প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীBjp North Bengal News: আগামী ১৪ মার্চ কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মহাসভা। আর সেই সভাকে সফল করতে এবার উত্তরবঙ্গকেই তুরুপের তাস করতে চাইছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে খবর, শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি থেকেই অন্তত ৫০ হাজার কর্মী-সমর্থককে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াতের জন্য কোচবিহার, এনজেপি এবং মালদা থেকে ১০টি বিশেষ ট্রেনের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কয়েকশ বাসের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে বলে দাবি দলের।
একই দিনে রাজ্যে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’র সমাপ্তি ঘটবে। ফলে উত্তরবঙ্গের কর্মীদের ভিড়ের ওপর নির্ভর করেই কি ব্রিগেড ভরানোর কৌশল নিয়েছে বিজেপি? এই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহলে ঘোরাফেরা করছে। যদিও রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী এই তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সভায় ভিড় উপচে পড়বে। শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, গোটা রাজ্যের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসবেন।’ তবে অন্দরের খবর, শিলিগুড়ি থেকেই অন্তত ১০ হাজার লোক নিয়ে যাওয়ার টার্গেট দেওয়া হয়েছে আনন্দময় বর্মনদের।
উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে ৩০টিতে জয়লাভ করেছিল বিজেপি। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ঘাসফুল শিবিরকে কার্যত ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছিল গেরুয়া ঝড়। তবে গত কয়েক বছরের উপনির্বাচন এবং পঞ্চায়েত ভোটে সেই দাপট আলগা হয়েছে। সাংগঠনিক ফাটলও স্পষ্ট হয়েছে বিভিন্ন জেলায়। তাই লোকসভা ভোটের আগে মোদির ব্রিগেডকে সামনে রেখে নিজেদের হারানো জমি ও জনভিত্তি পরখ করে নিতে চাইছে বিজেপি।
৫০ হাজার লোক নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও দলের অন্দরে অস্বস্তি কম নেই। বিক্ষুব্ধ নেতাদের একাংশের দাবি, বর্তমান রথযাত্রায় কর্মীদের মধ্যে সেই উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে না। অনেক সভাতেই লোক হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে পাহাড় ও সমতলের কর্মীদের একাংশ যদি কলকাতায় না পৌঁছান, তবে অস্বস্তি বাড়বে বৈ কমবে না। যদিও মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মন আশাবাদী, মোদির জনপ্রিয়তায় ভর করেই শিলিগুড়ি থেকে লক্ষাধিক মানুষ যাওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ব্রিগেডের পর মোদি ফের কোচবিহার ও মালদায় জনসভা করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।