RSS New Joining Update: নতুন সরকার আসতেই RSS-এ যোগদানের হিড়িক, উত্তরবঙ্গেই ৮ লক্ষ আবেদন

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই যোগদানে সবুজ সংকেত দিলেও বঙ্গ বিজেপি আপাতত দলের দরজা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর ঠিক এই পরিস্থিতির জেরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসে যোগদানের ভিড় উপচে পড়ছে। সম্প্রতি আয়োজিত সংঘের তিনদিনের প্রারম্ভিক শিবিরে সেই চেনা ছবিটাই আরও স্পষ্ট হয়ে ধরা দিল।

Advertisement
নতুন সরকার আসতেই RSS-এ যোগদানের হিড়িক, উত্তরবঙ্গেই ৮ লক্ষ আবেদননতুন সরকার আসতেই RSS-এ যোগদানের হিড়িক, উত্তরবঙ্গেই ৮ লক্ষ আবেদন

রাজ্যে বিজেপি সরকারের বয়স সবেমাত্র এক মাস পার হয়েছে আর এরই মধ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। তৃণমূলের সিংহভাগ সাংসদ এখন অন্য দলের খাতায় নাম লিখিয়ে ঘুরিয়ে এনডিএ জোটকে সমর্থন জানাচ্ছেন। কেবল দলের উঁচুতলাতেই এই ভাঙন সীমাবদ্ধ নেই বরং তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীরাও এখন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে বসে আছেন। তবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই যোগদানে সবুজ সংকেত দিলেও বঙ্গ বিজেপি আপাতত দলের দরজা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর ঠিক এই পরিস্থিতির জেরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসে যোগদানের ভিড় উপচে পড়ছে। সম্প্রতি আয়োজিত সংঘের তিনদিনের প্রারম্ভিক শিবিরে সেই চেনা ছবিটাই আরও স্পষ্ট হয়ে ধরা দিল।

বিজেপির এই এক মাসের শাসনকালে সংঘের সঙ্গে যুক্ত হতে কেবল অনলাইনেই রাজ্যজুড়ে ২৫ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সংঘের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে এই বিপুল আবেদনের মধ্যে শুধু উত্তরবঙ্গ থেকেই জমা পড়েছে প্রায় ৮ লক্ষ আবেদন। বিচার পরিবারের অনেকেই তাঁদের ঘরের কমবয়সিদের এই প্রশিক্ষণ শিবিরে পাঠিয়েছিলেন। তবে প্রবীণ বা মাঝবয়সিদের অনেকের পক্ষেই এই শিবিরে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি কারণ এই সমস্ত শিবিরে শারীরিক কসরত শেখানোর পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রমের বিষয় থাকে যা বয়সের ভারে সবার পক্ষে করা সম্ভব নয়। ফলে তাঁরা এখন সরাসরি সংঘের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। এই সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গেরুয়া শিবির ব্যাপক সাড়া পেয়েছে এবং সংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী উত্তরবঙ্গে এই সংখ্যাটাও ২০ হাজারের বেশি। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গ থেকে আবেদনের সংখ্যা ৮ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে।

আরএসএস সূত্রে খবর নতুন এই আগ্রহীদের নিয়ে ইতিমধ্যেই পরিচয়বর্গ শুরু করে দিয়েছে সংঘ। প্রত্যেককে নির্দিষ্ট বৈঠকে ডেকে এই পরিচয়পর্ব চালানো হচ্ছে যেখানে শাখার মাধ্যমে তাঁদের সংঘের আদর্শ সম্পর্কে অবগত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সংঘের কঠোর নিয়মনিষ্ঠা জাতীয়তাবাদী ধারণা এবং প্রচারের বিষয়গুলিও নতুনদের ভালোভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা আগামীদিনে কোন কোন কর্মসূচিতে বেশি জোর দেবেন এবং সেগুলি কীভাবে পালন করা হবে সে ব্যাপারেও স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হচ্ছে। তবে আগামীদিনে নতুন শাখা বৃদ্ধির প্রয়োজন আছে কি না সেই বিষয়ে আরএসএস সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২৮ জুন সংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। সেখানে নতুন যোগদানকারীদের চূড়ান্ত হিসেব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এই যোগদানকারীদের মধ্যে যাঁরা যে বিষয়ে পারদর্শী কিংবা যাঁদের যে বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে তাঁদের সেই বিশেষ শাখার অধীনে বা মিলনের বৈঠকে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনে নতুন শাখা খোলার প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে।

Advertisement

RSS

সংঘের ওই কর্তা আরও ব্যাখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন যে ব্যবসায়ী শিক্ষক কৃষক থেকে শুরু করে শ্রমিক এবং নানা পেশার বহু মানুষ এখন সংঘের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছেন। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে কেবল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত লোকজনকে নিয়ে আলাদা শাখা তৈরি করার চেষ্টা হবে। ঠিক একইভাবে শিক্ষক এবং প্রাতর্ভ্রমণকারীদের নিয়েও আলাদা আলাদা শাখা গঠন করা হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। অবশ্য সংঘ এখনই নতুনদের হাতে সরাসরি কোনও বড় দায়িত্ব তুলে দিতে চাইছে না। প্রথমে তাঁদের শাখায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং তারপর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দায়িত্ব বণ্টন করা হতে পারে। এরপর তো বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবির করার বিষয়ও রয়েছে।

সংঘের একাংশের স্পষ্ট দাবি কেউ যদি মনে করেন রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে বলে সংঘের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কোনও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে পারবেন তবে সেই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ সংঘ মূলত সমাজ গড়ার কারিগর এবং তারা জাতীয়তাবাদী ধারণা তৈরি করতে বদ্ধপরিকর। সেখানে মানুষের চরিত্র নির্মাণের সঙ্গে দেশ গঠনের কাজে যুক্ত থাকার শিক্ষা দেওয়া হয় এবং রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য সংঘের মঞ্চ ব্যবহার করা যায় না। সংঘের সাংগঠনিক বিচারে উত্তরবঙ্গে মোট ১২টি জেলা রয়েছে যার মধ্যে গ্রামীণ এবং শহরকেন্দ্রিক বিভিন্ন খণ্ড রয়েছে। প্রত্যেকটি জেলায় ১০ থেকে ১২টি করে এমন খণ্ড রয়েছে। সংঘের এক নেতার বক্তব্য অনুযায়ী এই সত্য মেনে নিতে কোনও অসুবিধা নেই যে সংঘে এই বিপুল ভিড়ের অন্যতম একটা বড় কারণ রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতা দখল তবে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় না এলেও সংঘের দৈনন্দিন কাজ কখনও থমকে যেত না।

 

POST A COMMENT
Advertisement