Kurseong-Darjeeling Ropeway: কালিম্পং-গ্যাংটকও রোপওয়ে হয়ে যাবে? কার্শিয়াং-দার্জিলিং প্রকল্পের মধ্যেই বড় আপডেট

বর্ষাকালে তিস্তার জল বেড়ে দীর্ঘ সময় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। এছাড়া ধস নেমেও এই রাস্তা অনেক সময় বন্ধ হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে কালিম্পং থেকে গ্যাংটক রোপওয়ে হয়ে গেলে, ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বাধা-বিপত্তির মুখে পড়তে হবে না। রোপওয়ে ব্যবহার করে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যাবে সিকিম।

Advertisement
কালিম্পং-গ্যাংটকও রোপওয়ে হয়ে যাবে? কার্শিয়াং-দার্জিলিং প্রকল্পের মধ্যেই বড় আপডেটদার্জিলিংয়ের রোপওয়ে- গেটি ইমেজ
হাইলাইটস
  • কার্শিয়াং-দার্জিলিঙের পর কালিম্পং-গ্যাংটক রোপওয়ে
  • খুব শীঘ্রই টেন্ডার ডাকবে নবান্ন
  • রোপওয়েতে ৫টি স্টেশনও থাকবে

কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং যাওয়ার রাস্তায় দীর্ঘ ট্র্যাফিক জ্যাম পাননি, এমন পর্যটক কমই রয়েছেন। শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং পৌঁছতে বেশি বেগ পেতে হয় না। কিন্তু কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পৌঁছতে কালঘাম ছুটে যায়। ৪০ মিনিটের রাস্তা পেরোতে প্রায় ৫ ঘণ্টাও লেগে যেতে পারে। 

কার্শিয়াং-দার্জিলিঙের পর কালিম্পং-গ্যাংটক রোপওয়ে

এই দুর্ভোগ থেকে এ বার রক্ষা মিলবে পর্যটকদের। কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত রোপওয়ে তৈরির প্ল্যান রেডি করে ফেলল রাজ্য সরকার। কার্শিয়াং থেকে মাত্র ৪০ মিনিটে রোপওয়ে পৌঁছে দেবে দার্জিলিঙে। কার্শিয়াং-দার্জিলিং রোপওয়ে প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে কালিম্পং থেকে সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকও রোপওয়ে করার প্ল্যান রয়েছে। বর্ষাকালে তিস্তার জল বেড়ে দীর্ঘ সময় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। এছাড়া ধস নেমেও এই রাস্তা অনেক সময় বন্ধ হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে কালিম্পং থেকে গ্যাংটক রোপওয়ে হয়ে গেলে, ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বাধা-বিপত্তির মুখে পড়তে হবে না। রোপওয়ে ব্যবহার করে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যাবে সিকিম।

দার্জিলিঙের প্রকৃতি -- গেটি ইমেজ
দার্জিলিঙের প্রকৃতি -- গেটি ইমেজ

খুব শীঘ্রই টেন্ডার ডাকবে নবান্ন

দার্জিলিং-কার্শিয়াং প্রস্তাবিত এই রোপওয়ে প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। রাজ্য সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্য খরচ প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা। পুরো প্রকল্পটি তৈরি ও পরিচালিত হবে ‘বিল্ড, ওন, অপারেট, ট্রান্সফার’ বা BOT মডেলে।  অর্থাৎ, বেসরকারি সংস্থা নিজেদের বিনিয়োগে রোপওয়ে তৈরি করবে এবং নির্দিষ্ট সময়, সম্ভবত ১০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত, সেটি পরিচালনা করবে। সেই সময়ের আয় থেকে বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার পর চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে পরিকাঠামো রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ফলে প্রকল্পটির জন্য সরাসরি সরকারি কোষাগার থেকে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করার প্রয়োজন হবে না। খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের জন্য বেসরকারি সংস্থা বাছাই করতে টেন্ডার ডাকার পথে হাঁটতে পারে নবান্ন।

রোপওয়েতে ৫টি স্টেশনও থাকবে

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যটকরা গাড়িতে কার্শিয়াং পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে কেবল কারে দার্জিলিং পৌঁছতে পারবেন। পথে চার থেকে পাঁচটি স্টেশন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই সোনাদা, টুংয়ের মতো পাহাড়ি এলাকার মানুষও এই পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন। প্রস্তাবিত রোপওয়ের ব্যবহার শুধু যাত্রী পরিবহণে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না প্রশাসন। দিনের বেলায় পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা হলেও রাতে একই পরিকাঠামোকে পণ্য পরিবহণের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

Advertisement

আলু, পেঁয়াজ, শাকসবজি থেকে শুরু করে পাহাড়ের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী রোপওয়ের মাধ্যমে দার্জিলিংয়ে পাঠানো যেতে পারে। এতে পাহাড়ি রাস্তায় পণ্যবাহী গাড়ির চাপ কমবে। পাশাপাশি যানজট, জ্বালানি খরচ এবং গাড়ির ধোঁয়া, তিন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কার্শিয়াং ও দার্জিলিংয়ের মধ্যে রোপওয়ের পরিকল্পনা নতুন হলেও পাহাড়ে এই ধরনের প্রকল্পের ভাবনা আগেও হয়েছে। ২০১৪ সালে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কার্সিয়াংয়ের গিদ্দাপাহাড় থেকে রোহিণী পর্যন্ত প্রায় ২.৩ কিলোমিটার রোপওয়ে তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ছিল প্রায় ১৬ কোটি টাকা।

কাজও শুরু হয়েছিল। প্রস্তাবিত ১৬টি টাওয়ারের মধ্যে ১৫টির নির্মাণ শেষ হয়েছিল বলে জানা যায়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব হয়নি। 

POST A COMMENT
Advertisement