২৫০কোটি টাকার জিএসটি জালিয়াতি? শিলিগুড়িতে ‘সুপারি ব্যবসায়ী’র বাড়িতে DGGI-র হানা

এদিন সকাল থেকেই শহর সংলগ্ন উত্তরায়ণ টাউনশিপে থাকা ব্যবসায়ীর বিলাসবহুল বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেন আধিকারিকরা। একই সঙ্গে সেবক রোডে অবস্থিত তাঁর সোনার দোকানেও অভিযান চালানো হয়। প্রায় আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এই ম্যারাথন তল্লাশি।

Advertisement
২৫০কোটি টাকার জিএসটি জালিয়াতি? শিলিগুড়িতে ‘সুপারি ব্যবসায়ী’র বাড়িতে DGGI-র হানাশিলিগুড়ির GST কেলেঙ্কারি

সুপারি ব্যবসার আড়ালে প্রায় আড়াইশো কোটি টাকার জিএসটি কারচুপির অভিযোগে শিলিগুড়িতে বড়সড় তল্লাশি অভিযান চালাল ডাইরেক্টরেট জেনারেল অফ জিএসটি ইন্টেলিজেন্স (DGGI)। তদন্তকারী সংস্থার একটি বিশেষ দল শহর এবং শহর সংলগ্ন এলাকায় পরিচিত ব্যবসায়ী নারায়ণ আগরওয়ালের একাধিক ঠিকানায় আচমকা হানা দেয়।

সূত্রের খবর, এদিন সকাল থেকেই শহর সংলগ্ন উত্তরায়ণ টাউনশিপে থাকা ব্যবসায়ীর বিলাসবহুল বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেন আধিকারিকরা। একই সঙ্গে সেবক রোডে অবস্থিত তাঁর সোনার দোকানেও অভিযান চালানো হয়। প্রায় আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এই ম্যারাথন তল্লাশি।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, উত্তরায়ণের বাড়ি থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে ব্যবসায়ীর পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। অভিযানের সময় নারায়ণ আগরওয়াল বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানা গেছে।

অন্যদিকে, গোটা অভিযান নিয়ে ডিজিজিআই-এর তরফেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি (ইস্ট) রাকেশ সিং জানিয়েছেন, এই তল্লাশি অভিযান সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশকে আগে থেকে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।

শহরের ব্যবসায়ী মহলে নারায়ণ আগরওয়াল ‘সুপারি কিং’ হিসেবেই পরিচিত। একসময় নকশালবাড়িতে থাকলেও গত কয়েক বছর ধরে তিনি উত্তরায়ণ টাউনশিপে একটি বিলাসবহুল বাড়িতে বসবাস করছেন। সুপারি ব্যবসার পাশাপাশি সেবক রোডে তাঁর একটি সোনার দোকান রয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন বড় নির্মাণ প্রকল্পেও তিনি বিনিয়োগ করেন বলে জানা যায়।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল সাতটা নাগাদ প্রথমে ডিজিজিআই-এর একটি দল উত্তরায়ণের বাড়িতে পৌঁছায় এবং তল্লাশি শুরু করে। পরে সকাল সাড়ে আটটার দিকে আরও তিনটি গাড়িতে করে আরও তিনটি দল সেখানে আসে। চারটি দল মিলে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানোর পর একটি দল সেবক রোডের সোনার দোকানে যায় এবং সেখানে দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালায়।

অন্যদিকে বাকি তিনটি দল বিকেল প্রায় তিনটা পর্যন্ত উত্তরায়ণের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। পরে সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করে তারা বেরিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

ডিজিজিআই সূত্রে খবর, চলতি বছরের শুরুতে জিএসটি ফাঁকির একটি বড় চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরে মিরাট থেকে সঞ্জিত কুমার, শিবম ত্রিবেদী এবং দিলীপকুমার ঝা নামে তিন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, এই চক্র ভুয়ো ইনভয়েস তৈরি করে বিপুল পরিমাণ সুপারি সরবরাহের মাধ্যমে জিএসটি ফাঁকি দিচ্ছিল।

তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, কাগজে-কলমে খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছে সুপারি বিক্রির কথা দেখানো হলেও বাস্তবে সেই পণ্য বড় বড় পানমশলা নির্মাতা সংস্থাগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়া হত। এই জালিয়াতি চক্রের তদন্তে নারায়ণ আগরওয়ালের নাম সামনে আসার পরই তাঁর বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়।

 

POST A COMMENT
Advertisement