প্রতীকী ছবিTMC leader Mollestation Raiganj: উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ থানার বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠল স্থানীয় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। শাসকদলের এই দাপুটে নেতা বিন্দোল হাই মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হিসেবেও এলাকায় পরিচিত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে রায়গঞ্জ মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বছর কুড়ির ওই নির্যাতিতা। অভিযোগ পাওয়ার পরেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
অভিযোগের বয়ান অনুযায়ী, ওই তরুণী গৃহবধূর ওপর দীর্ঘদিন ধরেই কুনজর ছিল অভিযুক্ত তসলিম আলির। শুক্রবার দুপুরে যখন নির্যাতিতার স্বামী জমিতে কাজে গিয়েছিলেন, সেই সুযোগে অভিযুক্ত আচমকা তাঁদের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। বধূটি যখন বাড়ির শৌচাগারে স্নান করতে গিয়েছিলেন, তখন তসলিম সেখানে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ। বধূর আর্তচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এলাকা ছেড়ে পালায় অভিযুক্ত নেতা।
নির্যাতিতার দাবি, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গতকাল রাতেই এলাকায় একটি সালিশি সভা বসানো হয়েছিল। সেখানে ওই পরিবারকে পুলিশে অভিযোগ না জানানোর জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি থানায় গেলে দম্পতিকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো এবং প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে সমস্ত ভয় ও সামাজিক চাপ উপেক্ষা করেই এদিন রায়গঞ্জ মহিলা থানার দ্বারস্থ হন ওই বধূ। এলাকাবাসীর একাংশের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজ্যের মন্ত্রী সত্যজিৎ বর্মনের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এলাকায় যথেষ্ট প্রভাব খাটান।
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সংবাদমাধ্যমের কাছে অস্বীকার করেছেন তসলিম আলি। তাঁর পাল্টা দাবি, পুরনো কোনও শত্রুতার জেরে মারধরের ঘটনা ঘটলেও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। বর্তমানে অভিযুক্ত নেতা পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনের ধর্ষণের চেষ্টা সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।