হারের পর অভিষেকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ TMC-তে, সরব মালদার কৃষ্ণেন্দু-শিলিগুড়ির পাপিয়ারাKrishnendu Narayan Chowdhury Papiya Ghosh Attacks Abhishek Banerjee: নবান্ন হাতছাড়া হতেই তৃণমূলের অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভের বারুদ এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফাটতে শুরু করেছে। খোদ দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর প্রিয়পাত্র ‘আইপ্যাক’-এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন মালদা ও শিলিগুড়ির দুই দাপুটে নেতা। তাঁদের সাফ কথা, দলটা এখন আর মানুষের নেই, হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘মালিক-চাকর’ ও ‘কর্পোরেট’ হাউজের আখড়া।
ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী সরাসরি তোপ দেগেছেন অভিষেকের বিরুদ্ধে। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, “একজন ব্যক্তি দলটাকে তিলে তিলে শেষ করে দিলেন, তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।” কৃষ্ণেন্দুবাবুর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের ভেতর ‘ধৃতরাষ্ট্র’ করে রাখা হয়েছিল। টিভিতে নেত্রীর লাঞ্ছনার দৃশ্য দেখে ব্যথিত এই প্রবীণ নেতা বলেন, “মমতাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এমন দৃশ্য রাজনৈতিক জীবনে দেখিনি।” প্রার্থী বাছাই নিয়ে অভিষেককে একহাত নিয়ে তাঁর কটাক্ষ, হরিশ্চন্দ্রপুরে এমন একজনকে টিকিট দেওয়া হয়েছে যাঁর ভাষাজ্ঞান নেই, আবার রতুয়ায় দাঁড়িয়েছেন ৮৪ বছরের এক অশক্ত বৃদ্ধ। এই ভুল সিদ্ধান্তের মাসুলই দিচ্ছে দল।
ক্ষোভের আঁচ কম নয় শিলিগুড়ির প্রাক্তন জেলা সভানেত্রী পাপিয়া ঘোষ দলের অন্দরে ‘দাসত্ব’ করার অভিজ্ঞতায় সরব হয়েছেন। তাঁর তির্যক মন্তব্য, “তৃণমূলে আমরা ছিলাম স্রেফ চাকর। দল চলেছে মালিক আর চাকরের সমীকরণে।” পাপিয়ার দাবি, বাংলার মানুষ তৃণমূলকে নয়, বরং দলের দাম্ভিক নেতাদের অহংকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। হারের জন্য তিনি সরাসরি আইপ্যাকের ‘দাদাগিরি’কে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আইপ্যাকের হাতে অসীম ক্ষমতা থাকায় রাজ্যস্তরের নেতারা কার্যত পুতুলে পরিণত হয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়াকড়িতে আইপ্যাকের ‘ছক’ আর খাটেনি বলেই উত্তরবঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের এই শোচনীয় পতন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মালদহ ও শিলিগুড়ির এই বিদ্রোহ কেবল হিমশৈলের চূড়া মাত্র। একদিকে কর্পোরেট সংস্কৃতি আর অন্যদিকে প্রবীণদের ব্রাত্য করে রাখা, এই দুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েই যে বাংলার মসনদ হারাতে হলো তৃণমূলকে, তা এখন ঘরোয়া কোন্দলেই স্পষ্ট। এখন দেখার, এই ‘গৃহযুদ্ধ’ থামাতে কালীঘাট কোন দাওয়াই দেয়।