Assembly Election 2026: বদলে যাওয়া দার্জিলিং পাহাড়ে ত্রিমুখী সমীকরণ, ২০২৬-এর আগে বাড়ছে জল্পনা

Assembly Election 2026: এর আগে ২০১১ ও ২০১৬ সালে পাহাড়ে মূলত GJM-সহ আঞ্চলিক দলগুলির দাপট ছিল। পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি, পাহাড়ি স্বশাসন ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমঝোতার রাজনীতি তখন ভোটের মূল ইস্যু হয়ে উঠেছিল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপি পাহাড়ে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করে।

Advertisement
দলে যাওয়া দার্জিলিং পাহাড়ে ত্রিমুখী সমীকরণ, ২০২৬-এর আগে বাড়ছে জল্পনাBidhansabha Sabha Election 2026 Darjeeling

Assembly Election 2026: উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি রাজনীতি আবারও চর্চার কেন্দ্রে। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোট যত এগোচ্ছে, ততই দার্জিলিং পাহাড়ের তিন কেন্দ্র দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পং ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক অঙ্ক। ২০২১ সালের ফল, তার পরবর্তী দলবদল এবং আঞ্চলিক শক্তির পুনর্গঠন। সব মিলিয়ে পাহাড়ে এবার লড়াই আগের তুলনায় অনেক বেশি বহুমুখী হতে চলেছে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দার্জিলিং কেন্দ্রে জয়ী হন নীরজ জিম্বা তামাং.যিনি জিএনএলএফ এর সম্পাদক হলেও তিনি বিজেপির প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ান এবং উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে আসনটি ধরে রাখেন। কার্শিয়াং কেন্দ্রে জয়ী হন বিজেপিরই বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বাজগেইন। অন্যদিকে কালিম্পং কেন্দ্রে জয় পান রুদেন সাদা লেপচা। যিনি বিনয় তামাংপন্থী গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (Gorkha Janmukti Morcha) বিনয় গোষ্ঠীর সমর্থনে লড়েছিলেন। ফলে পাহাড়ের তিনটির মধ্যে দু’টি আসন বিজেপির দখলে থাকলেও কালিম্পংয়ে আঞ্চলিক শক্তির প্রভাব স্পষ্ট ছিল।

এর আগে ২০১১ ও ২০১৬ সালে পাহাড়ে মূলত GJM-সহ আঞ্চলিক দলগুলির দাপট ছিল। পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি, পাহাড়ি স্বশাসন ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমঝোতার রাজনীতি তখন ভোটের মূল ইস্যু হয়ে উঠেছিল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপি পাহাড়ে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করে।

তবে ২০২১-পরবর্তী সময়ে সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার দলবদল করে তৃণমূলে (All India Trinamool Congress) এ যোগ দেওয়া রাজনৈতিক অঙ্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তৃণমূল সরাসরি পাহাড়ি আবেগের রাজনীতিতে না থাকলেও প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজকে সামনে রেখে সংগঠন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ গোর্খা নেতৃত্বের বিভক্ত অবস্থায় আগের মতো ঐক্যবদ্ধ সমর্থন ধরে রাখা যাবে কি না।

২০২৬ সালের সম্ভাব্য লড়াইয়ে দার্জিলিং কেন্দ্রে নীরজ তামাং জিম্বা আবার প্রার্থী হতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে। তবে আঞ্চলিক দল বা স্বতন্ত্র গোর্খা নেতৃত্ব ভোটের অঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে। কার্শিয়াংয়ে বিজেপি বনাম তৃণমূলের সরাসরি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সঙ্গে আঞ্চলিক ফ্যাক্টরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কালিম্পংয়ে GJM-সমর্থিত প্রার্থী, বিজেপি ও তৃণমূল তিন শক্তির মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল।

Advertisement

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ে এবার ভোটের মূল ইস্যু হবে স্বশাসন, উন্নয়ন, পর্যটন, কর্মসংস্থান এবং পাহাড়-রাজ্য সম্পর্ক। দলীয় প্রতীক যতটা গুরুত্বপূর্ণ, প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাও ততটাই প্রভাব ফেলবে। ২০২১ সালে বিজেপির স্পষ্ট প্রাধান্য থাকলেও ২০২৬-এ তিন কেন্দ্রেই টানটান লড়াই হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

সব মিলিয়ে দার্জিলিং পাহাড়ের তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র এবার আর একমুখী সমীকরণে নেই। বিজেপির পুরনো প্রভাব, তৃণমূলের বিস্তার কৌশল এবং আঞ্চলিক গোরখা রাজনীতির পুনরুজ্জীবন। এই ত্রিমুখী বাস্তবতাই নির্ধারণ করবে ২০২৬-এর পাহাড়ি ভোটের ফল।

 

POST A COMMENT
Advertisement