দার্জিলিঙে পর্যটকদের বাসের কাচ ভাঙল স্থানীয়রা, আতঙ্কে পর্যটকরাDarjeeling Tourist Bus Vandalism: ফের ঘটল দার্জিলিং পাহাড়ে ফের পর্যটকদের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা। রবিবার গভীর রাতে জোড়বাংলোয় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্যুরিস্ট বাসে আচমকাই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। সোমবার গাড়ির চালক উত্তম রায় থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নেমেছে জোড়বাংলো থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’জন দুষ্কৃতী একটি ছোট গাড়িতে চড়ে এসে বাসটিকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে যায় সামনে ও পাশের কাচ। চালক জানিয়েছেন, কলকাতা থেকে পর্যটকদের নিয়ে কালিম্পং ঘুরে দার্জিলিংয়ে পৌঁছেছিল দলটি। রাতের জন্য একটি হোটেলে ওঠানো হয় পর্যটকদের। কিন্তু পার্কিং না পেয়ে গাড়ি ঘোরাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি।
চালক প্রথমে লেবংয়ে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। অভিযোগ, সেখানে স্থানীয়রা আপত্তি জানায়। বিকল্প খুঁজতে চালক গাড়ি নিয়ে জোড়বাংলোয় বন দফতরের একটি অফিসের সামনে যান। সেখানে গাড়ি দাঁড় করাতেই কিছুক্ষণ পরে ঘটে হামলা। পর্যটকরা সেসময় বাসের বাইরে না থাকায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো গেছে।
গত কয়েক মাস ধরেই পাহাড়ে পরিবহণ সংক্রান্ত টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। স্থানীয় চালকদের দাবি, পাহাড়ি এলাকায় শুধুমাত্র স্থানীয় গাড়িচালকরাই পর্যটকদের ঘুরিয়ে নিয়ে যাবে। এই দাবির জেরে একাধিকবার অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানায়, ১৬ জানুয়ারির পরে দুই পক্ষের মধ্যে সমাধানসূত্র খুঁজে বের করা হবে। কিন্তু তার পরও থামছে না ভাঙচুর।
এর আগে লেবং এলাকায় এক রাতে চারটি গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। পর্যটন মরশুমে এমন ঘটনা বারবার ঘটায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে চালকদের মধ্যে। হোটেল ব্যবসা ও ট্যুর অপারেটররাও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। তাদের দাবি, নিয়মিত ভাঙচুর চলতে থাকলে পাহাড়ের পর্যটন শিল্প বড়সড় ধাক্কা খাবে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল জানান, “আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত সমস্যার সমাধান করুক। অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিনিয়ত হামলার ঘটনা হলে বিকল্প ভাবতেই হবে।” তাঁর কথায় হোটেল, গাইড, যানবাহনের উপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৪ তারিখ ঘুম মনাস্ট্রির কাছে আরও একবার পর্যটকবাহী গাড়িকে ঘিরে ধরার অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পর্যটক নামাতেই আপত্তি জানায় এবং গাড়ি ভাঙচুরের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত পর্যটকদের নামানো সম্ভব হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।