
Witch Hunting Murder West Bengal: ডাইনি অপবাদে ফের প্রাণ গেল এক বৃদ্ধার। নাতির হাতেই পিটিয়ে খুন হলেন ৬৯ বছরের লক্ষ্মী সরেন। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের রামকৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মামুদপুর গ্রামে। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত নাতি সঞ্জয় টুডু (২১) এবং তাঁর শাশুড়ি মিঠুন সরেনকে (৫০) গ্রেফতার করেছে। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ঘটনাটি নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বার্ধক্যজনিত কারণে লক্ষ্মী সরেন শারীরিক ভাবে দুর্বল ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর নাতনির অসুস্থতার জন্য তাঁকেই দায়ী করে আসছিল গ্রামের একাংশ। অভিযোগ, নাবালিকা সোনুমি টুডু (১৬) অসুস্থ হওয়ায় লক্ষ্মী সরেনের বিরুদ্ধে ডাইনি অপবাদ দেওয়া হচ্ছিল।
শনিবার এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে গ্রামে সালিশি সভা বসে। ডাইনি অপবাদ কাটানোর নামে ডেকে আনা হয় ওঝা। অভিযোগ, এর জন্য মৃতার ছেলে মঙ্গলু টুডুকে প্রায় সাত হাজার টাকা দিতে হয়। সাময়িক ভাবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও রবিবার রাতে ফের অশান্তি শুরু হয়।
রবিবার রাতে ফের অসুস্থ হয়ে পড়ে নাবালিকা সোনুমি। পরিবারের দাবি, সে জানায়, স্বপ্নে দেখেছে তার দিদিমা তাকে গলা টিপে মারার চেষ্টা করছে। এই কথা শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে দাদা সঞ্জয় টুডু। অভিযোগ, এরপর ইট, পাথর ও হাসুয়া নিয়ে লক্ষ্মী সরেনের উপর হামলা চালানো হয়।
মায়ের উপর হামলা হতে দেখে ছেলে মঙ্গলু টুডু বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধরের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে বিষয়টি জানান তিনি। খবর পেয়ে গ্রামবাসীরা এসে রক্তাক্ত অবস্থায় লক্ষ্মী সরেনকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কুমারগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সোমবার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠায়।
এই ঘটনায় মৃতার ছেলে মঙ্গলু টুডু কুমারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তদের পরিবারের আরও সদস্য এবং গ্রামের কয়েকজন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।