কাঁটাতার পেরিয়ে ধূপগুড়িতে বিয়ে বাংলাদেশি যুবকের, পাকযোগে গ্রেফতার করল কেরল পুলিশBangladeshi Arrest At Dhupguri: পাকিস্তানের সঙ্গে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং বেআইনিভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে পাকড়াও করা হয়েছে আলিফ ইসলাম নামে এক যুবককে। ধৃত যুবককে সঙ্গে নিয়ে সোমবার ধূপগুড়ির বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাল কেরল পুলিশের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল। এই ঘটনায় উত্তরবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তা ও বিদেশি চরদের জাল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত আলিফ ইসলাম আদতে বাংলাদেশের লালমণিরহাটের বাসিন্দা। বছর চারেক আগে প্রেমিকা মৌসুমী পারভিনের টানে কাঁটাতার টপকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন তিনি। ধূপগুড়ির ভেমটিয়া এলাকার বাসিন্দা এজাজুল ইসলামকে নিজের ‘বাবা’ পরিচয় দিয়ে মৌসুমীকে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে থাকতে শুরু করেন। নির্মাণ শ্রমিকের কাজের সূত্রে গত দু’বছর ধরে কেরলে যাতায়াত ছিল তাঁর। কেরল পুলিশের দাবি, গুজরাট থেকে গ্রেফতার হওয়া চার যুবকের বয়ান ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আলিফের খোঁজ মেলে। তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তানে সন্দেহজনকভাবে টাকা লেনদেনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
আলিফ অবশ্য পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, তিনি নির্দোষ। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, এক বন্ধুর জরুরি প্রয়োজনে তিনি নিজের মোবাইলটি দিয়েছিলেন এবং ওই বন্ধুই হয়তো অ্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানে কারও সঙ্গে লেনদেন করেছেন। তবে পুলিশ এই তত্ত্বে কর্ণপাত করছে না। সোমবার ধূপগুড়ি থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারী আধিকারিক ইরান্না শিরাগুম্পি ধৃতকে তাঁর শ্বশুরবাড়ি ও ‘নকল বাবা’ এজাজুলের বাড়িতে নিয়ে যান।
সাতসকালে গ্রামে পুলিশের গাড়ি দেখে হইচই পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু গাড়ির ভেতর থেকে হাতকড়া পরা অবস্থায় যখন ‘গ্রামের জামাই’কে নামতে দেখা গেল, তখন বিস্ময়ের সীমা রইল না ধূপগুড়ির ভেমটিয়া এলাকার বাসিন্দাদের। আলিফের স্ত্রী মৌসুমীর দাবি, তাঁর স্বামী ষড়যন্ত্রের শিকার। কিন্তু গ্রামবাসীরা যখন জানতে পারেন যে তাঁদের পরিচিত ‘জামাই’ আসলে এক বাংলাদেশি নাগরিক এবং তাঁর বিরুদ্ধে চরবৃত্তির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তখন এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। বর্তমানে ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে কেরলে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।