Siliguri SMC News: গৌতমের হারের অ্যাকশন শুরু শিলিগুড়িতে, মেয়র পারিষদ থেকে অপসারিত বিদ্রোহী দিলীপDilip Barman removed from MMIC: ভোট মিটতেই কি তবে হিসাব মেলাতে শুরু করল জোড়াফুল শিবির? শিলিগুড়ি পুরনিগমের অন্দরে কান পাতলে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মেয়র পারিষদ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিলীপ বর্মনকে। খোদ মেয়র গৌতম দেব নিজেই এই কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলের অন্দরে থেকেই মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তোপ দেগে যে অস্বস্তি দিলীপবাবু তৈরি করেছিলেন, পদ খুইয়ে তারই মাশুল দিতে হলো বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
বিদ্রোহের মাশুল
২০২২ সালে শিলিগুড়ি পুরনিগমে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রেড লাইসেন্স ও ‘হাউসিং ফর অল’ বিভাগের গুরুদায়িত্ব ছিল দিলীপ বর্মনের কাঁধে। কিন্তু মেয়রের সঙ্গে তাঁর অম্লমধুর সম্পর্ক খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মেয়র গৌতম দেব ও ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকারের বিরুদ্ধে অবৈধ নির্মাণে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলে বারবার সরব হয়েছেন তিনি। এমনকি পুরনিগমের বোর্ড মিটিংয়েও দলের নেতাদের বিঁধতে ছাড়েননি তিনি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, একবার তাঁকে বৈঠক থেকে বের পর্যন্ত করে দেওয়া হয়েছিল। তবুও নিজের অবস্থান থেকে একচুল নড়েননি এই কাউন্সিলর।
ভোটের সমীকরণ ও অপসারণ
প্রশ্ন উঠছে, ব্যবস্থা নিতে কেন এত দেরি করল দল? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নির্বাচনের আগে রাজবংশী ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণ এবং দলীয় সংহতির কথা মাথায় রেখেই তাঁকে শুধুমাত্র ‘শোকজ’ করে থামিয়ে রাখা হয়েছিল। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে দলের হয়ে তাঁর প্রচারেও তেমন তেজ দেখা যায়নি। যদিও শেষবেলায় মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ও শিলিগুড়ির প্রার্থীদের হয়ে কিছুটা ময়দানে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু ফল বেরোতেই পাল্টে গেল ছবিটা। শিলিগুড়িতে দলের ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই নেতৃত্বের রোষের মুখে পড়লেন দিলীপবাবু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনে রাশ শক্ত করতেই এই অবাধ্যতার ফল হাতেনাতে বুঝিয়ে দিলেন মেয়র।