Dooars Illegal Resorts Registration List: পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো রিসর্ট, ব্যবস্থা নিতে তথ্য় চেয়ে পাঠাচ্ছে রাজ্য

Dooars Illegal Resorts Registration List: বেআইনি রিসর্টগুলির আয়ের উৎস এবং বৈধ নথিপত্র খতিয়ে দেখতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামল রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকে ডুয়ার্সের একাধিক এলাকায় থাকা রিসর্টগুলিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনকে চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে এবং কোথাও নথিতে সামান্যতম অসঙ্গতি পেলেই কড়া পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

Advertisement
পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো রিসর্ট, ব্যবস্থা নিতে তথ্য় চেয়ে পাঠাচ্ছে রাজ্যDooars Illegal Resorts Registration List: পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো রিসর্ট, ব্যবস্থা নিতে তথ্য় চেয়ে পাঠাচ্ছে রাজ্য (প্রতীকী ছবি)

Dooars Illegal Resorts Registration List: নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই গত ১০-১৫ বছরে ডুয়ার্স জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে একের পর এক বেসরকারি রিসর্ট। এবার সেই বেআইনি রিসর্টগুলির আয়ের উৎস এবং বৈধ নথিপত্র খতিয়ে দেখতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামল রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকে ডুয়ার্সের একাধিক এলাকায় থাকা রিসর্টগুলিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনকে চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে এবং কোথাও নথিতে সামান্যতম অসঙ্গতি পেলেই কড়া পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

জলপাইগুড়ির ওদলাবাড়ি এলাকার মানাবাড়িতে গ্রামীণ এলাকায় থাকা একটি রিসর্টকে কেন্দ্র করে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখার তরফে জুনের শেষে ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতকে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে যে ওই রিসর্টটি কবে কীভাবে এবং কার কাছ থেকে কেনা হয়েছে। অন্য দিকে মেটেলি থানার গোয়ালডাঙা গ্রামে কুর্তি নদীর ধারে খাসজমির ওপর বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা একটি রিসর্টের দরজায় শনিবার নোটিস ঝুলিয়ে দিয়েছে মালবাজার মহকুমা প্রশাসন যেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছে যে আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে জমি খালি না করলে সেটি ভেঙে ফেলা হবে এবং মহকুমাশাসক উৎকর্ষ খান্ডাল জানিয়েছেন যে স্থানীয় স্তরের অভিযোগ খতিয়ে দেখেই খাসজমিতে তৈরি ওই রিসর্ট সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা গেছে যে বর্তমানে ডুয়ার্সে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১২০০টি রিসর্ট রয়েছে যার সিংহভাগই তৃণমূল আমলে তৈরি হয়েছে বলে সুর চড়িয়েছে বিজেপি। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী এই নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ করেছেন যে সমস্ত নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক মানুষদের বোকা বানিয়ে তৃণমূলের মন্ত্রী নেতা এবং তাঁদের আত্মীয়রা এই রিসর্টগুলি বানিয়েছেন তবে তাঁদের সরকার কাউকেই রেয়াত করবে না।

যদিও রাজ্য সরকার বেআইনি পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথা বলছে কিন্তু ডুয়ার্সের এক লক্ষেরও বেশি মানুষের জীবন জীবিকা এই রিসর্টগুলির ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই অভিযানের জেরে তাদের রুটি রুজিতে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেমন মালবাজারের বাসিন্দা অমল ওরাওঁ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে তিনি একটি রিসর্টের কিচেনে কাজ করেন এবং রিসর্ট বন্ধ হয়ে গেলে তিনি খাবেন কী তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

Advertisement

এই চরম ডামাডোলের আবহে লাটাগুড়ি রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পার্থ রায় অবশ্য সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে নির্দিষ্ট প্ল্যান পাস না করিয়ে বেআইনিভাবে যেসব রিসর্ট তৈরি হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার বা প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নিলে তাদের কিছুই বলার নেই এবং কোনও অবৈধ কাজের পাশে তাঁদের সংগঠন দাঁড়াবে না। তিনি আরও জানান যে ডুয়ার্সের অনেক রিসর্টই আসলে পাট্টা জমিতে গড়ে উঠেছে যার মালিকরা ইতিমধ্যেই সেগুলিকে কমার্শিয়াল বা বাণিজ্যিক করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন এবং সেই আর্জি বর্তমানে নবান্নের বিবেচনার পর্যায়ে রয়েছে।

সরকারি এই কড়া মনোভাবের পাশাপাশি পাহাড়ে লাগাতার বৃষ্টির জেরে মূর্তি নদীতে ব্যাপক ভাঙন শুরু হওয়ায় এবং নদীর চরে বেআইনি রিসর্ট তৈরির বিরুদ্ধে বিজেপি সরব হওয়ায় ডুয়ার্সের সমস্ত হোম স্টে ও রিসর্ট মালিকদের কপালে এখন আশঙ্কার ভাঁজ পড়েছে এবং কোন কোন হোম স্টে কারা চালাচ্ছে তা জানতে খোদ পুলিশ প্রশাসনও ময়দানে নেমে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।

 

POST A COMMENT
Advertisement