জলপাই রঙের টুপিতে জলদাপাড়ায় সাফারি শুভেন্দুরমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি প্রতি মাসে উত্তরবঙ্গ সফর করবেন। সেইমতো মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। চা বাগান থেকে পর্যটন, উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বড় প্রতিশ্রুতিও দেন শুভেন্দু। বিশ্ব গণ্ডার দিবসের অনুষ্ঠানে আলিপুরদুয়ার ও ডুয়ার্সকে আগামী এক বছরের মধ্যে ‘ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম ডেস্টিনেশন’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের হলং পিলখানাতেও যান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে গণেশ পুজোয় অংশ নেন এবং হাতিদের প্রসাদ খাওয়ান। পাশাপাশি, দুটি হাতিশাবকের নামও রাখেন মুখ্যমন্ত্রী।
২ হস্তিশাবকের নামকরণ
জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে দুই হস্তিশাবকের নামকরণও করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুই বছরের স্ত্রী হাতিশাবকের নাম রাখা হয় ‘সুলক্ষণা’ এবং এক বছরের পুরুষ হাতিশাবকের নাম দেওয়া হয় ‘চৈতন্য’।
#WATCH | Alipurduar: West Bengal Chief Minister Suvendu Adhikari participates in the World Rhino Day observance and conducts a field inspection at the Jaldapara National Park.
— ANI (@ANI) September 22, 2026
(Source: CMO) pic.twitter.com/URgaDZrFVG
কেন এই নামকরণ?
একথা নিজেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানান, নামকরণ করার বিশেষ পদ্ধতি আছে। সেটা মেনেই নাম রেখেছেন তিনি। মূলত শাবকের বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে মিল রেখে বনকর্মীরা যা পরামর্শ দিয়েছেন, সেইমতোই নামকরণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, 'পরম্পরা ও বনের আধিকারিকদের পরামর্শ নিয়েই নাম রেখেছি। আপনারা কি অন্য কিছুর গন্ধ পাচ্ছেন এতে?' তিনি জানান, বাবা মায়ের নামের সঙ্গে মিল রেখে হস্তিশাবকদের নামকরণ করতে হয়। তাই পরম্পরা ও বন আধিকারিকদের পরামর্শ মেনে এই নামকরণ করা হয়েছে। শুভেন্দু আরও জানান, তিনি উত্তরবঙ্গের প্রতি কমিটেড। মাসে ২ বার করে আসবেন।
হলং বাংলো নিয়ে প্রতিশ্রুতি
মঙ্গলবার জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বনদপ্তরের আধিকারিকরা বেশ কয়েকটি নামের তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন। তার মধ্যে থেকে এই দুটি নাম বেছে নেন তিনি। শুভেন্দু আরও জানান, জলদাপাড়ায় এসে সব পেয়েছেন তিনি। গণ্ডার দিবসের দিন গণ্ডারের দেখা পেয়েছেন। মন্ত্রী মনোজ ওরাওঁয়ের কাজের প্রশংসাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। মার্চের মধ্যে হলং বাংলোর কাজ শেষ হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। জলদাপাড়ার জঙ্গল থেকে বেড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'আগামী মার্চের মধ্যে হলং বনবাংলো নির্মাণের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। জলদাপাড়ার জঙ্গলে সব দেখে ফেলেছি। বাচ্চা সহ গণ্ডার, বাইসন দেখেছি। বনাঞ্চলে খুব ভালো কাজ হচ্ছে। এখানে আধিকারিকরাও খুব ভালো কাজ করছেন। ভেতরে গণপতি পুজো করেছি। দুই শাবক হাতির নাম রেখেছি। তাদের বাবা মায়ের নাম অনুযায়ী পরম্পরা বজায় রেখে নাম রাখা হয়েছে।’
২ অক্টোবর বক্সায় মুখ্যমন্ত্রী
শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘আগামী ২ অক্টোবর বক্সাতে বাঘ ছাড়া হবে । ওই দিন আমি ও কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব দুইজনই উপস্থিত থাকব।’ জানা গিয়েছে বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে একটি একটি বাঘিনী এনে বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে ছাড়বে বনদফতর। ওই দিন আলিপুরদুয়ার শহরের প্যারেড গ্রাউন্ডে এই সরকারি অনুষ্ঠান হবে। ওই অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ ছাড়াও অন্যান্য মন্ত্রী আমলারা উপস্থিত থাকবেন।
ওই গাছের নাম রাখা হয়েছে
চোরাশিকারিদের বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু। বিশ্ব গণ্ডার দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচি ছিল বাজেয়াপ্ত বন্যপ্রাণীর দেহাংশ ধ্বংস । বন দফতরের তরফে চোরাশিকার ও অবৈধ পাচারের বিভিন্ন অভিযানে বাজেয়াপ্ত সামগ্রী ধ্বংস করা হয় । এর মধ্যে ছিল গণ্ডারের শিং-সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর দেহাংশ । প্রায় ১৪২ কেজি এমন সামগ্রী ধ্বংস করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয় । বন দফতর আগেই জানিয়েছিল, এই ধরনের সামগ্রী প্রকাশ্যে ধ্বংস করার উদ্দেশ্য চোরাশিকার ও বন্যপ্রাণীর দেহাংশের অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেওয়া। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেও উঠে আসে সেই প্রসঙ্গ । চোরাশিকারিদের হাত থেকে বন্যপ্রাণীকে রক্ষা করতে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে জানান তিনি । বাজেয়াপ্ত বন্যপ্রাণীর দেহাংশ যাতে ফের কোনও অবৈধ বাণিজ্যের কাজে ব্যবহার করা না যায়, তার জন্য সেগুলি নষ্ট করে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি ।