দিনহাটায় পুরসভার দুর্নীতির অভিযোগ, TMC নেত্রী মৌমিতা গ্রেফতার, প্রাক্তন পুরপ্রধানের বাড়িতে তল্লাশিDinhata Municipality Building Plan Scam: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতেই এবার উত্তরবঙ্গের দুর্নীতিগ্রস্ত হেভিওয়েটদের খাঁচায় পুরতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামল পুলিশ প্রশাসন। দিনহাটা পুরসভার বহুচর্চিত ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যান পাশ কেলেঙ্কারিতে অবশেষে প্রথম বড়সড় গ্রেফতারি সারল দিনহাটা থানার পুলিশ। শনিবার পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন দিনহাটা পুরসভার কর্মী তথা দাপুটে তৃণমূল নেত্রী ও উদয়ন গুহ ঘনিষ্ঠ মৌমিতা ভট্টাচার্য। তবে এখানেই শেষ নয়, এই মেগা দুর্নীতির শিকড় ও উৎস খুঁজতে এদিনই পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা গৌরিশংকর মাহেশ্বরীর বাড়িতেও একযোগে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে হানা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিকেলে পুরসভার কাজ শেষ করে যখন বাড়ি ফিরছিলেন মৌমিতা ভট্টাচার্য, ঠিক তখনই মেইনরোডে ওত পেতে থাকা পুলিশ বাহিনী তাঁকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। মৌমিতাকে লক-আপে পুরেই কালবিলম্ব না করে প্রাক্তন পুরপ্রধান গৌরিশংকরের বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রায় ঘণ্টা খানেক ধরে গোটা বাড়ি তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালানো হলেও প্রাক্তন চেয়ারম্যানের দেখা মেলেনি। পুলিশের জোরালো অনুমান, বেগতিক বুঝে এবং গ্রেফতারি এড়াতে আগেই পিছনের দরজা দিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন ওই তৃণমূল নেতা। তবে বাড়িতে তাঁকে না পাওয়া গেলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর দুই মেয়েকে আটক করে দিনহাটা থানায় নিয়ে এসেছে পুলিশ।
এই হাইপ্রোফাইল অ্যাকশন প্রসঙ্গে দিনহাটার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) প্রশান্ত দেবনাথ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “দিনহাটা পুরসভার ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যান পাশ কাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মৌমিতা ভট্টাচার্য নামে এক পুরকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বাড়িতেও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে, তবে তিনি পলাতক।” তদন্তের স্বার্থে ও বাকি অভিযুক্তদের ধরার তাগিদে এর চেয়ে বেশি কিছু এখনই খোলসা করতে চায়নি পুলিশ প্রশাসন।
এদিকে এই বড়সড় পুলিশি অভিযানের পরই তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন দিনহাটার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক অজয় রায়। তাঁর সাফ কথা, “আগে পুলিশ পূর্বতন শাসকদল দ্বারা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ছিল, তাই চোর-দুর্নীতিবাজরা বুক ফুলিয়ে ঘুরত। কিন্তু বর্তমান নতুন সরকার পুলিশকে মুক্ত হাতে এবং স্বাধীনভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করতে বলেছে। তারই প্রথম ঝলক বা ফল স্বরূপ আজকের এই গ্রেপ্তারি। দিনহাটা পুরসভার দুর্নীতির সঙ্গে যাদের যাদের নাম জড়িয়ে রয়েছে, আগামী দিনে তাঁদের সকলকেই হাজতে পোরা হবে। কেউ রেহাই পাবে না। আমাদের নতুন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে।”
উল্লেখ্য, দিনহাটা পুরসভার এই ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যান দুর্নীতি নিয়ে এর আগেও একবার পুলিশ তদন্তে নেমেছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে মাঝপথেই সেই তদন্তের গতি ফাইলবন্দি হয়ে থমকে যায়। এমনকি পুলিশ নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে চার্জশিট জমা না দেওয়ায় সে যাত্রায় জামিন পেয়ে বুক ফুলিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত তিন পুরকর্মী। সেই সময় পুলিশের এই রহস্যজনক নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে তীব্র সরব হয়েছিল তৎকালীন বিরোধী দলগুলি। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের মাত্র ১২ দিনের মাথায় ধুলো জমা সেই থিতিয়ে পড়া ফাইল পুনরায় খোলায় এবং পুলিশ এমন কড়া অ্যাকশন শুরু করায় দিনহাটার সাধারণ মানুষ ও নাগরিক মহলে খুশির হাওয়া।