মহিলাকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতার রায়গঞ্জের TMC কাউন্সিলর, TMC Councillor Bapi Saha Arrested Raiganj: তোলাবাজি, জমি মাফিয়াগিরি থেকে শুরু করে এক মহিলা ব্যবসায়ীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি, একাধিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে এবার শ্রীঘরে ঠাঁই হলো শাসকদলের হেভিওয়েট নেতার। রায়গঞ্জ পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা এলাকার দাপুটে নেতা অভিজিৎ সাহা ওরফে বাপি সাহাকে গ্রেফতারের পর এবার তিন দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিল আদালত। শনিবার ধৃতকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক তদন্তের স্বার্থে এই নির্দেশ দেন। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) আইনের একাধিক মারাত্মক ও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে অত্যন্ত বিস্ফোরক সব তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অভিজিৎ সাহা ওরফে বাপির বিরুদ্ধে এক মহিলাকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি আইনজীবী নীলাদ্রি সরকার এই প্রসঙ্গে বলেন, “ধৃতদের বিরুদ্ধে এক মহিলাকে আত্মহত্যার প্ররোচনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থে এবং সত্য উদঘাটনে ধৃতের ৩ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।”
এই গ্রেফতারি নাটকের নেপথ্যে রয়েছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে খবর, রায়গঞ্জের এক মহিলা ব্যবসায়ী এই দাপুটে কাউন্সিলরকে তোলা দিতে পরিষ্কার অস্বীকার করেন। আর তাতেই মারাত্মক চটে যান বাপি সাহা। অভিযোগ, তোলা দিতে অমত করায় ওই মহিলা ব্যবসায়ীর দোকানে অতর্কিতে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। শুধু তাই নয়, খোদ ওই মহিলাকে বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানিও করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রায়গঞ্জ থানায় লিখিত নালিশ জমা পড়তেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাপিকে রায়গঞ্জ থানায় ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় অবশেষে শুক্রবার সকালে তাঁকে হাতেনাতে গ্ৰেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলর তথা জমি মাফিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনের ৩২৯ (৩), ৩২৯(৪), ১২৬ (২), ১১৫ (২), ৭৪, ১০৯(১), ৩০৩(২), ৩২৪(৪), ৩৫১(২) এবং ৩০V (৩০৫) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মধ্যে শ্লীলতাহানি, চুরি, ছিনতাই, প্রাণে মারার চেষ্টা থেকে শুরু করে গুরুতর জখম করার মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারা রয়েছে। একসময় যার দাপটে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত, সেই প্রাক্তন কাউন্সিলরের এমন কীর্তি ও আদালতের নির্দেশে লক-আপ যাত্রা নিয়ে এখন তীব্র শোরগোল রায়গঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে।