কোচবিহারে TMC-তে বড় ভাঙন, দল ছেড়ে কংগ্রেসে রবি ঘোষের ছায়াসঙ্গীCoochbehar TMC Congress: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে কোচবিহারে বড়সড় ধাক্কা খেল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের আদি লড়াকু মুখ তথা কিষাণ খেত মজদুর সংগঠনের জেলা সভাপতি খোকন মিঁয়া শনিবার ঘাসফুল ছেড়ে যোগ দিলেন জাতীয় কংগ্রেসে। কোচবিহারের বর্ষীয়ান নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ‘ছায়াসঙ্গী’ হিসেবে পরিচিত খোকন মিঁয়ার এই দলবদল জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ এক ধাক্কায় অনেকটাই বদলে দিল। এদিন জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে দলের বিশেষ পর্যবেক্ষক ধীরাজপ্রসাদ সাহুর হাত থেকে তেরঙা পতাকা তুলে নেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সূত্রের খবর, কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের বাজি হতে চলেছেন এই সংখ্যালঘু নেতাই।
দলের পুরোনো কর্মীদের ‘ব্রাত্য’ করে দেওয়ার অভিযোগে এদিন খোদ তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধেই সুর চড়িয়েছেন খোকন মিঁয়া। তাঁর অভিযোগ, ১৯৯৮ থেকে দলের কঠিন সময়ে যাঁরা পাশে ছিলেন, আজ তাঁদের কোনও দাম নেই। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বা বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের মতো প্রতিষ্ঠাতারা টিকিট না পাওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “১৯৯৮ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত যুব তৃণমূল সামলেছি। সেই সময়কার দিদি আর এখনকার দিদির মধ্যে কোনও মিল খুঁজে পাচ্ছি না। কোনও কর্পোরেট হাউজ কি কন্ট্রাক্ট নিয়ে দলটা চালাচ্ছে?” আবেগতাড়িত খোকনের দাবি, নিজের পুরনো ঘর কংগ্রেসেই তিনি ফিরে গেলেন।
তৃণমূলের অন্দরে এই ভাঙন নিয়ে দলের জেলা সহ-সভাপতি আব্দুল জলিল আহমেদ স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ক্ষোভ তাঁরও রয়েছে। তবে তিনি দল ছাড়বেন না বলে জানালেও, খোকনকে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, খোকন মিঁয়ার ‘মেন্টর’ রবীন্দ্রনাথ ঘোষের গলায় ঝরে পড়েছে আফসোসের সুর। তিনি সাফ জানিয়েছেন, খোকন দলের সম্পদ ছিল এবং তাঁর চলে যাওয়ায় সাংগঠনিকভাবে তৃণমূলের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের এই বড় মুখ হাত শিবিরে যাওয়ায় কোচবিহার দক্ষিণে শাসকদলের অস্বস্তি যে কয়েক গুণ বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।