাতায় তার কোনো হিসাব বা হদিশ নেই। অভিযোগ, খেলার পরিবেশ সম্পূর্ণ নষ্ট করে সংস্থার মাঠ ও ফাঁকা জায়গা বিভিন্ন সময়ে মোটা টাকার বিনিময়ে বিয়ে বা অন্য অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়া হতো এবং সেই ভাড়ার বিপুল টাকাও সরাসরি আত্মসাৎ করা হয়েছে। রাজ্যে সরকার বদলাতেই এতদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দিয়ে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন প্রাক্তন খেলোয়াড়রা।
এই দুর্নীতি প্রসঙ্গে ঘৃতাহুতি দিয়েছেন খোদ মালদা ক্রীড়া সংস্থার কোষাধ্যক্ষ। তিনি কার্যত সংস্থায় চলা অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার কথা অবলীলায় স্বীকার করে নিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁর বিস্ফোরক দাবি, প্রবল চাপ ও হুমকির মুখে পড়ে বাধ্য হয়েই অতীতে তাঁকে বিভিন্ন সন্দেহজনক চেকে সই করতে হয়েছিল। কোষাধ্যক্ষের এই স্বীকারোক্তির পর কৃষ্ণেন্দুবাবুর ওপর চাপ যে কয়েক গুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন পোড়খাওয়া রাজনীতিক কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে পাল্টা জবাবে তিনি বলেন, “সংস্থার রেজুলেশন বা নিয়ম-কানুন মেনেই সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো লুকোছাপা নেই। আমি যে কোনও ধরনের সরকারি বা আইনি তদন্তের মুখোমুখি হতে এক পায়ে প্রস্তুত।” এখন দেখার, নতুন সরকারের জমানায় জেলা প্রশাসন এই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।