
Mirik Road Balasan River Bridge Open: দুধিয়ায় তৈরি হল অস্থায়ী সেতু, ৩ সপ্তাহ পর ফের সোজাপথে মিরিক যাতায়াত শুরু আজMirik Road Balasan River Bridge Open: জলের তোড়ে ভেসে যাওয়া সেতুর তিন সপ্তাহ পর অবশেষে স্বস্তির খবর। দুধিয়ায় বালাসন নদীর উপর তৈরি নতুন বেইলি ব্রিজ বৃহস্পতিবার থেকে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শেষ করতে প্রায় ১৯ দিন সময় লাগে। বুধবার কলকাতা থেকে ভার্চুয়ালি এই বেইলি ব্রিজের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ব্রিজ দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়। প্রশাসনের দাবি, নতুন বেইলি ব্রিজটি আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তপোক্ত ও নিরাপদ। স্থায়ী সেতুর কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ব্রিজ দিয়েই সমস্ত যান চলাচল হবে। সেনাবাহিনীর উদ্যোগেই এই বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্থায়ী সেতু তৈরি হয়ে গেলে তিনি নিজে দুধিয়ায় এসে তার উদ্বোধন করবেন।
মুখ্যমন্ত্রী এ দিন আরও জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে পাহাড়ে আধুনিক সরঞ্জাম সহ ৫০ সদস্যের একটি স্থায়ী সিভিল ডিফেন্স দল মোতায়েন করা হবে। এই দলটি পাহাড়ের যে কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং দমকল বাহিনীর সঙ্গে উদ্ধার কাজে অংশ নেবে।
গত ১৯ জুন টানা ভারী বৃষ্টির জেরে বালাসন নদীর উপর রাজ্য সরকারের তৈরি ডাইভারশন সেতু ভেসে যায়। ফলে মিরিকের বাসিন্দা এবং পর্যটকদের দীর্ঘ ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছিল। যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করতে রাজ্য সরকার সেনাবাহিনীর সাহায্য চায়। সেনাবাহিনী মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে একটি ফুটওভার ব্রিজ তৈরি করে দেয়। সেই সেতু দিয়ে মানুষ হেঁটে পারাপার করতে পারলেও কোনও যানবাহন চলাচল সম্ভব ছিল না। নতুন বেইলি ব্রিজ চালু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের দীর্ঘদিনের সমস্যার অবসান হল।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর মাসে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় সেনাবাহিনীর তৈরি আগের বেইলি ব্রিজ ভেঙে বালাসন নদীতে তলিয়ে যায়। এর জেরে শিলিগুড়ি এবং মিরিকের মধ্যে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর রাজ্য সরকার দুধিয়ায় স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে। পাশাপাশি যান চলাচল চালু রাখতে একটি অস্থায়ী ডাইভারশন সেতুও তৈরি করা হয়। কিন্তু চলতি বছরের জুন মাসে বর্ষার শুরুতেই মাত্র আট মাসের মধ্যে সেই ডাইভারশন সেতুও বালাসনের জলে ভেসে যায়। তারপরই সেনাবাহিনী দ্রুত নতুন বেইলি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী সেতুর কাজ আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই শেষ হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সিভিল ডিফেন্সের অধীনে বিশেষ অগ্নিবীর বাহিনী গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এই প্রকল্পে কলকাতায় ১০০ সদস্যের একটি ইউনিট, সুন্দরবন ও সাগরদ্বীপ এলাকায় ৫০ সদস্যের একটি ইউনিট এবং দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াংকে নিয়ে পাহাড়ি এলাকায় আরও একটি বড় ইউনিট স্থায়ীভাবে মোতায়েন করা হবে।
অন্যদিকে চলতি মাসে উত্তরবঙ্গ এবং সিকিমে টানা ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। অতিবৃষ্টির জেরে সিকিমের বরদাম এলাকায় ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধস সরিয়ে আপাতত যান চলাচল শুরু হলেও জাতীয় সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগম স্থায়ী মেরামতির কাজ শুরু করবে। সেই কারণে ১০ জুলাই থেকে প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত সমস্ত ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে ওই সময়ে জরুরি পরিষেবার গাড়ি এবং নিত্যযাত্রীদের জন্য ৭১৭ এ সড়ককে বিকল্প রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।