Dinhata TMC Leader Attacked: দিনহাটায় তৃণমূল নেতার বাড়ি পুড়িয়ে দিল উত্তেজিত জনতা, ভাঙচুর আরেক নেতার বাড়িকোচবিহারের দিনহাটায় রাজনৈতিক হিংসা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হলো এক রাতের তুমুল অশান্তিতে। পুটিমারি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের খারিজা বালাকুড়া এলাকায় শুক্রবার গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতী ব্যাপক তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই এলাকার প্রাক্তন প্রধান তথা তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা রফিকুল হক এবং তাঁর স্ত্রী শাহানারা পারভিনের বাড়ি লক্ষ্য করে একের পর এক বোমা ছোঁড়া হয়। শাহানারা পারভিন ওই এলাকার বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্য।
বোমাবাজির তীব্র শব্দে মাঝরাতে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা এবং আতঙ্কিত বাসিন্দারা ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। অভিযোগ বোমা মারার পর দুষ্কৃতীরা ওই তৃণমূল নেতার বাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো বাড়িকে গ্রাস করে এবং ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র ও মূল্যবান নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
একই রাতে দুষ্কৃতীদের হাত থেকে রেহাই পাননি ওই এলাকার আর এক পঞ্চায়েত সদস্য জাকির হোসেন। তাঁর বাড়িতেও গভীর রাতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ মিলেছে। পরপর দুই জনপ্রতিনিধির বাড়িতে এই ধরণের পরিকল্পিত হামলায় দিনহাটার রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই রফিকুল হক ও তাঁর স্ত্রী শাহানারা পারভিন এলাকায় থাকতেন না। সেই সুযোগেই এই হামলা চালানো হয়েছে কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানাবিধ জল্পনা তৈরি হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার জের নাকি গভীর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী এবং পুলিশ। দমকল কর্মীরা দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে বাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনার সাথে যুক্ত কাউকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি এবং দুষ্কৃতীদের খোঁজে এলাকায় জোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার পর থেকে গোটা পুটিমারি এলাকা জুড়ে চরম উত্তেজনা, আতঙ্ক এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে।
একই রাতে ওই এলাকার আর এক পঞ্চায়েত সদস্য জাকির হোসেনের বাড়িতেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরপর দুই জনপ্রতিনিধির বাড়িতে এই হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময় থেকেই রফিকুল হক ও তাঁর স্ত্রী এলাকায় থাকছেন না। এই ঘটনার পেছনে পুরনো শত্রুতা নাকি স্থানীয় রাজনৈতিক রেষারেষি, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।