নার্সরা আসছেন না, কোচবিহারের হাসপাতালে তালা ঝোলালেন ক্ষুব্ধ চিকিৎসকরাRampur Health Center lock News: এক সময় যে স্বাস্থ্য কেন্দ্র জাতীয় স্তরের স্বীকৃতি পেয়েছিল, আজ সেখানেই পরিষেবা কার্যত লাটে ওঠার জোগাড়। নার্সদের দিনের পর দিন অনুপস্থিতিতে অতিষ্ঠ হয়ে খোদ চিকিৎসকরাই এবার অন্তবিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে দিলেন। রবিবার তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের রামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই বেনজির ঘটনায় উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পরিষেবা বন্ধের প্রতিবাদে হাসপাতালের গেটে পোস্টার সেঁটে প্রতিবাদ জানান ক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, রামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বর্তমানে ৬ জন নার্স ও ২ জন চিকিৎসক রয়েছেন। অভিযোগ, বেশ কিছুকাল ধরে নার্সদের একাংশ নিয়মিত কাজে আসছেন না। রবিবার ডিউটি থাকা সত্ত্বেও কোনও নার্স কাজে যোগ দেননি। দিনের পর দিন নার্সদের এই অসহযোগিতা ও অনুপস্থিতির জেরে কার্যত দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল কর্তব্যরত চিকিৎসকদের। তাঁদের দাবি, মাত্র দু’জন চিকিৎসকের পক্ষে নার্স ছাড়াই অন্তবিভাগ বা ইনডোর সামলানো অসম্ভব। এক প্রকার নিরুপায় হয়েই এদিন হাসপাতালের গেটে তালা দিতে বাধ্য হন তাঁরা।
জাতীয় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হাসপাতালে এমন নজিরবিহীন অচলাবস্থায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ। রবিবার সকাল থেকে চিকিৎসার আশায় এসে হাসপাতালের গেটে তালা ঝুলতে দেখে ফিরে যেতে হয় রোগী ও তাঁদের পরিজনদের। এই প্রত্যন্ত এলাকায় রামপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রই ভরসা স্থানীয়দের। পরিষেবা বন্ধ হওয়ায় অনেককেই অন্তত ২০ কিলোমিটার দূরের কামাখ্যাগুড়ি হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। এক গ্রামবাসীর ক্ষোভ, “যেই হাসপাতাল পুরস্কার পায়, সেখানেই এমন অরাজকতা চলে কী করে?”
চিকিৎসকদের এই চরম পদক্ষেপের পর গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খবর লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের গেটে তালা ঝুলছে এবং অভিযুক্ত নার্সদের তরফে কোনও সাফাই পাওয়া যায়নি। গোটা বিষয়টি ইতিমধ্যে তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের স্বাস্থ্য প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। কেন জাতীয় স্তরের একটি হাসপাতালে নার্সরা এমন বেনিয়ম চালাচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে ব্লক স্বাস্থ্য দফতর। এখন দেখার, কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে রামপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিষেবা কবে স্বাভাবিক হয়।