Malda Electrified Dead 3: এক সেকেন্ডে নিশ্চিহ্ন গোটা পরিবার, মালদায় বজ্রপাতে একসঙ্গে মৃত্যু মা-বাবা ও মেয়ের

Malda Electrified Dead 3: বিকেল চারটে নাগাদ আচমকাই চারদিক কালো মেঘে ঢেকে যায়। শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ তুমুল বৃষ্টি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে ত্রিবন মাঠের আশপাশ এলাকা। বজ্রপাতের তীব্র আলো ও শব্দ মিলিয়ে যেতেই স্থানীয় বাসিন্দারা দেখেন, মাঠের একপ্রান্তে নিথর অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছেন বিশ্বনাথ, পুষ্পা ও তাঁদের মেয়ে নন্দিতা।

Advertisement
এক সেকেন্ডে নিশ্চিহ্ন গোটা পরিবার, মালদায় বজ্রপাতে একসঙ্গে মৃত্যু মা-বাবা ও মেয়েরপ্রতীকী ফাইল ছবি (Photo: Representational)

Malda Electrified Dead 3: বিকেলের কয়েক মুহূর্তের প্রকৃতির রুদ্ররোষ। আর তাতেই চোখের পলকে ছারখার হয়ে গেল একটা গোটা পরিবার। মাঠে কাজ করতে গিয়ে কালান্তক বজ্রাঘাতে একসঙ্গে প্রাণ হারালেন স্বামী, স্ত্রী ও তাঁদের একমাত্র নাবালিকা কন্যা। বৃহস্পতিবার বিকেলে দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারী ব্লকের ব্রজবল্লভপুর বড়োগ্রাম এলাকায় এই মর্মন্তুদ ঘটনাটি ঘটেছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতরা হলেন বিশ্বনাথ সরকার (৩৮), তাঁর স্ত্রী পুষ্পা সরকার (৩০) এবং তাঁদের ১১ বছরের কন্যাসন্তান নন্দিতা সরকার। প্রতিদিনের মতোই বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ নিজেদের বাড়ি থেকে বের হয়ে এলাকার ত্রিবন মাঠে ভুট্টা তুলতে গিয়েছিলেন পরিবারের এই তিনজন। তখন আকাশ স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু কে জানত, প্রকৃতির বুকে ওত পেতে রয়েছে চরম বিপর্যয়!

বিকেল চারটে নাগাদ আচমকাই চারদিক কালো মেঘে ঢেকে যায়। শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ তুমুল বৃষ্টি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে ত্রিবন মাঠের আশপাশ এলাকা। বজ্রপাতের তীব্র আলো ও শব্দ মিলিয়ে যেতেই স্থানীয় বাসিন্দারা দেখেন, মাঠের একপ্রান্তে নিথর অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছেন বিশ্বনাথ, পুষ্পা ও তাঁদের মেয়ে নন্দিতা।

এলাকার মানুষজন ছুটে গিয়ে দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে রশিদপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতালের তিনটি বেডে পাশাপাশি শুয়ে থাকা বাবা, মা ও মেয়ের নিথর দেহ দেখে উপস্থিত হাসপাতাল কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, কেউই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।

এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ঘরে পড়ে রইল পরিবারের একমাত্র শেষ প্রদীপ, ৮ বছরের শিশু সুমন। বিকেল থেকে সে পথ চেয়ে বসেছিল, কখন মাঠের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরবেন বাবা, মা আর আদরের দিদি। কিন্তু সুমনের সেই অপেক্ষা যে চিরদিনের মতো স্তব্ধ হয়ে গেল, তা বোঝার বয়সও এখনও তার হয়নি। প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, বিশ্বনাথ ও পুষ্পা অত্যন্ত শান্ত ও পরিশ্রমী ছিলেন। মেয়ে নন্দিতাও স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করত। এক নিমেষে একটি সাজানো পরিবার এভাবে ধুয়ে-মুছে যাওয়ায় স্তব্ধ গ্রামবাসীরা।

Advertisement

অন্যদিকে, এদিনের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বংশীহারী ব্লকে আরও দু'জন বজ্রাঘাতে জখম হয়েছেন। ব্রজবল্লভপুর পঞ্চায়েত এলাকার আঙ্গারণ গ্রামের বাসিন্দা ডোমাসি সরকার (৩৭) বজ্রপাতে গুরুতর জহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে রশিদপুর হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি, এলাহাবাদ পঞ্চায়েত এলাকার আজিজুর রহমান (২৪) নামে আরেক যুবকও বজ্রাঘাতে জখম হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
 

 

POST A COMMENT
Advertisement