'দক্ষিণবঙ্গের কিছু মানুষ, কিছু নেতা, আর কিছু দালাল উত্তরবঙ্গে যান শুধু লুটপাট করতে' অভিযোগ শমীক ভট্টাচার্যরBJP Form 7 Demand: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়সীমা ঘিরে জোর রাজনৈতিক টানাপোড়েন। সোমবারই ছিল ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার শেষ দিন। এই অবস্থায় রাজ্য বিজেপি নির্বাচন কমিশনের কাছে কমপক্ষে আরও এক সপ্তাহ সময় বাড়ানোর দাবি জানাল। অভিযোগ, খসড়া ভোটার তালিকায় বহু মানুষের নাম নেই, কিন্তু তারা আপত্তি জানানোর চেষ্টা করলেও বেশ কয়েকটি জেলায় নির্বাচন দফতরের কর্তারা ফর্ম ৭ গ্রহণ করছেন না।
বিজেপির অভিযোগ, কখনও অফিস বন্ধ, কখনও আধিকারিকেরা বলছেন প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত, আবার কেউ কেউ সরাসরি ফর্ম না নিয়ে অজুহাত দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির প্রতিনিধি দল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। দলের দাবি, কমিশন আগেই জানিয়েছিল, একজন ভোটার যত ফর্ম ৭ ইচ্ছা জমা দিতে পারেন। আইনে কোনও বাধা নেই। কিন্তু বাস্তবে জেলাগুলিতে কর্মকর্তারা নির্দেশ মানছেন না এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আপত্তির ফর্ম নেওয়া আটকানো হচ্ছে।
বিজেপির আরও অভিযোগ, তৃণমূলের চাপেই জেলা নির্বাচন দফতরগুলি ভোটারদের ফর্ম জমা দিতে দিচ্ছে না, যাতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। বিজেপির আরও দাবি, আগের নির্বাচনের মতো এবারও নকল ভোটারের সাহায্যে সুবিধা পেতে চাইছে তৃণমূল। তবে তৃণমূলের পাল্টা দাবি, বিজেপি কর্মীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ফর্ম ৭ উদ্ধার হয়েছে, যা একসঙ্গে বহু নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। মৃত বা অন্যত্র চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নামে সংগঠিতভাবে ফর্ম জমা দিয়ে ভোটার তালিকা রাজনৈতিকভাবে পাল্টানোর চেষ্টা করছে বিজেপি বলে অভিযোগ তৃণমূলের।
এদিকে বিজেপি নেতারা বলেছেন, সময় বাড়ানো না হলে বহু প্রকৃত ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর সুযোগ পাবেন না। প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন ইচ্ছা করেই ফর্ম নেওয়ার প্রক্রিয়া জটিল করছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সতর্ক করে বলেছেন, বিশেষ সংশোধনের পর একজন প্রকৃত ভোটারের নামও বাদ থাকলে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। তাঁর দাবি, প্রতিটি জেলা নির্বাচন আধিকারিক যেন কোনও রাজনৈতিক চাপে না থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন তা নিশ্চিত করা উচিত কমিশনের।