অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়Dhupguri Assembly Election 2026: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে পারদ চড়তে শুরু করেছে। এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনকেই বিঁধল শাসকদল তৃণমূল। উত্তরবঙ্গের নির্বাচনী রণকৌশল সাজাতে গিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপি এবং তাদের ‘বি-টিম’ হিসেবে পরিচিত কমিশন বাংলার ভোটের ফল বদলে দিতে অসাধু উপায় অবলম্বন করছে।
বিশেষ করে রাজ্যে আসা নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূলের দাবি, এদের মধ্যে অনেকেই বিজেপির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং কারও কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। চৈত্র মাসের এই তপ্ত আবহাওয়ায় ধূপগুড়ি ও কালচিনি বিধানসভা কেন্দ্রকে পাখির চোখ করে ঘাসফুল শিবিরের এই আক্রমণাত্বক মেজাজ রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
তৃণমূলের পাল্টা দাবি, আসল ‘পর্যবেক্ষক’ হলেন বাংলার সাধারণ মানুষ। কেন্দ্র সরকার যেভাবে বাংলার পাওনা টাকা আটকে রেখেছে, যেভাবে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সাংবিধানিক পদগুলিকে রাজ্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, মানুষ তার সবটাই দেখছেন। বিজেপির দর্প চূর্ণ করতে এবার সাধারণ মানুষই যোগ্য জবাব দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জোড়াফুল শিবির।
বিশেষ করে ধূপগুড়ির প্রার্থী ডাঃ নির্মলচন্দ্র রায় এবং কালচিনির শ্রী বীরেন্দ্র বারার সমর্থনে প্রচার চালাতে গিয়ে জানানো হয়েছে, তাঁদের বাক্সে পড়া প্রতিটি ভোট বিজেপির ওপর ‘বজ্রপাতে’র মতো আছড়ে পড়বে। বাংলার মানুষের ধৈর্যকে বিজেপি যেন তাদের আত্মসমর্পণ ভেবে ভুল না করে, এমন বার্তাও দেওয়া হয়েছে সভা থেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে রাজবংশী ও আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক বড় নির্ণায়ক শক্তি। বংশীবদন বর্মনের মতো নেতাদের দলবদলের আবহে তৃণমূল এখন সরাসরি মানুষের আবেগ এবং কেন্দ্রের বঞ্চনাকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে। বিজেপির বিরুদ্ধে ‘সরাসরি প্রত্যাখ্যান’-এর ডাক দিয়ে ধূপগুড়ি ও কালচিনির মানুষকে সংগঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে শাসকদল। ২০২৬-এর এই বিধানসভা যুদ্ধে উত্তরবঙ্গের মাটিতে শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী হয় এবং মানুষের এই ‘পর্যবেক্ষণ’ ব্যালট বক্সে কী প্রতিফলন ঘটায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।