Suvendu Adhikari Uttarkanya Meeting: প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, ২০ উত্তরকন্যায় বৈঠক

Suvendu Adhikari Uttarkanya Meeting: আগামী ২০ মে উত্তরের পাঁচ জেলা নিয়ে সেখানে শুভেন্দুর মেগা প্রশাসনিক বৈঠক হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর তার প্রস্তুতি হিসেবেই শনিবার থেকে শিলিগুড়িতে জোরকদমে পর্যালোচনা বৈঠকে বসছেন সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলা শাসকরা।

Advertisement
প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, ২০ উত্তরকন্যায় বৈঠকSuvendu Adhikari Uttarkanya Meeting: প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, ২০ উত্তরকন্যায় বৈঠক

Suvendu Adhikari Uttarkanya Meeting: উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা দূর করতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কাকতালীয়ভাবে, উত্তরবঙ্গের জন্য প্রশাসনিক বৈঠকের রণক্ষেত্র হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন তাঁর চরম রাজনৈতিক বিরোধী তথা পূর্বসূরী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি সাধের ‘উত্তরকন্যা’ ভবনকেই। কলকাতার বাইরে উত্তরবঙ্গের মানুষের সুবিধার্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রশাসনিক ভবনটি তৈরি করলেও, সেখানে স্থায়ীভাবে কোনও দফতর স্থানান্তরিত হয়নি। ফলে ভবনের মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়েছিল বলে বিভিন্ন সময় মত দিয়েছিলেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এবার সেই উত্তরকন্যাকেই পুরোদমে সচল করতে চলেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২০ মে উত্তরের পাঁচ জেলা নিয়ে সেখানে শুভেন্দুর মেগা প্রশাসনিক বৈঠক হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর তার প্রস্তুতি হিসেবেই শনিবার থেকে শিলিগুড়িতে জোরকদমে পর্যালোচনা বৈঠকে বসছেন সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলা শাসকরা।

উত্তরবঙ্গের বঞ্চনার ইস্যুটিকে প্রতিবারের মতো ’২৬-এর বিধানসভা ভোটেও অন্যতম প্রধান হাতিয়ার করেছিল বিজেপি। পদ্ম শিবিরের নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সংকল্পপত্র’-এ বঞ্চনা ঘোচাতে ঢালাও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনী প্রচারে এসে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উত্তরবঙ্গের অনুন্নয়ন নিয়ে বারবার সরব হয়েছিলেন এবং রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার হলে সমস্ত অভিযোগ দূর হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পরেই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে রাঢ়বঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বঞ্চনার বিষয়টি মনে করিয়ে দেয়। সেই কারণেই তড়িঘড়ি আগামী ২০ মে উত্তরবঙ্গ এবং ২১ মে রাঢ়বঙ্গের জন্য প্রশাসনিক বৈঠকের দিন নির্দিষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরবঙ্গের এক উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিক জানিয়েছেন, ২০ মে উত্তরকন্যায় পাঁচ জেলা নিয়ে এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকটি হতে চলেছে।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর এই মেগা বৈঠকে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের বিধায়করা ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন পাঁচ জেলার জেলা শাসক, পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার ও শীর্ষ স্তরের প্রশাসনিক আধিকারিকরা। বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেতে চলেছে উত্তরবঙ্গের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি। যার মধ্যে রয়েছে, বর্ষা ও নদীভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং চা বাগানের সামগ্রিক দুরবস্থা।

Advertisement

বিজেপির উত্তরবঙ্গের পুনর্নির্বাচিত এক বিধায়কের কথায়, “আমরা সংকল্পপত্রে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে মানুষের কাছে আমরা দায়বদ্ধ। প্রতিশ্রুতি রক্ষার সেই ঐতিহাসিক সূচনা হতে চলেছে ২০ মে’র প্রশাসনিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে।” একই সুরে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মনের বক্তব্য, “উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো অভিযোগ না ওঠে, সেদিকে নজর রেখেই সমস্ত কাজ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা সংকল্প পালনে কাজ করব। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন।” উল্লেখ্য, রথীন্দ্রনাথ বসুকে বিধানসভার অধ্যক্ষ করে বিজেপি ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গকে বড় প্রতিদান দেওয়ার বার্তা দিয়ে রেখেছে।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই মূল বৈঠকের আগে শনিবার দুপুর থেকেই শিলিগুড়ির স্টেট গেস্টহাউসে সমতলের তিন বিধায়কের পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে এক জরুরি প্রস্তুতি ও পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন দার্জিলিংয়ের জেলা শাসক হরিশংকর পানিক্কর। তাঁর পৌরোহিত্যে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সমতলের তিন বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, আনন্দময় বর্মণ এবং দুর্গা মুর্মু। মূলত শিলিগুড়ি, ফাঁসিদেওয়া ও মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির আটকে থাকা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প এবং নতুন কিছু পরিকল্পনা নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ঠিক কোন কোন কাজগুলি আগে করা প্রয়োজন, সে সম্পর্কে বিধায়কদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ও রূপরেখা চেয়েছেন জেলা শাসক।

 

POST A COMMENT
Advertisement