CAA-তে নাগরিকত্ব পেলেন মালদার সত্যরঞ্জন, বললেন, 'প্ররোচনায় পা দেবেন না'

সত্যরঞ্জন বারুই জানান, “আমি আগস্টে আবেদন করেছিলাম। সেপ্টেম্বর মাসে হিয়ারিং হয়। জানুয়ারিতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছি। আরও অনেকেই CAA-তে আবেদন করেছেন। আমার বিশ্বাস, তাঁরাও ধীরে ধীরে নাগরিকত্ব পাবেন।”

Advertisement
CAA-তে নাগরিকত্ব পেলেন মালদার সত্যরঞ্জন, বললেন, 'প্ররোচনায় পা দেবেন না'সত্যরঞ্জন বারুই

SIR ঘিরে যখন চারদিকে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার আবহ, ঠিক সেই সময় মালদহের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় মিলল স্বস্তির খবর। হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বামনগোলা থানার চাঁদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভুল্কিমারি গ্রামের বাসিন্দা সত্যরঞ্জন বারুই অবশেষে হাতে পেলেন ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র।

জানা গিয়েছে, ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশের গোপালনগর এলাকা থেকে ভারতে আসেন সত্যরঞ্জন বারুই। দীর্ঘদিন ধরে ভারতেই বসবাস করার পর গত বছরের আগস্ট মাসে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আওতায় আবেদন করেন তিনি। সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর শুনানি হয় এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট পান।

সত্যরঞ্জন বারুই জানান, “আমি আগস্টে আবেদন করেছিলাম। সেপ্টেম্বর মাসে হিয়ারিং হয়। জানুয়ারিতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছি। আরও অনেকেই CAA-তে আবেদন করেছেন। আমার বিশ্বাস, তাঁরাও ধীরে ধীরে নাগরিকত্ব পাবেন।”

Satyaranjan Barui

এই খবরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। হবিবপুরের বিজেপি বিধায়ক জুয়েল মুর্মু সত্যরঞ্জন বারুইয়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। ফুলের মালা দিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানান বিধায়ক। জুয়েল মুর্মু বলেন, “তৃণমূল সরকার CAA নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে গ্যারান্টি দিয়েছিলেন, আজ তা বাস্তবে প্রমাণিত হচ্ছে। CAA-তে আবেদন করলে নাগরিকত্ব মিলছে—সত্যরঞ্জন তার উদাহরণ।”

অন্যদিকে, মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, “আমরা কখনও SIR-এর বিরোধিতা করিনি, আমরা এর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ছিলাম। আজ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নির্বাচন কমিশন বড় ধাক্কা খেয়েছে। একজন CAA সার্টিফিকেট পেলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। বহু মানুষ আবেদন করেছেন, তাঁরা আদৌ নাগরিকত্ব পাবেন কি না, সেটাই দেখার বিষয়।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মুখ্যমন্ত্রী হবেন।

CAA ও SIR ঘিরে রাজনৈতিক তরজা চললেও, সীমান্ত এলাকার বহু মানুষের কাছে সত্যরঞ্জন বারুইয়ের নাগরিকত্ব পাওয়া আপাতত আশার আলো বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement