Hemtabad TMC Leader Arrest: জাত তুলে হিন্দু মহিলাকে 'গালি', গ্রেফতার TMC নেতা মাজিবুর

তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারির খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষত, ধৃত মজিবুর রহমানের স্ত্রী সেলিনা খাতুন হলেন উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের বর্তমান ভূমি কর্মাধ্যক্ষ। ফলে খোদ জেলা পরিষদের প্রভাবশালী নেত্রীর স্বামীর এই কীর্তি ও পুলিশের হাতে বন্দি হওয়ার ঘটনায় গোটা জেলা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

Advertisement
জাত তুলে হিন্দু মহিলাকে 'গালি', গ্রেফতার TMC নেতা মাজিবুরHemtabad TMC Leader Arrest: চাকরির টোপে প্রতারণা, মহিলাকে জাত তুলে হেনস্থা, হেমতাবাদে গ্রেফতার দাপুটে TMC নেতা

একদিকে সরকারি চাকরির লোভ দেখিয়ে বেকার যুবকদের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাহাড়প্রমাণ জালিয়াতি, অন্যদিকে ক্ষমতার দম্ভে এক গৃহবধূকে জাত তুলে চরম অবমাননা। জোড়া অভিযোগে গ্রেফতার উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান। অবশেষে আইনের জালে ধরা পড়ল এই দাপুটে শাসক নেতা। শনিবার পুলিশ তাকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (Raiganj Court) তুললে বিচারক অভিযুক্তকে সোজা ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। নেতার ঠাঁই এখন শ্রীঘরে।

তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারির খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষত, ধৃত মজিবুর রহমানের স্ত্রী সেলিনা খাতুন হলেন উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের বর্তমান ভূমি কর্মাধ্যক্ষ। ফলে খোদ জেলা পরিষদের প্রভাবশালী নেত্রীর স্বামীর এই কীর্তি ও পুলিশের হাতে বন্দি হওয়ার ঘটনায় গোটা জেলা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

এলাকার মানুষের অভিযোগ, মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সেচ দপ্তরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা লুটে নেওয়ার কারবার চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। অসহায় বেকারদের সরকারি চাকরির ভুয়ো স্বপ্ন দেখিয়ে এই শাসক নেতা দিনের পর দিন লক্ষ লক্ষ টাকা পকেটে পুরছিলেন। সর্বস্ব খোয়ানো ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁদের কপালে জুটত শুধুই নেতার চ্যালাচামুণ্ডাদের হুমকি ও গালিগালাজ। অবশেষে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া কিছু মানুষ পুলিশের দ্বারস্থ হন। তাঁদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই হেমতাবাদ থানার পুলিশ ওই নেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা) এবং ৪০৬ (विश्वासभंग বা বিশ্বাসভঙ্গ) ধারায় একটি সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির মামলা রুজু করে।

তবে পাপের ঘড়া এখানেই পূর্ণ হয়নি। আর্থিক কেলেঙ্কারির পাশাপাশি এই নেতার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অহংকারে অন্ধ হয়ে এক গৃহবধূকে সামাজিক ও জাতিগতভাবে চরম হেনস্থা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার হেমতাবাদেরই এক স্থানীয় মহিলাকে জাত তুলে অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষায় গালিগালাজ করেন এই তৃণমূল নেতা। ওই নিগৃহীতা মহিলা দমে না গিয়ে সোজা হেমতাবাদ থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশও দেরি না করে কড়া এসসি/এসটি (SC/ST) অ্যাক্ট অর্থাৎ তফসিলি জাতি ও উপজাতি নির্যাতন বিরোধী আইনে মজিবুরের বিরুদ্ধে আরও একটি নতুন মামলা ঠুকে দেয়।

Advertisement

হেমতাবাদ থানার আইসি সুজিত লামা এই হাইপ্রোফাইল গ্রেফতারি প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বর্তমানে যে দুটি সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ পুলিশের হাতে এসেছে, তার ভিত্তিতেই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, নেতার খাঁচাবন্দি হওয়ার খবর পেতেই তাঁর বিরুদ্ধে আরও একাধিক আর্থিক তছরুপ ও জুলুমবাজির অভিযোগ থানায় জমা পড়তে শুরু করেছে। আইসি আরও জানান, নেতার লাল চোখের ভয়ে সাধারণ মানুষ এতদিন প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছিলেন না, এখন তারা এগিয়ে আসছেন।

এদিকে এই ঘটনা সামনে আসতেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে বিরোধী শিবির। তাঁরা এই জালিয়াতিকে তৃণমূলের মজ্জাগত ও রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা দুর্নীতির আরও একটি জীবন্ত প্রমাণ হিসেবে দেগে দিয়ে সুর চড়াতে শুরু করেছে। শাসক দলের অন্দরের এই কেলেঙ্কারি নিয়ে এখন জেলা জুড়ে তুমুল তরজা। অন্যদিকে, প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পর থেকে নিগৃহীতা ও প্রতারিতদের নিরাপত্তা নিয়ে যেমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তেমনই পুলিশি তদন্তের জল আগামী দিনে কতদূর গড়ায়, সেদিকেই এখন চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছেন হেমতাবাদের আমজনতা।

 

POST A COMMENT
Advertisement